সিলেট ০৩:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
News Title :
নেত্রকোনায় সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যা: শেরপুর প্রেসক্লাবের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ ‎জৈন্তাপুরে জমি দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ: আহত একই পরিবারের ৩  ভাইসহ একাধিক সদস্য। ‎প্রতিবন্ধী নাতনির দায়িত্ব বৃদ্ধ দাদির কাঁধে লাখাই মুড়িয়াউক ইউনিয়ন নির্বাচনকে সামনে রেখে জমে উঠেছে প্রচার-প্রচারণা ‎সিলেটে বাস টমটম সংঘর্ষে মা-মেয়ে নিহতের ঘটনায় ঘাতক বাস চালক গ্রেপ্তার কুলাউড়ায় নতুন আঙ্গিকে গোবিন্দাস রেস্টুরেন্ট, সাশ্রয়ী মূল্যে মিলবে তিন বেলার খাবার নিউইয়র্ক পুলিশ কর্মকর্তা জুয়েল মাহবুবের সঙ্গে স্রোত সাহিত্য পর্ষদের শুভেচ্ছা বিনিময় ‎হবিগঞ্জে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন ‎লাখাইয়ে শান্তিপূর্ণ, নির্বিঘ্নে দুর্গাপূজাঁ‎ উদযাপনের লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত।    ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অলিপুরে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী মৃত্যু

‎টাঙ্গাইল মেডিকেলে অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদ করায় ছাত্র ফেডারেশন নেত্রী বীথিকে ‘শারীরিক ও মানসিক হেনস্তা’

ফাতেমা রহমান বীথি (ফাইল ছবি)

‎টাঙ্গাইল জেনারেল (মেডিকেল কলেজ) হাসপাতালের অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কথা বলায় টাঙ্গাইল জেলা ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি ফাতেমা রহমান বীথিকে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে একদল ইন্টার্ন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। গত মঙ্গলবার ৩ মার্চ এই ঘটনা ঘটে।
‎ভুক্তভোগী নেত্রীর অভিযোগ, তাকে অবরুদ্ধ করে রাখার পাশাপাশি তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।
‎
‎জানা যায়, ফাতেমা রহমান বীথির এক পরিচিত ব্যক্তির মা ব্রেইন স্ট্রোক করে সকালে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় বীথি হাসপাতালে গিয়ে কর্তব্যরত এক প্রফেসরকে রোগীর বর্তমান অবস্থা দেখার অনুরোধ করেন। বীথি জানান, ভোর সাড়ে ৫টায় রোগী ভর্তি হলেও সঠিক সময়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা নিয়ে অস্পষ্টতা ছিল।
‎বীথি বলেন, আমি যখন স্যারকে দ্রুত দেখার অনুরোধ করি, তিনি আমাকে ইন্টার্ন ডাক্তারদের সাথে কথা বলতে বলেন। আমি তাকে পূর্বের একটি ঘটনার উদাহরণ দিয়ে বলেছিলাম যে, এক সপ্তাহ আগে অব্যবস্থাপনার কারণে এখানে এক রোগী মারা গেছেন, তাই আমরা উদ্বিগ্ন।
‎এই কথা বলতেই তিনি উত্তেজিত হয়ে যান এবং চিৎকার শুরু করেন। আমি হাসপাতালের অব্যবস্থাপনার কথা বলায় সেখানে থাকা ইন্টার্ন ডাক্তাররা জড়ো হয়ে আমাকে অবরুদ্ধ করে ফেলে বলে বীথি জানান।
‎
‎ফাতেমা রহমান বীথি অভিযোগ করেন, ১০-১৫ জন পুরুষ ইন্টার্ন ডাক্তার তাকে ঘিরে ধরে হেনস্তা শুরু করেন। তিনি যখন ফেসবুক লাইভে যাওয়ার চেষ্টা করেন, তখন এক অজ্ঞাত ব্যক্তি তার হাত থেকে ফোন ছিনিয়ে নেয়।
‎দুইজন ইন্টার্ন ডাক্তার আমাকে জোরপূর্বক রিসিপশনের পাশের একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে মেঝেতে ফেলে দেয়। সেখানে একজন ইন্টার্ন ডাক্তার নিজেকে জেলা ছাত্রদলের নেতা পরিচয় দিয়ে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করে। হাসপাতালের মতো জায়গায় এমন সন্ত্রাসী আচরণ মেনে নেওয়া যায় না বলে তিনি অভিযোগ করেন।
‎
‎পরবর্তীতে গণসংহতি আন্দোলনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, প্রশাসন ও গণমাধ্যমকর্মীদের হস্তক্ষেপে বীথি অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত হন। এরপর হাসপাতাল পরিচালকের কক্ষে একটি সমঝোতা বৈঠক হলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
‎বীথি তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে জানান,ইন্টার্ন ডাক্তারদের দায়িত্ব সেবা দেওয়া, গুন্ডাগিরি করা নয়। হামলা বা অবরুদ্ধ করে আমাকে থামানো যাবে না। যারা চিকিৎসক পরিচয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অপসারণ চাই।
‎
‎হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ঘটনার বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযুক্ত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নেত্রকোনায় সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যা: শেরপুর প্রেসক্লাবের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

