
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে দায়ের করা দুটি চেক সংক্রান্ত মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায় বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সংবাদকর্মী ও মানবাধিকারকর্মী মোঃ জয়নাল আবেদীন বাদশা।
বৃহস্পতিবার ২৩ মে বিকেল ৫টায় মৌলভীবাজারের মামার বাড়ি রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড পার্টি সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধি, স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও মানবাধিকারকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে জয়নাল আবেদীন বাদশা জানান, তিনি দীর্ঘ সাত বছর ধরে সামাজিক সমস্যা, মানবাধিকার ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সংবাদকর্মী হিসেবে কাজ করছেন। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা দুটি চেক মামলার প্রকৃত ঘটনা, তথ্য ও ঘটনার ধারাবাহিকতা তুলে ধরতেই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের মার্চ মাসে তার গ্রামের বাসিন্দা মোঃ মাসুক মিয়া অভিযোগ করেন যে, ভারতীয় চিনি ব্যবসার কথা বলে কথিত মাহবুব মুর্শেদ নামের এক ব্যক্তির ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং হিসাবের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করা হয়েছে। পরে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বাদশার দাবি, ওই সালিশ বৈঠকের একপর্যায়ে তার কাছ থেকে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের দুটি স্বাক্ষরকৃত চেক গ্রহণ করা হয় এবং একটি লিখিত চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরবর্তীতে সেই চেকের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে জিআর ২৫৫/২০২৪ (দায়রা নং-৫৮১/২০২৪) ও জিআর ২৫৬/২০২৪ (দায়রা নং-৫৮২/২০২৪) মামলা দায়ের করা হয়। বর্তমানে মামলাগুলো আপিল প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে তিনি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, আদালতের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবের তথ্য যাচাই করা হলে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আদালতে লিখিতভাবে জানায় যে, উল্লিখিত হিসাব নম্বরটির অস্তিত্ব শ্রীমঙ্গল শাখায় পাওয়া যায়নি।
তিনি জানান, গত ৯ মার্চ ২০২৬ মামলাদ্বয়ের রায় ঘোষণা করা হয়। একটি মামলায় তাকে এক মাসের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড এবং অপর মামলায় এক বছরের কারাদণ্ড ও ১৮ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। তবে বিষয়টি বর্তমানে উচ্চ আদালতে আপিলাধীন রয়েছে।
জয়নাল আবেদীন বাদশা অভিযোগ করেন, আপিল পরিচালনার জন্য অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে গত ৩০ এপ্রিল শ্রীমঙ্গলে যাওয়ার পথে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে আটক করে হবিগঞ্জ রোডের একটি গ্যারেজে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে শারীরিক নির্যাতন করা হয় এবং তার মোবাইল ফোন ও সঙ্গে থাকা অর্থ ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।
এছাড়া তার স্ত্রীর অভিযোগ অনুযায়ী, তাকেও আটকে রেখে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয় এবং তার ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে দুটি মোবাইল ফোন, নগদ ২৫ হাজার টাকা ও প্রায় দুই ভরি ব্যবহৃত স্বর্ণালংকার নিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জয়নাল আবেদীন বাদশা বলেন, আমি বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা ও আদালতের প্রতি পূর্ণ আস্থা ও শ্রদ্ধা রাখি। উচ্চ আদালতে মামলার নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণ যথাযথভাবে যাচাই করা হলে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।
তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগসমূহের নিরপেক্ষ তদন্ত, সঠিক তথ্য যাচাই এবং পরিবারের উত্থাপিত অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে মামলার বিভিন্ন নথিপত্র, ব্যাংক প্রতিবেদন ও অন্যান্য কাগজপত্র উপস্থাপন করা হয়। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
আব্দুস সামাদ আজাদ, মৌলভীবাজার থেকে। 


















