সিলেট ০৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
News Title :
লাখাই মুড়িয়াউক ইউনিয়ন নির্বাচনকে সামনে রেখে জমে উঠেছে প্রচার-প্রচারণা ‎সিলেটে বাস টমটম সংঘর্ষে মা-মেয়ে নিহতের ঘটনায় ঘাতক বাস চালক গ্রেপ্তার কুলাউড়ায় নতুন আঙ্গিকে গোবিন্দাস রেস্টুরেন্ট, সাশ্রয়ী মূল্যে মিলবে তিন বেলার খাবার নিউইয়র্ক পুলিশ কর্মকর্তা জুয়েল মাহবুবের সঙ্গে স্রোত সাহিত্য পর্ষদের শুভেচ্ছা বিনিময় ‎হবিগঞ্জে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন ‎লাখাইয়ে শান্তিপূর্ণ, নির্বিঘ্নে দুর্গাপূজাঁ‎ উদযাপনের লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত।    ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অলিপুরে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী মৃত্যু হবিগঞ্জ কারাগারে মাদক মামলার এক বন্দির মৃত্যু ‎লাখাইয়ে পুলিশের উদ্যোগে মাদক ও অপরাধবিরোধী উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত শান্তিগঞ্জে প্রধান শিক্ষক সমিতির ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে সভাপতি মানিক,সম্পাদক সুধা রঞ্জন

‎সিলেটের জৈন্তাপুরে মানসিক ভারসাম্যহীন নাতি ইটের আঘাতে নানি খুন।

অভিযুক্ত নাতি সুমন আহমদ।

‎

‎সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবকের ইটের আঘাতে প্রাণ গেলো ৯০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার। সম্পর্কে তারা দুইজন নানি-নাতি।

‎নিহত ঐ বৃদ্ধার নাম আজিবুন নেছা উরফে বদলুনী বয়স আনুমানিক ৯০ বছর।

‎তিনি উপজেলার ৬ নং চিকনাগোল ইউনিয়নের ঘাটেরচটি গ্রামের মৃত সাজ্জাদ আলির স্ত্রী।

‎এ ঘটনায় ঘাতক নাতি সুমন আহমেদ (২২) কে আটক করেছে জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশ।

‎

‎পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘাতক সুমন আহমেদ (২২) ছোট বেলায় তার মা বাবাকে হারিয়ে নানি আজিবুন নেছার লালন পালনে বড় হয়।

‎গত কয়েক পূর্বে তার মানসিক সমস্যা দেখা দিলে নানি আজিবুন নেছা নাতিকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা করান।

‎

‎এক মাস পূর্বে সুমনকে চিকিৎসা শেষে বাড়ীতে নিয়ে আসা হয়। তার তার মানসিক সমস্যার উন্নতি না হওয়ায় তাকে ঘরে শিকলবন্দী করে রাখা হতো।

‎ঘটনার দিন শনিবার (১৮ই অক্টোবর) রাত ১১:০০ ঘটিকায় ঘাতক সুমন যে ঘরে শিকলবন্দী হয়ে থাকতো তার পাশে একটি বিছানায় নানি আজিবুন নেছা ঘুমাতেন। সেদিন রাতে নানি এসে দেখেন সুমন একটি ইট নিয়ে তালা ভাঙার চেষ্টা করছে। নানী তখন তাকে বাঁধা দিতে এগিয়ে এলে সুমন তার হাতে থাকা ইট দিয়ে নানির মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে। এ সময় ঘটনাস্থলে নানীর মৃত্যু হয়।

‎

‎এ ঘটনার কিছুক্ষন পর বাড়ীর পাশে দিয়ে যাওয়া এক পথচারী সুমনের চিৎকার শুনতে পায়। তখন সুমন শিকল খুলে দেয়ার জন্য উচ্চস্বরে চিৎকার করছিলো। চিৎকার শুনে ওই পথচারী ঘরে গিয়ে দেখেন সুমন তার নানীর নিথর দেহের পাশে শুয়ে চিৎকার করছে। পরে স্হানীয়রা খবর পেয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানায় খবর দেয়।

‎

‎এ বিষয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল বাসার মোহাম্মদ বদরুজ্জামান বলেন, হত্যাকান্ডের খবর পেয়ে আমি নিজে পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। তিনি আরো বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘাতক সুমনকে নিহত নানির মরদেহের পাশে শুয়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পাই। এ বিষয়ে ঘাতক সুমনের কোন অনুশোচনা লক্ষ্য করা যায় নি।

