
দিরাই পৌর শহরে পাওনা টাকা ও ঘর ভাড়ার জামিনদার হওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিবেশীদের হামলায় মিতা বেগম (১৬) নামের এক তরুণী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন নিহতের ফুফাতো ভাই উজ্জ্বল (২০)। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে পৌর শহরের নতুন বাগবাড়ি গ্রামে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, নতুন বাগবাড়ি গ্রামের আলাল মিয়ার ছেলে অলি ও মারুফের সাথে উজ্জ্বলের দীর্ঘদিন ধরে টাকা-পয়সা লেনদেন ও ঘর ভাড়ার জামিনদার সংক্রান্ত বিষয়ে বিরোধ চলছিল। গতকাল শুক্রবার উজ্জ্বল তার পাওনা টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে নতুন বাগবাড়ি গ্রামে মামার বাড়িতে আসেন। সন্ধ্যায় তিনি অলি ও মারুফের কাছে টাকা চাইতে গেলে তাদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে অলি ও মারুফ তাকে বেদম মারধর করে গুরুতর আহত করে।
ভাইকে মারধরের খবর পেয়ে মামাতো বোন মিতা বেগম বিষয়টি জানতে অলি ও মারুফের খালাতো ভাই টিটু মিয়ার বাড়িতে যান। সেখানে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে টিটু মিয়া, তার স্ত্রী ও সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোটা নিয়ে মিতার ওপর চড়াও হয়। তাদের উপর্যুপরি আঘাতে মিতা বেগম গুরুতর জখম হন।
স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। উজ্জ্বলের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অন্যদিকে, মুমূর্ষু মিতা বেগমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে, সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। ঘটনার সাথে জড়িত অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।
দিরাই প্রতিনিধি 














