সিলেট ০২:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
News Title :
বানিয়াচংয়ে জমকালো আয়োজনে স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন শোকেসিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত‎ ‎ক্লুলেস সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার রহস্য উদঘাটন, দুই আসামি গ্রেফতার ‎নবীগঞ্জের একমাত্র আসামি তুহিন সিলেট থেকে গ্রেফতার ‎লাখাইয়ে কর্মকর্তা সাংবাদিক  মুক্তিযোদ্ধা সহ সুশীল সমাজের সাথে মতবিনিময় করেন জেলা প্রশাসক। ‎জামালপুরের দিগপাইতে ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার: হত্যা নাকি আত্মহত্যা এ নিয়ে রহস্য!‎ ‎জামালপুরে গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে  পরিকল্পনা প্রণয়ন বিষয়ক কর্মশালা  ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রামু থেকে নিখোঁজ কলেজছাত্রী টাঙ্গাইলে উদ্ধার চুনারুঘাটে মাদকবিরোধী যৌথ অভিযান: নারীকে ৬ মাসের কারাদণ্ড, জরিমানা ‎সখিপুর পৌরসভায় ৩নং ওয়ার্ডে টানা বিদ্যুৎ বিপর্যয়: চরম ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাঠ পর্যায়ের কৃষি উন্নয়নমূলক ও মানবিক কার্যক্রম পরিদর্শন

‎টাঙ্গাইল মেডিকেলে অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদ করায় ছাত্র ফেডারেশন নেত্রী বীথিকে ‘শারীরিক ও মানসিক হেনস্তা’

ফাতেমা রহমান বীথি (ফাইল ছবি)

‎টাঙ্গাইল জেনারেল (মেডিকেল কলেজ) হাসপাতালের অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কথা বলায় টাঙ্গাইল জেলা ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি ফাতেমা রহমান বীথিকে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে একদল ইন্টার্ন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। গত মঙ্গলবার ৩ মার্চ এই ঘটনা ঘটে।
‎ভুক্তভোগী নেত্রীর অভিযোগ, তাকে অবরুদ্ধ করে রাখার পাশাপাশি তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।

‎জানা যায়, ফাতেমা রহমান বীথির এক পরিচিত ব্যক্তির মা ব্রেইন স্ট্রোক করে সকালে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় বীথি হাসপাতালে গিয়ে কর্তব্যরত এক প্রফেসরকে রোগীর বর্তমান অবস্থা দেখার অনুরোধ করেন। বীথি জানান, ভোর সাড়ে ৫টায় রোগী ভর্তি হলেও সঠিক সময়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা নিয়ে অস্পষ্টতা ছিল।
‎বীথি বলেন, আমি যখন স্যারকে দ্রুত দেখার অনুরোধ করি, তিনি আমাকে ইন্টার্ন ডাক্তারদের সাথে কথা বলতে বলেন। আমি তাকে পূর্বের একটি ঘটনার উদাহরণ দিয়ে বলেছিলাম যে, এক সপ্তাহ আগে অব্যবস্থাপনার কারণে এখানে এক রোগী মারা গেছেন, তাই আমরা উদ্বিগ্ন।
‎এই কথা বলতেই তিনি উত্তেজিত হয়ে যান এবং চিৎকার শুরু করেন। আমি হাসপাতালের অব্যবস্থাপনার কথা বলায় সেখানে থাকা ইন্টার্ন ডাক্তাররা জড়ো হয়ে আমাকে অবরুদ্ধ করে ফেলে বলে বীথি জানান।

‎ফাতেমা রহমান বীথি অভিযোগ করেন, ১০-১৫ জন পুরুষ ইন্টার্ন ডাক্তার তাকে ঘিরে ধরে হেনস্তা শুরু করেন। তিনি যখন ফেসবুক লাইভে যাওয়ার চেষ্টা করেন, তখন এক অজ্ঞাত ব্যক্তি তার হাত থেকে ফোন ছিনিয়ে নেয়।
‎দুইজন ইন্টার্ন ডাক্তার আমাকে জোরপূর্বক রিসিপশনের পাশের একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে মেঝেতে ফেলে দেয়। সেখানে একজন ইন্টার্ন ডাক্তার নিজেকে জেলা ছাত্রদলের নেতা পরিচয় দিয়ে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করে। হাসপাতালের মতো জায়গায় এমন সন্ত্রাসী আচরণ মেনে নেওয়া যায় না বলে তিনি অভিযোগ করেন।

