
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সাহেবনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে রাস্তায় একটি টমটমের নিচে পিষ্ট হয়ে মারা গেছে বিরল প্রজাতির একটি গিরগিটি। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে।
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে বন্যপ্রাণী প্রেমীদের মধ্যে দুঃখ ও ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।
সীমান্তবর্তী কমলপুর গ্রামটি জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ। প্রায়ই এখানে দেখা যায় গিরগিটি, কাঠবিড়ালি, তক্ষক, বেজি, মেছো বিড়াল ও গন্ধগোকুলের মতো প্রাণী। তবে স্থানীয়রা জানান, অনেক সময় শিশু-কিশোররা অবহেলাবশত এসব প্রাণী হত্যা করে থাকে।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা মনে করছেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন সম্পর্কে গ্রামীণ এলাকায় আরও প্রচারণা ও সচেতনতা দরকার।
স্থানীয় পাখি প্রেমিক সংগঠন ‘পাখি প্রেমিক সোসাইটি’-এর যুগ্ম আহবায়ক বিশ্বজিৎ পাল বলেন, “স্থানীয় এক টমটম চালক অসাবধানতাবশত গিরগিটিটিকে পিষ্ট করেছে। পরে সে অনুশোচনাও করেনি। আমাদের এসব বিষয়ে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।”
হবিগঞ্জ বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়ের জীববৈচিত্র্য কর্মকর্তা সাবরিনা সিমু বলেন,
“গিরগিটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এদের অবহেলায় হত্যা করা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।”
অন্যদিকে, সিলেট অঞ্চলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবুল কালাম জানান,
“গিরগিটি একটি নিরীহ সরীসৃপ, যা রং পরিবর্তনের ক্ষমতার জন্য পরিচিত। এটি কীটপতঙ্গ খেয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই এদের সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন,“বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী গিরগিটি হত্যা, বিক্রি, পালন বা সংরক্ষণ করা দণ্ডনীয় অপরাধ।
এসব অপরাধের জন্য কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।”
ফরাস উদ্দিন 



















