সিলেট ০৫:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
News Title :
‎শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে অভিভাবকদের সাথে মত বিনিময় সভার অনুষ্ঠিত ‎সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ৩ শ্রমিক দগ্ধ নবীগঞ্জে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বসার জায়গা নিশ্চিত করলেন পৌর প্রশাসক মো. রুহুল আমিন চুনারুঘাটে ১৫ কিলোমিটার ধাওয়া শেষে জনতার হাতে আটক ডাকাতি মামলার অভিযুক্ত, উদ্ধার প্রাইভেটকার মাদক দমনে পুলিশের বিশেষ উইং চান এমপি নাসের রহমান, তদবিরকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি ডিআইজি ‎কনজিউমার রাইটস-ভোক্তা অধিকার (সিআরবি) সিলেট বিভাগীয় কার্যনির্বাহী কমিটি অনুমোদন‎‎ হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হলেন অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হক সুবিপ্রবির উপ উপাচার্য পদে নিয়োগ পেলেন অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর সরকার ‎জামালপুরের নবাব রেস্টুরেন্টে মোবাইল কোর্টের অভিযান, ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ‎অপপ্রচার ঠেকাতে শান্তিগঞ্জে প্রশাসনের উদ্যোগ, তথ্য যাচাইয়ে জোর

‎সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে বাঁধ ভেঙে তলিয়ে যাচ্ছে বোরো ফসল: দিশেহারা কৃষক

বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি প্রবেশ করছে। ছবি- সংগৃহীত।



‎ইকরছড়ি (এরনবিল) হাওরের জামখলা খালের বাঁধ ভেঙে বোরো জমির ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের হামিদপুর গ্রামের কাছে সুরেশ্বরী নদীর শাখা নদী মনাই নদীর পানির চাপে বাঁধটি ভেঙে যায়।

‎স্থানীয় কৃষকদের দাবি, এই হাওরে হামিদপুর, চান্দালিপাড়া, চাঁনপুর, গড়াকাটা, হরিনাকান্দী, তেলিগাঁও ও বাগারপাড়া গ্রামের কৃষকরা প্রায় ২০০ একর জমিতে বোরো চাষাবাদ করেছেন। ইতোমধ্যে হাওরের প্রায় অর্ধেক ধান কাটা শেষ হলেও হঠাৎ বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় অবশিষ্ট ফসল নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। দ্রুত গতিতে পানি ঢোকায় অনেক কৃষকের পাকা ও আধা-পাকা ধান তলিয়ে যাচ্ছে।
‎বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউপি সদস্য (৫নং ওয়ার্ড) মো. কামাল মিয়া জানান,জামখলা খালের ওপর এই বাঁধটি আমরা স্থানীয় উদ্যোগেই দিয়ে থাকি। বিলের ভেতর ৬-৭টি গ্রামের মানুষের ধান রয়েছে। অনেকেই ধান কেটে ঘরে তুললেও অনেকের ধান এখনো জমিতে। হয়তো শতাধিক বিঘা ধান তলিয়ে যেতে পারে। স্থানীয়রা আপ্রাণ চেষ্টা করছে দ্রুত ধান কেটে ফেলার জন্য।

‎এদিকে বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন মত জানিয়েছে প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। সুনামগঞ্জ পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাওলাদার জানান, এটি বোরো ফসল রক্ষার কোনো স্থায়ী বাঁধ নয়, বরং একটি জলমহালের বাঁধ। জলমহালের তীরে থাকা কিছু ধান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
‎মধ্যনগর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জয় ঘোষ বলেন,এটি মূলত ইকরছড়ি বিলের খালের ওপর দেওয়া একটি গ্রামীণ মাটির রাস্তা। তিনি আরও বলেন,পাহাড়ি ঢলের পানির চাপে এটি ভেঙে গেছে। যে এলাকা দিয়ে পানি ঢুকছে সেটি মূলত একটি জলমহাল।
‎সেখানে প্রায় ১১৪ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছিল, যার মধ্যে ৫০ হেক্টরের ধান কাটা শেষ।
‎প্লাবিত হওয়ায় ৫ থেকে ১০ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

‎সর্বশেষ পাওয়া খবরে জানা গেছে, স্থানীয় কৃষকরা নিজেদের উদ্যোগে বাঁধটি মেরামতের চেষ্টা চালাচ্ছেন এবং পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার আগেই অবশিষ্ট ধান কেটে নেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে অভিভাবকদের সাথে মত বিনিময় সভার অনুষ্ঠিত

‎সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে বাঁধ ভেঙে তলিয়ে যাচ্ছে বোরো ফসল: দিশেহারা কৃষক

সময় ১২:৪৭:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি প্রবেশ করছে। ছবি- সংগৃহীত।



‎ইকরছড়ি (এরনবিল) হাওরের জামখলা খালের বাঁধ ভেঙে বোরো জমির ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের হামিদপুর গ্রামের কাছে সুরেশ্বরী নদীর শাখা নদী মনাই নদীর পানির চাপে বাঁধটি ভেঙে যায়।

‎স্থানীয় কৃষকদের দাবি, এই হাওরে হামিদপুর, চান্দালিপাড়া, চাঁনপুর, গড়াকাটা, হরিনাকান্দী, তেলিগাঁও ও বাগারপাড়া গ্রামের কৃষকরা প্রায় ২০০ একর জমিতে বোরো চাষাবাদ করেছেন। ইতোমধ্যে হাওরের প্রায় অর্ধেক ধান কাটা শেষ হলেও হঠাৎ বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় অবশিষ্ট ফসল নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। দ্রুত গতিতে পানি ঢোকায় অনেক কৃষকের পাকা ও আধা-পাকা ধান তলিয়ে যাচ্ছে।
‎বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউপি সদস্য (৫নং ওয়ার্ড) মো. কামাল মিয়া জানান,জামখলা খালের ওপর এই বাঁধটি আমরা স্থানীয় উদ্যোগেই দিয়ে থাকি। বিলের ভেতর ৬-৭টি গ্রামের মানুষের ধান রয়েছে। অনেকেই ধান কেটে ঘরে তুললেও অনেকের ধান এখনো জমিতে। হয়তো শতাধিক বিঘা ধান তলিয়ে যেতে পারে। স্থানীয়রা আপ্রাণ চেষ্টা করছে দ্রুত ধান কেটে ফেলার জন্য।

‎এদিকে বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন মত জানিয়েছে প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। সুনামগঞ্জ পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাওলাদার জানান, এটি বোরো ফসল রক্ষার কোনো স্থায়ী বাঁধ নয়, বরং একটি জলমহালের বাঁধ। জলমহালের তীরে থাকা কিছু ধান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
‎মধ্যনগর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জয় ঘোষ বলেন,এটি মূলত ইকরছড়ি বিলের খালের ওপর দেওয়া একটি গ্রামীণ মাটির রাস্তা। তিনি আরও বলেন,পাহাড়ি ঢলের পানির চাপে এটি ভেঙে গেছে। যে এলাকা দিয়ে পানি ঢুকছে সেটি মূলত একটি জলমহাল।
‎সেখানে প্রায় ১১৪ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছিল, যার মধ্যে ৫০ হেক্টরের ধান কাটা শেষ।
‎প্লাবিত হওয়ায় ৫ থেকে ১০ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

‎সর্বশেষ পাওয়া খবরে জানা গেছে, স্থানীয় কৃষকরা নিজেদের উদ্যোগে বাঁধটি মেরামতের চেষ্টা চালাচ্ছেন এবং পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার আগেই অবশিষ্ট ধান কেটে নেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।