
হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে এতিমখানার নামে জাল রশিদ দিয়ে চাঁদা তুলতে গিয়ে জনতার হাতে ধরা পড়েছে দুই ভণ্ড প্রতারক। নিজেকে মাদ্রাসার ছাত্র পরিচয় দিলেও বাস্তবে সে একজন টিকটকার এবং অনলাইন জুয়াড়ি। গত ২০ এপ্রিল (মঙ্গলবার) বানিয়াচং ১নং উত্তর-পূর্ব ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ থেকে আসা দুই যুবক ছাত্রের লেবাস ধরে ওই এলাকার বাড়ি বাড়ি গিয়ে এতিমখানার জন্য অনুদান সংগ্রহ করছিল। তারা বিশেষ করে মহিলাদের টার্গেট করে জনপ্রতি ৩০০ টাকা করে চাঁদা এবং কারো কারো কাছ থেকে পবিত্র কুরআন শরীফ সংগ্রহ করছিল। তাদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয় জনতা তাদের একজনকে আটক করে, তবে অন্যজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
আটককৃত যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সে স্বীকার করে যে, সে কোনো মাদ্রাসার ছাত্র নয় এবং কোনোদিন লেখাপড়াও করেনি। এমনকি তারা যে রশিদ বই ব্যবহার করছিল, তাতে দেওয়া মোবাইল নাম্বারটিও ভুয়া। প্রতারক যুবকটি জানায়:
সে মূলত একজন টিকটকার এবং সংগৃহীত টাকা দিয়ে অনলাইন জুয়া খেলে। দুই প্রতারক মাদ্রাসার ছাত্র সেজে সাধারণ মানুষের ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে সে এই প্রতারণা করে আসছিল।
তাদের কে জিজ্ঞাসাবাদে সে দাবি করে, তাকে এই কাজে বাধ্য করা হয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, ধর্মীয় লেবাসধারী এই ধরনের প্রতারকরা গ্রামাঞ্চলের সরলমনা মহিলাদের লক্ষ্য করে এসব অপকর্ম চালাচ্ছে। দান করার ক্ষেত্রে সঠিক প্রতিষ্ঠান যাচাই করার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সচেতন মহলের দাবী,আপনার দান যেন কোনো অপরাধীর পকেটে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। অপরিচিত কাউকে দান করার আগে রশিদের বৈধতা এবং সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করুন।
প্রতারণার হাত থেকে সমাজকে বাঁচাতে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে এই সংবাদটি শেয়ার করুন
এ আর রুমন, বানিয়াচং। 


