‎টাঙ্গাইল মেডিকেলে অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদ করায় ছাত্র ফেডারেশন নেত্রী বীথিকে ‘শারীরিক ও মানসিক হেনস্তা’

সময় ০৮:৫৫:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬
ফাতেমা রহমান বীথি (ফাইল ছবি)

‎টাঙ্গাইল জেনারেল (মেডিকেল কলেজ) হাসপাতালের অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কথা বলায় টাঙ্গাইল জেলা ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি ফাতেমা রহমান বীথিকে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে একদল ইন্টার্ন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। গত মঙ্গলবার ৩ মার্চ এই ঘটনা ঘটে।
‎ভুক্তভোগী নেত্রীর অভিযোগ, তাকে অবরুদ্ধ করে রাখার পাশাপাশি তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।
‎
‎জানা যায়, ফাতেমা রহমান বীথির এক পরিচিত ব্যক্তির মা ব্রেইন স্ট্রোক করে সকালে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় বীথি হাসপাতালে গিয়ে কর্তব্যরত এক প্রফেসরকে রোগীর বর্তমান অবস্থা দেখার অনুরোধ করেন। বীথি জানান, ভোর সাড়ে ৫টায় রোগী ভর্তি হলেও সঠিক সময়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা নিয়ে অস্পষ্টতা ছিল।
‎বীথি বলেন, আমি যখন স্যারকে দ্রুত দেখার অনুরোধ করি, তিনি আমাকে ইন্টার্ন ডাক্তারদের সাথে কথা বলতে বলেন। আমি তাকে পূর্বের একটি ঘটনার উদাহরণ দিয়ে বলেছিলাম যে, এক সপ্তাহ আগে অব্যবস্থাপনার কারণে এখানে এক রোগী মারা গেছেন, তাই আমরা উদ্বিগ্ন।
‎এই কথা বলতেই তিনি উত্তেজিত হয়ে যান এবং চিৎকার শুরু করেন। আমি হাসপাতালের অব্যবস্থাপনার কথা বলায় সেখানে থাকা ইন্টার্ন ডাক্তাররা জড়ো হয়ে আমাকে অবরুদ্ধ করে ফেলে বলে বীথি জানান।
‎
‎ফাতেমা রহমান বীথি অভিযোগ করেন, ১০-১৫ জন পুরুষ ইন্টার্ন ডাক্তার তাকে ঘিরে ধরে হেনস্তা শুরু করেন। তিনি যখন ফেসবুক লাইভে যাওয়ার চেষ্টা করেন, তখন এক অজ্ঞাত ব্যক্তি তার হাত থেকে ফোন ছিনিয়ে নেয়।
‎দুইজন ইন্টার্ন ডাক্তার আমাকে জোরপূর্বক রিসিপশনের পাশের একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে মেঝেতে ফেলে দেয়। সেখানে একজন ইন্টার্ন ডাক্তার নিজেকে জেলা ছাত্রদলের নেতা পরিচয় দিয়ে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করে। হাসপাতালের মতো জায়গায় এমন সন্ত্রাসী আচরণ মেনে নেওয়া যায় না বলে তিনি অভিযোগ করেন।
‎
‎পরবর্তীতে গণসংহতি আন্দোলনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, প্রশাসন ও গণমাধ্যমকর্মীদের হস্তক্ষেপে বীথি অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত হন। এরপর হাসপাতাল পরিচালকের কক্ষে একটি সমঝোতা বৈঠক হলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
‎বীথি তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে জানান,ইন্টার্ন ডাক্তারদের দায়িত্ব সেবা দেওয়া, গুন্ডাগিরি করা নয়। হামলা বা অবরুদ্ধ করে আমাকে থামানো যাবে না। যারা চিকিৎসক পরিচয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অপসারণ চাই।
‎
‎হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ঘটনার বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযুক্ত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।