সিলেট ০৩:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
News Title :
ইয়াবা সেবনের দায়ে বাহুবলে এক ব্যক্তির ৬ মাসের কারাদণ্ড ‎স্পেনে বাইসাইকেল গ্যারেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এক বাংলাদেশীর তরুণে মৃত্যু বানিয়াচং জনাব আলী সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক অনুপ রায় এর অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা ‎মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু: বানিয়াচংয়ের বিদায়ী ইউএনও কে সংবর্ধনা প্রদান। ‎গোয়াইনঘাটে নজরুল বিষয়ক জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন হবিগঞ্জে সংরক্ষিত বন থেকে বাঁশ পাচার, মিনি ট্রাক জব্দ ‎প্রশাসন ক্যাডারের ২৭ উপসচিবকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পদায়ন ‎বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ইন স্পেনের আংশিক কমিটি ঘোষণা, সভাপতি বকুল খান সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান ‎বানিয়াচংয়ে ফুটবল খেলা নিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষ।। আহত শতাধিক: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের টিয়ারশেল ‎হবিগঞ্জ সীমান্তে চোরাকারবারিদের গুলিতে বাংলাদেশি এক যুবক নিহত: বিজিবি‎

‎সিলেটের জৈন্তাপুরে মানসিক ভারসাম্যহীন নাতি ইটের আঘাতে নানি খুন।

অভিযুক্ত নাতি সুমন আহমদ।


‎সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবকের ইটের আঘাতে প্রাণ গেলো ৯০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার। সম্পর্কে তারা দুইজন নানি-নাতি।

‎নিহত ঐ বৃদ্ধার নাম আজিবুন নেছা উরফে বদলুনী বয়স আনুমানিক ৯০ বছর।

‎তিনি উপজেলার ৬ নং চিকনাগোল ইউনিয়নের ঘাটেরচটি গ্রামের মৃত সাজ্জাদ আলির স্ত্রী।

‎এ ঘটনায় ঘাতক নাতি সুমন আহমেদ (২২) কে আটক করেছে জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশ।


‎পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘাতক সুমন আহমেদ (২২) ছোট বেলায় তার মা বাবাকে হারিয়ে নানি আজিবুন নেছার লালন পালনে বড় হয়।

‎গত কয়েক পূর্বে তার মানসিক সমস্যা দেখা দিলে নানি আজিবুন নেছা নাতিকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা করান।


‎এক মাস পূর্বে সুমনকে চিকিৎসা শেষে বাড়ীতে নিয়ে আসা হয়। তার তার মানসিক সমস্যার উন্নতি না হওয়ায় তাকে ঘরে শিকলবন্দী করে রাখা হতো।

‎ঘটনার দিন শনিবার (১৮ই অক্টোবর) রাত ১১:০০ ঘটিকায় ঘাতক সুমন যে ঘরে শিকলবন্দী হয়ে থাকতো তার পাশে একটি বিছানায় নানি আজিবুন নেছা ঘুমাতেন। সেদিন রাতে নানি এসে দেখেন সুমন একটি ইট নিয়ে তালা ভাঙার চেষ্টা করছে। নানী তখন তাকে বাঁধা দিতে এগিয়ে এলে সুমন তার হাতে থাকা ইট দিয়ে নানির মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে। এ সময় ঘটনাস্থলে নানীর মৃত্যু হয়।


‎এ ঘটনার কিছুক্ষন পর বাড়ীর পাশে দিয়ে যাওয়া এক পথচারী সুমনের চিৎকার শুনতে পায়। তখন সুমন শিকল খুলে দেয়ার জন্য উচ্চস্বরে চিৎকার করছিলো। চিৎকার শুনে ওই পথচারী ঘরে গিয়ে দেখেন সুমন তার নানীর নিথর দেহের পাশে শুয়ে চিৎকার করছে। পরে স্হানীয়রা খবর পেয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানায় খবর দেয়।


‎এ বিষয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল বাসার মোহাম্মদ বদরুজ্জামান বলেন, হত্যাকান্ডের খবর পেয়ে আমি নিজে পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। তিনি আরো বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘাতক সুমনকে নিহত নানির মরদেহের পাশে শুয়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পাই। এ বিষয়ে ঘাতক সুমনের কোন অনুশোচনা লক্ষ্য করা যায় নি।

