সিলেট ০৮:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
News Title :
কমরেড সুমন ও কমরেড সুইটের ২৪তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত: সমাধিতে বাসদ নেতৃবৃন্দের শ্রদ্ধা‎ এনায়েত উল্লাাহ আব্বাসী’র মানহানিকর বক্তব্য ও সাংবাদিক হত্যার প্রতিবাদে সিসকপ’র মানববন্ধন!  ‎করাব ইউনিয়নে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী যুবদল নেতা মাহবুব আলম মালু বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ৫৫তম শাহাদাত বার্ষিকী আজ মৌলভীবাজারে পিকআপসহ চারজন আটক, চুরি হওয়া দুই গাভী উদ্ধার ‎মিষ্টির আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হতে যাচ্ছেন এলিজা জামান পদ্ম হাতে “তুমি আসবে বলেই তো অপেক্ষাটা এত সুন্দর” প্রধান শিক্ষক তন্নী রহমানের ফেসবুক পোস্ট ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা‎ গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাব সম্পাদক কে.এম. লিমনকে গ্রাম পুলিশের সংবর্ধনা ‎সিলেটের গোয়াইনঘাটে যুবদল নেতা বদরুল হত্যা: দিরাই থেকে ২ আসামি গ্রেফতার মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের রুট কক্সবাজার পর্যন্ত বর্ধিতকরণের শুভ উদ্বোধন
অনিয়ম দূর্নীতির বিরুদ্ধে শিক্ষকের অভিযোগ...

‎গোয়াইনঘাটের সরকারি বেসরকারি অফিসে অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে খোলা চিঠি।

শিক্ষক রুহুল আমীন (ফাইল ছবি)

‎

‎সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর একটি খোলা চিঠি পাঠিয়েছেন স্থানীয় একজন শিক্ষক।

‎তিনি চিঠিতে দুর্নীতির মহোৎসব, স্বাস্থ্যসেবার করুণ দশা, নাজুক যোগাযোগ ব্যবস্থা, চোরাচালান, এবং চাঁদাবাজির মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।

‎

‎দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য ও স্বাস্থ্যসেবার বেহাল দশা

‎চিঠিতে শিক্ষক মোঃ রুহুল আমিন অভিযোগ করেন, গোয়াইনঘাটের প্রতিটি সরকারি অফিসে দুর্নীতির ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে।

‎বিশেষ করে ভূমি অফিস, সাব-রেজিস্ট্রার অফিস,ইউনিয়ন ভূমি অফিস, এবং নির্বাচন অফিসের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে।

‎একমাত্র উপজেলা হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসক নেই, যার ফলে সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

‎

‎যোগাযোগ ব্যবস্থার দুরবস্থার কারনে পর্যটন খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ায়,পর্যটন খ্যাত এলাকা হওয়া সত্ত্বেও গোয়াইনঘাটের যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই খারাপ বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

‎

‎বিশেষ করে সিলেট-সালুটিকর-গোয়াইনঘাট এবং হাদারপাড়-বিছনাকান্দি রাস্তার বেহাল দশার কারণে পর্যটকদের যাতায়াতে ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে।

‎এই কারণে বিছনাকান্দি থেকে পর্যটকরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে, যা পুরো এলাকার জন্য লজ্জাজনক। এবং এলাকার ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। চোরাচালানের কাজে ব্যবহৃত দ্রুতগতির পিকআপ ও অবৈধ ট্রাক্টরের কারণে সড়ক দুর্ঘটনাও বেড়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

‎

‎চিঠিতে বলা হয়েছে, এই উপজেলার সীমান্তগুলো চোরাচালানের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। বিজিবি, পুলিশ এবং দালালদের যোগসাজশে ভারতীয় অবৈধ মালামালের চোরাচালান চলছে। রয়্যালটির নামে নৌপথে অতিরিক্ত চাঁদাবাজির অভিযোগও আনা হয়েছে।

‎শ্রমিকদের দুর্ভোগ এবং বিত্তবানদের উত্থান

‎পাথর কোয়ারি বন্ধ থাকায় হাজার হাজার শ্রমিক মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা জরুরি বলে চিঠিতে দাবি করা হয়েছে।

