সিলেট ১২:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
News Title :
লাখাইর বুল্লা ইউনিয়ন নির্বাচনে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল কাদির। ‎সিলেটে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের দুই কর্মী  গ্রেফতার, ব্যানার জব্দ বিএনপি নেতা ও তরুণ ব্যবসায়ী রাহুল ইসলামের জন্মদিনে শুভেচ্ছা‎ শান্তিগঞ্জে স্বাস্থ্য ও পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নয়নে অংশীজনদের কর্মশালা ‎মৌলভীবাজারে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উদযাপন, আহতদের মাঝে অনুদান বিতরণ বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উপলক্ষে দেওয়ানগঞ্জে র‍্যালি, আলোচনা সভা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা বড়লেখায় বিশ্ব হাতধোয়া দিবসে র‌্যালি আলোচনাসভা ও হাতধোয়া প্রদর্শনী ‎তামাবিল দিয়ে ভারতে পাঠানো হলো এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে নিহত নারীর মরদেহ ‎তেলিয়াপাড়া চা বাগানে পুলিশের অভিযান, ১০৪ পিস মাদক ‘স্কুপ’ উদ্ধার সিলেটের জৈন্তাপুরে দুই নারীকে ভারতে পাচারের চেষ্টা: মূলহোতা রামিম গ্রেফতার

সীমান্তে চোরাই গরুর উৎসব, নীরব প্রশাসন—অভিযোগ এলাকাবাসীর!

রাতের আঁধারে ট্রাকে করে আসছে ভারতীয় গরু।

‎

‎পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জের ছাতক-দোয়ারাবাজার সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু-মহিষ প্রবেশের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। দোয়ারাবাজার সীমান্ত পেরিয়ে আসা এসব পশু ছাতকের সুরমা সেতু হয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে যাচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, রাত নামলেই সীমান্তজুড়ে শুরু হয় গরু-মহিষের চালান আনার উৎসব, যা এখন অনেকটা ‘ওপেন সিক্রেট’-এ পরিণত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের কিছু অসাধু সদস্য, স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ও চোরাকারবারি সিন্ডিকেটের যোগসাজশে এসব পশু বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।

‎পরে বোগলাবাজার, নরসিংপুর বাজারসহ উপজেলার একাধিক বাজারের রশিদ সংগ্রহ করে ভারতীয় পশুকে দেশীয় গরু হিসেবে বৈধতা দেওয়া হচ্ছে। এরপর সেগুলো দেশের বিভিন্ন পশুর হাটে ছড়িয়ে পড়ছে। সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা জানান, দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের কলাউড়া, পেঁকপাড়া, ঝুমগাঁও, মোকামছড়া; ভোগলা ইউনিয়নের বাগানবাড়ি, গাছগড়া; লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের ভাঙ্গাপাড়া, মাঠগাঁও ও বাশতলা সীমান্ত এলাকা দীর্ঘদিন ধরে চোরাচালানের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত একাধিক দলে ভাগ হয়ে গরু-মহিষ সীমান্ত পেরিয়ে আনা হয়।

‎পরে ট্রাকযোগে সেগুলো ছাতকের সুরমা সেতু পার হয়ে বিভিন্ন গন্তব্যে চলে যায়। স্থানীয়দের দাবি, সীমান্ত দিয়ে প্রবেশের পর কম দামে বিক্রি হওয়া এসব গরুর জন্য বাজার থেকে রশিদ সংগ্রহ করা হয়। রশিদ দেখালেই গরুগুলো বৈধ হয়ে যায়। এর পেছনে বড় ধরনের একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে বলেও অভিযোগ তাদের।

‎একাধিক খামারি বলেন, ভারতীয় গরুর অবাধ প্রবেশে স্থানীয় খামারিরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। উৎপাদন খরচ বেড়ে গেলেও বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা আশঙ্কা করছেন, এভাবে ভারতীয় পশু প্রবেশ অব্যাহত থাকলে দেশীয় পশু খামার শিল্প বড় ধরনের সংকটে পড়বে। সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, রাত থেকে সকাল পর্যন্ত সীমান্ত দিয়ে গরু আনা হয়।

‎ভারতীয় সীমান্ত থেকে প্রতি গরুর বিপরীতে ৫০০ টাকা দিয়ে এসব গরু দেশের অভ্যন্তরে নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, অনেক সময় পুলিশের চেকপোস্টের সামন দিয়েই গরুভর্তি ট্রাক চলাচল করলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।