‎সে শুধু তার শিকল খুলে দেয়ার জন্য চিৎকার করছিলো।

‎তিনি আরো জানান, হত্যাকান্ডের ঘটনায় পুলিশ নাতি সুমন আহমেদকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন।  তার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে। রবিবার পুলিশ পাহারায় তাকে আদালতে প্রেরণের বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করেছেন। নিহত নানি আজিবুন নেছার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিওমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লাখাই মুড়িয়াউক ইউনিয়ন নির্বাচনকে সামনে রেখে জমে উঠেছে প্রচার-প্রচারণা

‎সিলেটের জৈন্তাপুরে মানসিক ভারসাম্যহীন নাতি ইটের আঘাতে নানি খুন।

সময় ০৯:১৭:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫
অভিযুক্ত নাতি সুমন আহমদ।

‎

‎সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবকের ইটের আঘাতে প্রাণ গেলো ৯০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার। সম্পর্কে তারা দুইজন নানি-নাতি।

‎নিহত ঐ বৃদ্ধার নাম আজিবুন নেছা উরফে বদলুনী বয়স আনুমানিক ৯০ বছর।

‎তিনি উপজেলার ৬ নং চিকনাগোল ইউনিয়নের ঘাটেরচটি গ্রামের মৃত সাজ্জাদ আলির স্ত্রী।

‎এ ঘটনায় ঘাতক নাতি সুমন আহমেদ (২২) কে আটক করেছে জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশ।

‎

‎পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘাতক সুমন আহমেদ (২২) ছোট বেলায় তার মা বাবাকে হারিয়ে নানি আজিবুন নেছার লালন পালনে বড় হয়।

‎গত কয়েক পূর্বে তার মানসিক সমস্যা দেখা দিলে নানি আজিবুন নেছা নাতিকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা করান।

‎

‎এক মাস পূর্বে সুমনকে চিকিৎসা শেষে বাড়ীতে নিয়ে আসা হয়। তার তার মানসিক সমস্যার উন্নতি না হওয়ায় তাকে ঘরে শিকলবন্দী করে রাখা হতো।

‎ঘটনার দিন শনিবার (১৮ই অক্টোবর) রাত ১১:০০ ঘটিকায় ঘাতক সুমন যে ঘরে শিকলবন্দী হয়ে থাকতো তার পাশে একটি বিছানায় নানি আজিবুন নেছা ঘুমাতেন। সেদিন রাতে নানি এসে দেখেন সুমন একটি ইট নিয়ে তালা ভাঙার চেষ্টা করছে। নানী তখন তাকে বাঁধা দিতে এগিয়ে এলে সুমন তার হাতে থাকা ইট দিয়ে নানির মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে। এ সময় ঘটনাস্থলে নানীর মৃত্যু হয়।

‎

‎এ ঘটনার কিছুক্ষন পর বাড়ীর পাশে দিয়ে যাওয়া এক পথচারী সুমনের চিৎকার শুনতে পায়। তখন সুমন শিকল খুলে দেয়ার জন্য উচ্চস্বরে চিৎকার করছিলো। চিৎকার শুনে ওই পথচারী ঘরে গিয়ে দেখেন সুমন তার নানীর নিথর দেহের পাশে শুয়ে চিৎকার করছে। পরে স্হানীয়রা খবর পেয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানায় খবর দেয়।

‎

‎এ বিষয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল বাসার মোহাম্মদ বদরুজ্জামান বলেন, হত্যাকান্ডের খবর পেয়ে আমি নিজে পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। তিনি আরো বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘাতক সুমনকে নিহত নানির মরদেহের পাশে শুয়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পাই। এ বিষয়ে ঘাতক সুমনের কোন অনুশোচনা লক্ষ্য করা যায় নি।

‎সে শুধু তার শিকল খুলে দেয়ার জন্য চিৎকার করছিলো।

‎তিনি আরো জানান, হত্যাকান্ডের ঘটনায় পুলিশ নাতি সুমন আহমেদকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন।  তার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে। রবিবার পুলিশ পাহারায় তাকে আদালতে প্রেরণের বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করেছেন। নিহত নানি আজিবুন নেছার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিওমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।