‎অন্যদিকে, কিছু ব্যক্তি কোয়ারিকে পুঁজি করে শ্রমিকদের দুর্দশার সুযোগ নিয়ে রাতারাতি হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছেন।

‎চিঠিতে সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) বিরুদ্ধেও দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।

‎শিক্ষক রুহুল আমিন আশা প্রকাশ করেন, জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের সততা ও কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে গোয়াইনঘাটের এই সমস্যার সমাধান হবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।

‎

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কমরেড সুমন ও কমরেড সুইটের ২৪তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত: সমাধিতে বাসদ নেতৃবৃন্দের শ্রদ্ধা‎

অনিয়ম দূর্নীতির বিরুদ্ধে শিক্ষকের অভিযোগ...

‎গোয়াইনঘাটের সরকারি বেসরকারি অফিসে অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে খোলা চিঠি।

সময় ১০:৪৩:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
শিক্ষক রুহুল আমীন (ফাইল ছবি)

‎

‎সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর একটি খোলা চিঠি পাঠিয়েছেন স্থানীয় একজন শিক্ষক।

‎তিনি চিঠিতে দুর্নীতির মহোৎসব, স্বাস্থ্যসেবার করুণ দশা, নাজুক যোগাযোগ ব্যবস্থা, চোরাচালান, এবং চাঁদাবাজির মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।

‎

‎দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য ও স্বাস্থ্যসেবার বেহাল দশা

‎চিঠিতে শিক্ষক মোঃ রুহুল আমিন অভিযোগ করেন, গোয়াইনঘাটের প্রতিটি সরকারি অফিসে দুর্নীতির ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে।

‎বিশেষ করে ভূমি অফিস, সাব-রেজিস্ট্রার অফিস,ইউনিয়ন ভূমি অফিস, এবং নির্বাচন অফিসের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে।

‎একমাত্র উপজেলা হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসক নেই, যার ফলে সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

‎

‎যোগাযোগ ব্যবস্থার দুরবস্থার কারনে পর্যটন খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ায়,পর্যটন খ্যাত এলাকা হওয়া সত্ত্বেও গোয়াইনঘাটের যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই খারাপ বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

‎

‎বিশেষ করে সিলেট-সালুটিকর-গোয়াইনঘাট এবং হাদারপাড়-বিছনাকান্দি রাস্তার বেহাল দশার কারণে পর্যটকদের যাতায়াতে ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে।

‎এই কারণে বিছনাকান্দি থেকে পর্যটকরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে, যা পুরো এলাকার জন্য লজ্জাজনক। এবং এলাকার ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। চোরাচালানের কাজে ব্যবহৃত দ্রুতগতির পিকআপ ও অবৈধ ট্রাক্টরের কারণে সড়ক দুর্ঘটনাও বেড়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

‎

‎চিঠিতে বলা হয়েছে, এই উপজেলার সীমান্তগুলো চোরাচালানের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। বিজিবি, পুলিশ এবং দালালদের যোগসাজশে ভারতীয় অবৈধ মালামালের চোরাচালান চলছে। রয়্যালটির নামে নৌপথে অতিরিক্ত চাঁদাবাজির অভিযোগও আনা হয়েছে।

‎শ্রমিকদের দুর্ভোগ এবং বিত্তবানদের উত্থান

‎পাথর কোয়ারি বন্ধ থাকায় হাজার হাজার শ্রমিক মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা জরুরি বলে চিঠিতে দাবি করা হয়েছে।

‎অন্যদিকে, কিছু ব্যক্তি কোয়ারিকে পুঁজি করে শ্রমিকদের দুর্দশার সুযোগ নিয়ে রাতারাতি হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছেন।

‎চিঠিতে সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) বিরুদ্ধেও দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।

‎শিক্ষক রুহুল আমিন আশা প্রকাশ করেন, জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের সততা ও কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে গোয়াইনঘাটের এই সমস্যার সমাধান হবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।

‎