
সিলেটের জালালাবাদ থানা এলাকা থেকে সদ্য এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া এক শিক্ষার্থীকে অপহরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি জয় দাসকে (২৩) নেত্রকোনা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৯ ও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) একটি যৌথ আভিযানিক দল। এ সময় অপহৃত শিক্ষার্থীকেও নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত জয় দাস নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুরী থানার শিবপুর গ্রামের হরিধন দাসের ছেলে। গত ২১ জুলাই (মঙ্গলবার) দুপুর আনুমানিক ১ টা ৩০ মিনিটের সময় নেত্রকোনার খালিয়াজুরী থানাধীন মুরাদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভিকটিম সিলেট নগরীর জালালাবাদ থানাধীন করেরপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় করেরপাড়া সিটি মডেল স্কুল থেকে সদ্য এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন। স্কুলে যাতায়াতের পথে আসামি জয় দাস তাকে প্রায়ই প্রেমের প্রস্তাবসহ নানাভাবে উত্ত্যক্ত করতো। বিষয়টি ছাত্রী তার পরিবারকে জানালে, তার বাবা জয় দাসের বোনজামাই রিংকু দাসকে (৩৫) অবহিত করেন। সে সময় আর উত্ত্যক্ত না করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।

তবে গত ১৬ জুলাই দুপুর আনুমানিক ৩ টার সময় ভিকটিম হাওলাদারপাড়ায় তার মাসির বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হলে আর ফিরে আসেনি। পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে প্রতিবেশীদের মাধ্যমে জানতে পারেন, বেলা ৩ টা ১৫ মিনিটে দিকে করেরপাড়া পয়েন্ট এলাকা থেকে জয় দাসসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জন তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যায়।
ঘটনার পর অপহৃত ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে সিলেটের জালালাবাদ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা (মামলা নং-১৩, তারিখ: ১৭/০৭/২০২৬) দায়ের করেন। ঘটনাটি নিয়ে র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯ সদর কোম্পানী ও এসএমপি জালালাবাদ থানা পুলিশের যৌথ টিম নেত্রকোনার খালিয়াজুরীতে অভিযান চালিয়ে আসামিকে গ্রেপ্তার ও ভিকটিমকে উদ্ধার করে।
র্যাব-৯-এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে. এম. শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামি ও উদ্ধারকৃত ভিকটিমকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের জালালাবাদ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাবের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
স্টাফ রিপোর্টার 



















