
ইকরছড়ি (এরনবিল) হাওরের জামখলা খালের বাঁধ ভেঙে বোরো জমির ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের হামিদপুর গ্রামের কাছে সুরেশ্বরী নদীর শাখা নদী মনাই নদীর পানির চাপে বাঁধটি ভেঙে যায়।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, এই হাওরে হামিদপুর, চান্দালিপাড়া, চাঁনপুর, গড়াকাটা, হরিনাকান্দী, তেলিগাঁও ও বাগারপাড়া গ্রামের কৃষকরা প্রায় ২০০ একর জমিতে বোরো চাষাবাদ করেছেন। ইতোমধ্যে হাওরের প্রায় অর্ধেক ধান কাটা শেষ হলেও হঠাৎ বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় অবশিষ্ট ফসল নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। দ্রুত গতিতে পানি ঢোকায় অনেক কৃষকের পাকা ও আধা-পাকা ধান তলিয়ে যাচ্ছে।
বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউপি সদস্য (৫নং ওয়ার্ড) মো. কামাল মিয়া জানান,জামখলা খালের ওপর এই বাঁধটি আমরা স্থানীয় উদ্যোগেই দিয়ে থাকি। বিলের ভেতর ৬-৭টি গ্রামের মানুষের ধান রয়েছে। অনেকেই ধান কেটে ঘরে তুললেও অনেকের ধান এখনো জমিতে। হয়তো শতাধিক বিঘা ধান তলিয়ে যেতে পারে। স্থানীয়রা আপ্রাণ চেষ্টা করছে দ্রুত ধান কেটে ফেলার জন্য।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন মত জানিয়েছে প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। সুনামগঞ্জ পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাওলাদার জানান, এটি বোরো ফসল রক্ষার কোনো স্থায়ী বাঁধ নয়, বরং একটি জলমহালের বাঁধ। জলমহালের তীরে থাকা কিছু ধান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মধ্যনগর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জয় ঘোষ বলেন,এটি মূলত ইকরছড়ি বিলের খালের ওপর দেওয়া একটি গ্রামীণ মাটির রাস্তা। তিনি আরও বলেন,পাহাড়ি ঢলের পানির চাপে এটি ভেঙে গেছে। যে এলাকা দিয়ে পানি ঢুকছে সেটি মূলত একটি জলমহাল।
সেখানে প্রায় ১১৪ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছিল, যার মধ্যে ৫০ হেক্টরের ধান কাটা শেষ।
প্লাবিত হওয়ায় ৫ থেকে ১০ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সর্বশেষ পাওয়া খবরে জানা গেছে, স্থানীয় কৃষকরা নিজেদের উদ্যোগে বাঁধটি মেরামতের চেষ্টা চালাচ্ছেন এবং পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার আগেই অবশিষ্ট ধান কেটে নেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি 

