‎চোরাকারবারি সিন্ডিকেটের সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতার কারণেই সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পান। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছাতকের সুরমা সেতু দিয়ে ভারতীয় গরু-মহিষভর্তি ট্রাক যাওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন কার্যক্রম চললেও কার্যকর ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ভারতীয় গরু যেন দেশে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য পুলিশ কঠোর নজরদারিতে রয়েছে। আমরা গরু যাচাই-বাছাই করছি। বাজারের রশিদ ছাড়া কোনো গরু ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে না। কোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‎সহকারী পুলিশ সুপার (ছাতক সার্কেল) শেখ মুহাম্মদ মুরসালিন বলেন, “ছাতক ও দোয়ারাবাজার থানাকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো বাজারে চোরাই গরু প্রবেশ করতে না পারে। বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমরা তিন দিন ধরে অভিযান পরিচালনা করছি।” তবে সীমান্ত বিষয়টি বিজিবির এখতিয়ারভুক্ত হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লাখাইর বুল্লা ইউনিয়ন নির্বাচনে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল কাদির।

সীমান্তে চোরাই গরুর উৎসব, নীরব প্রশাসন—অভিযোগ এলাকাবাসীর!

সময় ০৯:৪০:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
রাতের আঁধারে ট্রাকে করে আসছে ভারতীয় গরু।

‎

‎পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জের ছাতক-দোয়ারাবাজার সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু-মহিষ প্রবেশের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। দোয়ারাবাজার সীমান্ত পেরিয়ে আসা এসব পশু ছাতকের সুরমা সেতু হয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে যাচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, রাত নামলেই সীমান্তজুড়ে শুরু হয় গরু-মহিষের চালান আনার উৎসব, যা এখন অনেকটা ‘ওপেন সিক্রেট’-এ পরিণত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের কিছু অসাধু সদস্য, স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ও চোরাকারবারি সিন্ডিকেটের যোগসাজশে এসব পশু বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।

‎পরে বোগলাবাজার, নরসিংপুর বাজারসহ উপজেলার একাধিক বাজারের রশিদ সংগ্রহ করে ভারতীয় পশুকে দেশীয় গরু হিসেবে বৈধতা দেওয়া হচ্ছে। এরপর সেগুলো দেশের বিভিন্ন পশুর হাটে ছড়িয়ে পড়ছে। সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা জানান, দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের কলাউড়া, পেঁকপাড়া, ঝুমগাঁও, মোকামছড়া; ভোগলা ইউনিয়নের বাগানবাড়ি, গাছগড়া; লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের ভাঙ্গাপাড়া, মাঠগাঁও ও বাশতলা সীমান্ত এলাকা দীর্ঘদিন ধরে চোরাচালানের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত একাধিক দলে ভাগ হয়ে গরু-মহিষ সীমান্ত পেরিয়ে আনা হয়।

‎পরে ট্রাকযোগে সেগুলো ছাতকের সুরমা সেতু পার হয়ে বিভিন্ন গন্তব্যে চলে যায়। স্থানীয়দের দাবি, সীমান্ত দিয়ে প্রবেশের পর কম দামে বিক্রি হওয়া এসব গরুর জন্য বাজার থেকে রশিদ সংগ্রহ করা হয়। রশিদ দেখালেই গরুগুলো বৈধ হয়ে যায়। এর পেছনে বড় ধরনের একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে বলেও অভিযোগ তাদের।

‎একাধিক খামারি বলেন, ভারতীয় গরুর অবাধ প্রবেশে স্থানীয় খামারিরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। উৎপাদন খরচ বেড়ে গেলেও বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা আশঙ্কা করছেন, এভাবে ভারতীয় পশু প্রবেশ অব্যাহত থাকলে দেশীয় পশু খামার শিল্প বড় ধরনের সংকটে পড়বে। সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, রাত থেকে সকাল পর্যন্ত সীমান্ত দিয়ে গরু আনা হয়।

‎ভারতীয় সীমান্ত থেকে প্রতি গরুর বিপরীতে ৫০০ টাকা দিয়ে এসব গরু দেশের অভ্যন্তরে নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, অনেক সময় পুলিশের চেকপোস্টের সামন দিয়েই গরুভর্তি ট্রাক চলাচল করলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।

‎চোরাকারবারি সিন্ডিকেটের সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতার কারণেই সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পান। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছাতকের সুরমা সেতু দিয়ে ভারতীয় গরু-মহিষভর্তি ট্রাক যাওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন কার্যক্রম চললেও কার্যকর ব্যবস্থা চোখে পড়ছে না।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ভারতীয় গরু যেন দেশে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য পুলিশ কঠোর নজরদারিতে রয়েছে। আমরা গরু যাচাই-বাছাই করছি। বাজারের রশিদ ছাড়া কোনো গরু ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে না। কোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‎সহকারী পুলিশ সুপার (ছাতক সার্কেল) শেখ মুহাম্মদ মুরসালিন বলেন, “ছাতক ও দোয়ারাবাজার থানাকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো বাজারে চোরাই গরু প্রবেশ করতে না পারে। বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমরা তিন দিন ধরে অভিযান পরিচালনা করছি।” তবে সীমান্ত বিষয়টি বিজিবির এখতিয়ারভুক্ত হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।