
সিলেটের বালাগঞ্জ সরকারি দ্বারকানাথ উচ্চ বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষে বালাগঞ্জ উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির (দুপ্রক) ব্যানারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অথিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালিক। সংসদ সদস্যের আগমন উপলক্ষে ছুটির নির্ধারিত সময়ের পরও শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ২ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়েছে। তখন শিক্ষার্থীদের বাড়ি ফিরতে বিলম্ব হওয়ায় অভিভাবকরা স্কুলে এসে ভীড় জমান,তারা ক্ষুব্দ হন। তবে, শিক্ষার্থীদের এভাবে আটকে রাখার বিষয়টি জানতে পেরে চরম অসন্তোষ ও বিরাগভাজন হন এমপি এম এ মালিক। শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় মনোযোগী হতে সংসদ অধিবেশন দেখাবেন বলে তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করেন তিনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, এমপি এম এ মালিকের আগমন উপলক্ষে স্কুলের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম স্কুল ছুটির ঘণ্টার পরও ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে আটকে রাখেন। কিন্তু কোনো পূর্বঘোষণা বা শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির সুযোগ না দিয়ে দীর্ঘ সময় আটকে রাখায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ষষ্ট শ্রেণি ও অন্যান্য শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বলেন, আমাদেরকে বলা হয়েছে এমপি আসবেন সাড়ে ৩টায়। আমাদের ছুটির ঘন্টাও হয় সাড়ে ৩টায়। আমাদের অনেক সহপাঠী চলে যাওয়ার পথে বাঁধা দেন স্যারেরা। কিন্তু এমপি আসলেন সাড়ে ৪টায়। আমাদের সাথে দেখাও করেননি এমপি। আমাদের ছুটিও দিচ্ছেন না স্যাররা। আমরা সকালে খেয়ে এসেছি।
এই অনুষ্ঠানের জন্য স্কুল ছুটির পরও স্কুলের শিক্ষার্থীদের আটকে রাখার বিষয়ে বালাগঞ্জ সরকারি দ্বারকানাথ উচ্চ বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, ইউএনও স্যারের মৌখিক নির্দেশনায় অনুষ্ঠানের জন্য তাদেরকে আটকে রাখা হয়।
এবিষয়ে বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেরিনা দেবনাথ বলেন, ❛বিষয়টি খুবই সিম্পল। এখানে বিতর্ক প্রতিযোগীতার জন্য কিছু শিক্ষার্থীদের রাখা হয়েছিল। ৬ষ্ট শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শ্রেণি কক্ষে রাখা হয়েছিল, সেটা আমার জানা নেই।❜ যদিও এই অনুষ্ঠানের বিতর্ক প্রতিযোগীতার জন্য শুধুমাত্র স্কাউটে অর্ন্তভুক্ত শিক্ষার্থীদের রাখা হয়েছিল এবং তারা অনুষ্ঠান স্থলেও ছিল। এদিকে স্কুল আঙ্গিনায় অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে অনুষ্ঠানে আগতরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বালাগঞ্জ প্রতিনিধি। 


















