
মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের বাস মালিক
-শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ বিরোধ এবার রূপ নিয়েছে মহাসড়ক অবরোধে। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ‘এস এম এস’ বাস মালিক সমিতির সঙ্গে হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের দ্বন্দ্বের জেরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ নতুন ব্রিজ এলাকায় যাত্রীবাহী বাস আড়াআড়ি করে রেখে ব্যারিকেড সৃষ্টি করা হয়েছে।
শনিবার (১৬ মে) পূর্বঘোষিত এ অবরোধ কর্মসূচির কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়ে। তীব্র গরমের মধ্যে হাজার হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
অনুসন্ধানে এবং হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের সূত্রে জানা গেছে, হবিগঞ্জ থেকে মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গল হয়ে সিলেটগামী বিরতিহীন এক্সপ্রেস বাসের স্টপেজ ও চলাচল নিয়ে প্রায় এক বছর ধরে দুই জেলার পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। গত পাঁচ দিনে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
হবিগঞ্জ পক্ষের অভিযোগ, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ‘এসএমএস’ বাস মালিক সমিতি ও স্থানীয় শ্রমিকরা হবিগঞ্জের বিরতিহীন বাসগুলোকে মৌলভীবাজারে নির্ধারিত স্টপেজ দিতে দিচ্ছে না। এছাড়া বিভিন্ন সময় বাস আটকে রাখা, চালক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের হয়রানি এবং মারধরের ঘটনাও ঘটেছে। এর আগে একদিনের ধর্মঘট পালন করা হলেও প্রশাসন কিংবা মৌলভীবাজারের মালিক সমিতির পক্ষ থেকে কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি বলে দাবি তাদের।
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন হবিগঞ্জের পরিবহন চালক ও স্টাফরা। তাদের ভাষ্য, প্রশাসনের আশ্বাসের পরও শ্রীমঙ্গলের মালিক সমিতি নির্বিঘ্নে গাড়ি চালাতে দিচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়েই তারা মহাসড়ক অবরোধে নেমেছেন।
শায়েস্তাগঞ্জ নতুন ব্রিজ এলাকায় মহাসড়কের চলমান উন্নয়ন কাজের জন্য নির্মিত দুটি করিডোরেই হবিগঞ্জ-সিলেট বিরতিহীন এক্সপ্রেস বাস আড়াআড়িভাবে দাঁড় করিয়ে পুরো সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফ্লাইওভারের নিচের ঢাকামুখী ও সিলেটমুখী—উভয় পথই কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
মহাসড়ক স্থবির হয়ে পড়ায় কিছু পরিবহন বিকল্প রুট ব্যবহার করছে। ঢাকামুখী বা অন্য অঞ্চল থেকে আসা বাসগুলো নসরতপুর গেইট হয়ে মিরপুর দিয়ে সিলেটের উদ্দেশ্যে যাচ্ছে। অন্যদিকে, সিলেট থেকে আসা বাসগুলো মিরপুর পয়েন্ট হয়ে হবিগঞ্জ শহরের ধুলিয়াকাল পয়েন্ট দিয়ে নসরতপুর হয়ে ঢাকার দিকে যাচ্ছে।
তবে বিকল্প রুট ব্যবহারের কারণেও সাধারণ যাত্রী, প্রাইভেটকার এবং পণ্যবাহী যানবাহনকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অতিরিক্ত সময় রাস্তায় কাটাতে হচ্ছে।
অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী, জেলা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত হন।
সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, যৌথ বাহিনীর কর্মকর্তারা মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের নেতাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে বিরোধের মূল কেন্দ্রবিন্দু মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গল হওয়ায় এখনো কোনো চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছানো যায়নি। প্রশাসন উভয় পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি 















