
চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা কার্যকর, কুরমা চা বাগানের চার সপ্তাহের বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধ এবং বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার কুরমা চা বাগানে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার(২২ জুলাই) উপজেলার সীমান্তবর্তী ইসলামপুর ইউনিয়নের কুরমা চা বাগানে সাধারণ চা শ্রমিক ও ছাত্র-যুবকদের ব্যানারে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন বিভাগের শ্রমিক প্রতিনিধি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, জাতীয় সংসদে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব উত্থাপিত হলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে শ্রমিকদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা অবিলম্বে ৫০০ টাকা দৈনিক মজুরি কার্যকরের দাবি জানান।
বক্তারা বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বর্তমান মজুরিতে শ্রমিকদের জীবনযাপন ক্রমেই দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। শিক্ষা, চিকিৎসা ও পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণে তারা হিমশিম খাচ্ছেন। অন্যদিকে কুরমা চা বাগানে টানা চার সপ্তাহ ধরে মজুরি বন্ধ থাকায় শত শত শ্রমিক পরিবার চরম অর্থকষ্টে দিন কাটাচ্ছে। তাই বকেয়া মজুরি ও শ্রমিকদের সব আইনসিদ্ধ পাওনা দ্রুত পরিশোধের দাবি জানান তারা।
সমাবেশ থেকে আরও দাবি জানানো হয়, শ্রম অধিদপ্তরের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ ছাড়া বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজন করতে হবে, যাতে শ্রমিকরা স্বাধীনভাবে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ পান।
সমাবেশে বক্তব্য দেন চা শ্রমিক নেত্রী গীতা রানী কানু, ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নরুল হক, শমশেরনগর চা বাগানের শ্রমিক নেত্রী লছমি রানী রাজভর এবং শ্রমিক নেতা সুজিত পাশা।
বক্তারা বলেন, দেশের অর্থনীতিতে চা শিল্প গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও এ শিল্পের শ্রমিকরা এখনও ন্যায্য মজুরি ও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। তারা শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন।
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি 


















