সিলেট ০২:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
News Title :
বানিয়াচংয়ে জমকালো আয়োজনে স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন শোকেসিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত‎ ‎ক্লুলেস সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার রহস্য উদঘাটন, দুই আসামি গ্রেফতার ‎নবীগঞ্জের একমাত্র আসামি তুহিন সিলেট থেকে গ্রেফতার ‎লাখাইয়ে কর্মকর্তা সাংবাদিক  মুক্তিযোদ্ধা সহ সুশীল সমাজের সাথে মতবিনিময় করেন জেলা প্রশাসক। ‎জামালপুরের দিগপাইতে ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার: হত্যা নাকি আত্মহত্যা এ নিয়ে রহস্য!‎ ‎জামালপুরে গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে  পরিকল্পনা প্রণয়ন বিষয়ক কর্মশালা  ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রামু থেকে নিখোঁজ কলেজছাত্রী টাঙ্গাইলে উদ্ধার চুনারুঘাটে মাদকবিরোধী যৌথ অভিযান: নারীকে ৬ মাসের কারাদণ্ড, জরিমানা ‎সখিপুর পৌরসভায় ৩নং ওয়ার্ডে টানা বিদ্যুৎ বিপর্যয়: চরম ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাঠ পর্যায়ের কৃষি উন্নয়নমূলক ও মানবিক কার্যক্রম পরিদর্শন

‎সিলেটের জৈন্তাপুরে মানসিক ভারসাম্যহীন নাতি ইটের আঘাতে নানি খুন।

অভিযুক্ত নাতি সুমন আহমদ।


‎সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবকের ইটের আঘাতে প্রাণ গেলো ৯০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার। সম্পর্কে তারা দুইজন নানি-নাতি।

‎নিহত ঐ বৃদ্ধার নাম আজিবুন নেছা উরফে বদলুনী বয়স আনুমানিক ৯০ বছর।

‎তিনি উপজেলার ৬ নং চিকনাগোল ইউনিয়নের ঘাটেরচটি গ্রামের মৃত সাজ্জাদ আলির স্ত্রী।

‎এ ঘটনায় ঘাতক নাতি সুমন আহমেদ (২২) কে আটক করেছে জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশ।


‎পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘাতক সুমন আহমেদ (২২) ছোট বেলায় তার মা বাবাকে হারিয়ে নানি আজিবুন নেছার লালন পালনে বড় হয়।

‎গত কয়েক পূর্বে তার মানসিক সমস্যা দেখা দিলে নানি আজিবুন নেছা নাতিকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা করান।


‎এক মাস পূর্বে সুমনকে চিকিৎসা শেষে বাড়ীতে নিয়ে আসা হয়। তার তার মানসিক সমস্যার উন্নতি না হওয়ায় তাকে ঘরে শিকলবন্দী করে রাখা হতো।

‎ঘটনার দিন শনিবার (১৮ই অক্টোবর) রাত ১১:০০ ঘটিকায় ঘাতক সুমন যে ঘরে শিকলবন্দী হয়ে থাকতো তার পাশে একটি বিছানায় নানি আজিবুন নেছা ঘুমাতেন। সেদিন রাতে নানি এসে দেখেন সুমন একটি ইট নিয়ে তালা ভাঙার চেষ্টা করছে। নানী তখন তাকে বাঁধা দিতে এগিয়ে এলে সুমন তার হাতে থাকা ইট দিয়ে নানির মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে। এ সময় ঘটনাস্থলে নানীর মৃত্যু হয়।


‎এ ঘটনার কিছুক্ষন পর বাড়ীর পাশে দিয়ে যাওয়া এক পথচারী সুমনের চিৎকার শুনতে পায়। তখন সুমন শিকল খুলে দেয়ার জন্য উচ্চস্বরে চিৎকার করছিলো। চিৎকার শুনে ওই পথচারী ঘরে গিয়ে দেখেন সুমন তার নানীর নিথর দেহের পাশে শুয়ে চিৎকার করছে। পরে স্হানীয়রা খবর পেয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানায় খবর দেয়।


‎এ বিষয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল বাসার মোহাম্মদ বদরুজ্জামান বলেন, হত্যাকান্ডের খবর পেয়ে আমি নিজে পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। তিনি আরো বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘাতক সুমনকে নিহত নানির মরদেহের পাশে শুয়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পাই। এ বিষয়ে ঘাতক সুমনের কোন অনুশোচনা লক্ষ্য করা যায় নি।