‎সে শুধু তার শিকল খুলে দেয়ার জন্য চিৎকার করছিলো।

‎তিনি আরো জানান, হত্যাকান্ডের ঘটনায় পুলিশ নাতি সুমন আহমেদকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন।  তার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে। রবিবার পুলিশ পাহারায় তাকে আদালতে প্রেরণের বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করেছেন। নিহত নানি আজিবুন নেছার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিওমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইয়াবা সেবনের দায়ে বাহুবলে এক ব্যক্তির ৬ মাসের কারাদণ্ড

‎সিলেটের জৈন্তাপুরে মানসিক ভারসাম্যহীন নাতি ইটের আঘাতে নানি খুন।

সময় ০৯:১৭:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫
অভিযুক্ত নাতি সুমন আহমদ।


‎সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবকের ইটের আঘাতে প্রাণ গেলো ৯০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার। সম্পর্কে তারা দুইজন নানি-নাতি।

‎নিহত ঐ বৃদ্ধার নাম আজিবুন নেছা উরফে বদলুনী বয়স আনুমানিক ৯০ বছর।

‎তিনি উপজেলার ৬ নং চিকনাগোল ইউনিয়নের ঘাটেরচটি গ্রামের মৃত সাজ্জাদ আলির স্ত্রী।

‎এ ঘটনায় ঘাতক নাতি সুমন আহমেদ (২২) কে আটক করেছে জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশ।


‎পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘাতক সুমন আহমেদ (২২) ছোট বেলায় তার মা বাবাকে হারিয়ে নানি আজিবুন নেছার লালন পালনে বড় হয়।

‎গত কয়েক পূর্বে তার মানসিক সমস্যা দেখা দিলে নানি আজিবুন নেছা নাতিকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা করান।


‎এক মাস পূর্বে সুমনকে চিকিৎসা শেষে বাড়ীতে নিয়ে আসা হয়। তার তার মানসিক সমস্যার উন্নতি না হওয়ায় তাকে ঘরে শিকলবন্দী করে রাখা হতো।

‎ঘটনার দিন শনিবার (১৮ই অক্টোবর) রাত ১১:০০ ঘটিকায় ঘাতক সুমন যে ঘরে শিকলবন্দী হয়ে থাকতো তার পাশে একটি বিছানায় নানি আজিবুন নেছা ঘুমাতেন। সেদিন রাতে নানি এসে দেখেন সুমন একটি ইট নিয়ে তালা ভাঙার চেষ্টা করছে। নানী তখন তাকে বাঁধা দিতে এগিয়ে এলে সুমন তার হাতে থাকা ইট দিয়ে নানির মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে। এ সময় ঘটনাস্থলে নানীর মৃত্যু হয়।


‎এ ঘটনার কিছুক্ষন পর বাড়ীর পাশে দিয়ে যাওয়া এক পথচারী সুমনের চিৎকার শুনতে পায়। তখন সুমন শিকল খুলে দেয়ার জন্য উচ্চস্বরে চিৎকার করছিলো। চিৎকার শুনে ওই পথচারী ঘরে গিয়ে দেখেন সুমন তার নানীর নিথর দেহের পাশে শুয়ে চিৎকার করছে। পরে স্হানীয়রা খবর পেয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানায় খবর দেয়।


‎এ বিষয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল বাসার মোহাম্মদ বদরুজ্জামান বলেন, হত্যাকান্ডের খবর পেয়ে আমি নিজে পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। তিনি আরো বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘাতক সুমনকে নিহত নানির মরদেহের পাশে শুয়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পাই। এ বিষয়ে ঘাতক সুমনের কোন অনুশোচনা লক্ষ্য করা যায় নি।

‎সে শুধু তার শিকল খুলে দেয়ার জন্য চিৎকার করছিলো।

‎তিনি আরো জানান, হত্যাকান্ডের ঘটনায় পুলিশ নাতি সুমন আহমেদকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন।  তার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে। রবিবার পুলিশ পাহারায় তাকে আদালতে প্রেরণের বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করেছেন। নিহত নানি আজিবুন নেছার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিওমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।