
বুধবার ১০ জুন, লক্ষীরচর ইউনিয়নে পারি ডেভেলপমেন্ট ট্রাস্ট পরিচালিত “মেকি মার্কেটস ওয়ার্ক ফর দি লাস্ট মাইল (M4L)” প্রকল্পের মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাজনীন আখতার। এই পরিদর্শনে প্রান্তিক কৃষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, পরিবেশবান্ধব কৃষির প্রসার, কৃষিভিত্তিক কালেকশন পয়েন্ট এবং সামাজিক সুরক্ষামূলক কার্যক্রমের এক অনন্য চিত্র ফুটে ওঠে। যেখানে কালেকশন পয়েন্টের মাধ্যমে আরও বড় আকারে সবজি রপ্তানির সম্ভাবনাসহ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। ইউএনও মহোদয় স্থানীয় কৃষকদের দ্বারা গঠিত সবজি কালেকশন পয়েন্ট পরিদর্শন করেন এবং ক্রয়-বিক্রয় কমিটির প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় করেন। স্থানীয় কৃষক আঃ জলিল বলেন, “কালেকশন পয়েন্টের কারণে তারা সহজে সঠিক মূল্যে সবজি বিক্রি করতে পারছেন। অত্যন্ত আনন্দের বিষয় হলো, এখান থেকে বর্তমানে বিদেশের ৩টি রাষ্ট্রে সবজি রপ্তানি হচ্ছে। তিনি মৌসুমি সবজি নষ্ট হওয়া রোধে একটি কোল্ডস্টোরেজ (হিমাগার) স্থাপনের দাবি জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কালেকশন পয়েন্টের কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন: সবজি অপচয় ও নষ্ট রোধে এই এলাকায় একটি কোল্ডস্টোর এখন সময়ের দাবি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আমি একে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবো।
কালেকশন পয়েন্ট পরিদর্শনের পাশাপাশি তিনি আরও বেশ কিছু জনকল্যাণমুখী কর্মসূচিতে অংশ নেন। রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে কেঁচো সারের প্রসার ঘটাতে আয়োজিত মাঠ দিবসে তিনি কৃষকদের উৎসাহিত করেন। প্রতিবন্ধী কৃষকদের কৃষিকাজ সহজ ও আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে তাদের মাঝে ডিজিটাল স্প্রে মেশিন বিতরণ করা হয়। শিশুদের অধিকার রক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে মূল্যবান বক্তব্য রাখেন।
উক্ত মাঠ পর্যায়ের পরিদর্শন ও বিতরণ অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো: শাহাদাৎ হোসেন, অতিরিক্ত কৃষি অফিসার ও উপসহকারী কৃষি অফিসার, পারি এমফোরএল প্রকল্পের কৃষি ও ট্রেনিং অফিসার মোঃ মোখলেছুর রহমান, লাইভলিহোড অফিসার রাজু আহম্মেদ, মার্কেট ফ্যাসিলিটেটর মোঃ এরশাদুল হক, ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর লিমা আক্তার ও সুজায়েত। উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি অফিসার বলেন, পারি ডেভেলপমেন্ট ট্রাস্টের এই প্রকল্পটি প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকদের সরাসরি বাজারের সাথে যুক্ত করতে পেরেছে, যা তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করছে। বিশেষ করে দেশের বাইরে সবজি রপ্তানির বিষয়টি গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য একটি বড় মাইলফলক।
একই সাথে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার বলেন, পারি এমফোরএল প্রকল্পের প্রতিটি মাঠ পর্যায়ের কাজে অংশগ্রহন করার সুযোগ হয়েছে। আজ প্রতিবন্ধী কৃষকদের প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান এবং শিশুদের অধিকার নিয়ে কাজ করায় সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিসহ টেকসই উন্নয়নে তারা ভূমিকা রাখছে।” সুতরাং লক্ষীরচর ইউনিয়নের কৃষকদের উৎপাদিত সবজির সঠিক মূল্য ধরে রাখতে এবং অপচয় রোধ করতে একটি কোল্ডস্টোরেজ স্থাপন করা এখন অত্যন্ত জরুরি। উপজেলা প্রশাসনের ইতিবাচক আশ্বাস এবং কৃষি ও সমাজসেবা দপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগে এই অঞ্চলটি অদূর ভবিষ্যতে একটি আদর্শ কৃষি জোনে পরিণত হবে বলে আমরা আশা করি।
মো: খোরশেদ আলম, নিজস্ব প্রতিবেদক জামালপুর। 


