‎সে শুধু তার শিকল খুলে দেয়ার জন্য চিৎকার করছিলো।

‎তিনি আরো জানান, হত্যাকান্ডের ঘটনায় পুলিশ নাতি সুমন আহমেদকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন।  তার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে। রবিবার পুলিশ পাহারায় তাকে আদালতে প্রেরণের বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করেছেন। নিহত নানি আজিবুন নেছার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিওমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বানিয়াচংয়ে জমকালো আয়োজনে স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন শোকেসিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত‎

‎সিলেটের জৈন্তাপুরে মানসিক ভারসাম্যহীন নাতি ইটের আঘাতে নানি খুন।

সময় ০৯:১৭:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫
অভিযুক্ত নাতি সুমন আহমদ।


‎সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবকের ইটের আঘাতে প্রাণ গেলো ৯০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার। সম্পর্কে তারা দুইজন নানি-নাতি।

‎নিহত ঐ বৃদ্ধার নাম আজিবুন নেছা উরফে বদলুনী বয়স আনুমানিক ৯০ বছর।

‎তিনি উপজেলার ৬ নং চিকনাগোল ইউনিয়নের ঘাটেরচটি গ্রামের মৃত সাজ্জাদ আলির স্ত্রী।

‎এ ঘটনায় ঘাতক নাতি সুমন আহমেদ (২২) কে আটক করেছে জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশ।


‎পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘাতক সুমন আহমেদ (২২) ছোট বেলায় তার মা বাবাকে হারিয়ে নানি আজিবুন নেছার লালন পালনে বড় হয়।

‎গত কয়েক পূর্বে তার মানসিক সমস্যা দেখা দিলে নানি আজিবুন নেছা নাতিকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা করান।


‎এক মাস পূর্বে সুমনকে চিকিৎসা শেষে বাড়ীতে নিয়ে আসা হয়। তার তার মানসিক সমস্যার উন্নতি না হওয়ায় তাকে ঘরে শিকলবন্দী করে রাখা হতো।

‎ঘটনার দিন শনিবার (১৮ই অক্টোবর) রাত ১১:০০ ঘটিকায় ঘাতক সুমন যে ঘরে শিকলবন্দী হয়ে থাকতো তার পাশে একটি বিছানায় নানি আজিবুন নেছা ঘুমাতেন। সেদিন রাতে নানি এসে দেখেন সুমন একটি ইট নিয়ে তালা ভাঙার চেষ্টা করছে। নানী তখন তাকে বাঁধা দিতে এগিয়ে এলে সুমন তার হাতে থাকা ইট দিয়ে নানির মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে। এ সময় ঘটনাস্থলে নানীর মৃত্যু হয়।


‎এ ঘটনার কিছুক্ষন পর বাড়ীর পাশে দিয়ে যাওয়া এক পথচারী সুমনের চিৎকার শুনতে পায়। তখন সুমন শিকল খুলে দেয়ার জন্য উচ্চস্বরে চিৎকার করছিলো। চিৎকার শুনে ওই পথচারী ঘরে গিয়ে দেখেন সুমন তার নানীর নিথর দেহের পাশে শুয়ে চিৎকার করছে। পরে স্হানীয়রা খবর পেয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানায় খবর দেয়।


‎এ বিষয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল বাসার মোহাম্মদ বদরুজ্জামান বলেন, হত্যাকান্ডের খবর পেয়ে আমি নিজে পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। তিনি আরো বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘাতক সুমনকে নিহত নানির মরদেহের পাশে শুয়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পাই। এ বিষয়ে ঘাতক সুমনের কোন অনুশোচনা লক্ষ্য করা যায় নি।

‎সে শুধু তার শিকল খুলে দেয়ার জন্য চিৎকার করছিলো।

‎তিনি আরো জানান, হত্যাকান্ডের ঘটনায় পুলিশ নাতি সুমন আহমেদকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন।  তার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে। রবিবার পুলিশ পাহারায় তাকে আদালতে প্রেরণের বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করেছেন। নিহত নানি আজিবুন নেছার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিওমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।