‎পরবর্তীতে গণসংহতি আন্দোলনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, প্রশাসন ও গণমাধ্যমকর্মীদের হস্তক্ষেপে বীথি অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত হন। এরপর হাসপাতাল পরিচালকের কক্ষে একটি সমঝোতা বৈঠক হলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
‎বীথি তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে জানান,ইন্টার্ন ডাক্তারদের দায়িত্ব সেবা দেওয়া, গুন্ডাগিরি করা নয়। হামলা বা অবরুদ্ধ করে আমাকে থামানো যাবে না। যারা চিকিৎসক পরিচয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অপসারণ চাই।

‎হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ঘটনার বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযুক্ত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বানিয়াচংয়ে জমকালো আয়োজনে স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন শোকেসিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত‎

‎টাঙ্গাইল মেডিকেলে অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদ করায় ছাত্র ফেডারেশন নেত্রী বীথিকে ‘শারীরিক ও মানসিক হেনস্তা’

সময় ০৮:৫৫:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬
ফাতেমা রহমান বীথি (ফাইল ছবি)

‎টাঙ্গাইল জেনারেল (মেডিকেল কলেজ) হাসপাতালের অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কথা বলায় টাঙ্গাইল জেলা ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি ফাতেমা রহমান বীথিকে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে একদল ইন্টার্ন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। গত মঙ্গলবার ৩ মার্চ এই ঘটনা ঘটে।
‎ভুক্তভোগী নেত্রীর অভিযোগ, তাকে অবরুদ্ধ করে রাখার পাশাপাশি তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।

‎জানা যায়, ফাতেমা রহমান বীথির এক পরিচিত ব্যক্তির মা ব্রেইন স্ট্রোক করে সকালে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় বীথি হাসপাতালে গিয়ে কর্তব্যরত এক প্রফেসরকে রোগীর বর্তমান অবস্থা দেখার অনুরোধ করেন। বীথি জানান, ভোর সাড়ে ৫টায় রোগী ভর্তি হলেও সঠিক সময়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা নিয়ে অস্পষ্টতা ছিল।
‎বীথি বলেন, আমি যখন স্যারকে দ্রুত দেখার অনুরোধ করি, তিনি আমাকে ইন্টার্ন ডাক্তারদের সাথে কথা বলতে বলেন। আমি তাকে পূর্বের একটি ঘটনার উদাহরণ দিয়ে বলেছিলাম যে, এক সপ্তাহ আগে অব্যবস্থাপনার কারণে এখানে এক রোগী মারা গেছেন, তাই আমরা উদ্বিগ্ন।
‎এই কথা বলতেই তিনি উত্তেজিত হয়ে যান এবং চিৎকার শুরু করেন। আমি হাসপাতালের অব্যবস্থাপনার কথা বলায় সেখানে থাকা ইন্টার্ন ডাক্তাররা জড়ো হয়ে আমাকে অবরুদ্ধ করে ফেলে বলে বীথি জানান।

‎ফাতেমা রহমান বীথি অভিযোগ করেন, ১০-১৫ জন পুরুষ ইন্টার্ন ডাক্তার তাকে ঘিরে ধরে হেনস্তা শুরু করেন। তিনি যখন ফেসবুক লাইভে যাওয়ার চেষ্টা করেন, তখন এক অজ্ঞাত ব্যক্তি তার হাত থেকে ফোন ছিনিয়ে নেয়।
‎দুইজন ইন্টার্ন ডাক্তার আমাকে জোরপূর্বক রিসিপশনের পাশের একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে মেঝেতে ফেলে দেয়। সেখানে একজন ইন্টার্ন ডাক্তার নিজেকে জেলা ছাত্রদলের নেতা পরিচয় দিয়ে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করে। হাসপাতালের মতো জায়গায় এমন সন্ত্রাসী আচরণ মেনে নেওয়া যায় না বলে তিনি অভিযোগ করেন।

‎পরবর্তীতে গণসংহতি আন্দোলনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, প্রশাসন ও গণমাধ্যমকর্মীদের হস্তক্ষেপে বীথি অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত হন। এরপর হাসপাতাল পরিচালকের কক্ষে একটি সমঝোতা বৈঠক হলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
‎বীথি তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে জানান,ইন্টার্ন ডাক্তারদের দায়িত্ব সেবা দেওয়া, গুন্ডাগিরি করা নয়। হামলা বা অবরুদ্ধ করে আমাকে থামানো যাবে না। যারা চিকিৎসক পরিচয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অপসারণ চাই।

‎হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ঘটনার বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযুক্ত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।