
সিলেটের জৈন্তাপুরে এক শিশুকে ঘরে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় এজাহারনামীয় একমাত্র পলাতক আসামি মোঃ জসিম উদ্দিনকে (৩৫) গ্রেফতার করেছে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৯)। ঘটনার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে র্যাবের একটি আভিযানিক দল দক্ষিণ সুরমা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
রোববার ২৬ জুলাই সন্ধ্যায় র্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে, এম, শহিদুল ইসলাম সোহাগ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেফতারকৃত জসিম উদ্দিন সিলেট জেলার জৈন্তাপুর থানার ছৈলাখেল গ্রামের মৃত আব্দুল মালিক বলনের ছেলে।
মামলার এজাহার ও র্যাব সূত্রে জানা যায়, জৈন্তাপুর থানার আগফৌদ এলাকার বাসিন্দা বাদী মরিয়ম বেগম (৩৫) এর স্বামী ওমান প্রবাসী। প্রায় তিন মাস পূর্বে বিবাদী জসিম উদ্দিনের ফার্নিচারের দোকান থেকে ১৫ হাজার টাকায় একটি খাট ক্রয় করেন তিনি। এ সময় নগদ ১০ হাজার টাকা পরিশোধ করে বাকি ৫ হাজার টাকা পরে দেওয়ার কথা জানান। উক্ত পাওনা টাকার অজুহাতে জসিম প্রায়ই বাদীর বাড়িতে যাতায়াত করতেন।
গত ২৪ জুলাই ২০২৬ সকাল আনুমানিক ১১টা ২৫ মিনিটে বাদী তাঁর দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে প্রতিবেশী ওসমান আলীর টিউবওয়েলে খাবার পানি আনতে যান। এই সুযোগে সকাল সাড়ে ১১ টায় দিকে জসিম বাদীর বাড়িতে উপস্থিত হয়ে তাঁর বড় মেয়েকে কৌশলে বাইরে পাঠায়। এরপর বাদীর ছোট মেয়েকে (ভিকটিম) ঘরে একা পেয়ে জসিম জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ সময় শিশুটির চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত জসিম কৌশলে দৌড়ে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে সিলেট জেলার জৈন্তাপুর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-২৩, ধারা- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত/২০২৫) এর ৯(৪)(খ))। ঘটনাটি নিয়ে র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে।
এরই ধারাবাহিকতায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২৬ জুলাই ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ৬.টা ২০ মিনিটের সময় র্যাব-৯, সিপিএসসি সিলেটের একটি আভিযানিক দল সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা থানাধীন চন্ডিপুল গোল চত্বর এলাকায় অভিযান চালিয়ে পলাতক আসামি জসিম উদ্দিনকে গ্রেফতার করে।
র্যাব-৯ জানায়, পরবর্তীতে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতারকৃত আসামিকে জৈন্তাপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্টাফ রিপোর্টার 

















