
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নিজের অবস্থান জানান দিয়েছেন তরুণ সমাজকর্মী ও সিলেট মহানগর জমিয়তের সদস্য, ছাত্র জমিয়তের সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য আব্দুল্লাহ আল নোমান। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে বয়সে সবচেয়ে কনিষ্ঠ এই তরুণের বয়স ২৬ বছর।
গত শনিবার সন্ধ্যায় শান্তিগঞ্জের পাগলা বাজারে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জানান, আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
তিনি বলেন, জনগণ যদি তাকে চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করেন, তাহলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করবেন।
আব্দুল্লাহ আল নোমান জানান, তিনি জামি’আ দারুল কোরআন, সিলেট থেকে দাওরায়ে হাদিস এবং সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা থেকে আলিম সম্পন্ন করেছেন। শিক্ষাজীবন শেষে নিজ এলাকার মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার লক্ষ্যেই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তিনি বলেন, আমাকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয় যখন দেখি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা কোমরসমান পানি পেরিয়ে স্কুলে যেতে বাধ্য হয়। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় চলাচল করতে হয়। আবার অনেক গ্রামে অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছাতে না পারায় জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নিতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এসব সমস্যা সমাধানে আমি আন্তরিকভাবে কাজ করতে চাই।

তিনি আরও বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের সীমিত সক্ষমতার মধ্যেও কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হবে। তরুণ-তরুণীদের দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করতে কম্পিউটার ও সেলাই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কাজ করবেন।
নোমান বলেন, আমি চাই না মানুষ আমাকে খুঁজে বেড়াক; বরং আমি নিজেই মানুষের কাছে যেতে চাই। এজন্য ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি জানান, ইতোমধ্যে পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের ১৬টি গ্রাম পরিদর্শন করেছেন এবং প্রায় প্রতিটি মসজিদে নামাজ আদায় করে স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় ও দোয়া কামনা করেছেন। প্রায় ১৫ হাজার ভোটারের এই ইউনিয়নে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সমর্থন কামনা করছেন তিনি।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিষয়ে তিনি বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই আমার কাছে সমান। সংখ্যালঘু ভাই-বোনদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে আমি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেব। কাউকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। সবাই এই ইউনিয়নের সমান নাগরিক। তিনি দেশের যেকোনো সংকটময় পরিস্থিতির মতোই সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ বজায় রাখতে তিনি কাজ করবেন এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের আস্থা অর্জনকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে দেখেন।
মতবিনিময় সভায় তিনি আসন্ন নির্বাচনে ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীদেরও সহযোগিতা কামনা করেন।
এসময় সাংবাদিক ইয়াকুব শাহরিয়ার, নোহান আরেফিন নেওয়াজ, আলাল হোসেন, কুহিনূর রহমান নাহিদ ও আবদুর রহমান জামী উপস্থিত ছিলেন।
শান্তিগঞ্জ প্রতিনিধি 


















