সিলেট ১২:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
News Title :
‎জাতীয় উশু প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হবিগঞ্জের আনাছ বিকেএসপিতে প্রশিক্ষণের সুযোগ ‘লন্ডনে জাঁকজমকপূর্ণভাবে মর্যাদাপূর্ণ বিসিএ’র‎ ১৯তম বার্ষিক এওয়ার্ডস ও গালা ডিনার অনুষ্ঠিত ‎বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দল সিলেট জেলার (আংশিক) কমিটি অনুমোদন ‘বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা বহু জ্ঞানী পণ্ডিতদের জন্ম দিয়েছে, এখন উদ্ভাবকদেরকেও জন্ম দিতে হবে।’ জিনবিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরী সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ও ওরিয়েন্টেশন উদযাপন ‎মৌলভীবাজারে মহিষ ডাকাতির ঘটনায় ডাকাত সর্দারসহ গ্রেপ্তার ৫ ‎মাধবপুরে কাভার্ড ভ্যানসহ ১ কোটি ৮ লাখ টাকার ভারতীয় জিরা ও মেহেদি জব্দ বালাগঞ্জে চাচা হত্যা মামলার ৩ আসামিকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ‎জামালপুরে দৈনিক ‘অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’- পত্রিকার প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত ‎বড়লেখায় বাংলা কিউআর সম্প্রসারণ বিষয়ক সচেতনতা মূলক সভা অনুষ্ঠিত।

‘লন্ডনে জাঁকজমকপূর্ণভাবে মর্যাদাপূর্ণ বিসিএ’র‎ ১৯তম বার্ষিক এওয়ার্ডস ও গালা ডিনার অনুষ্ঠিত

গণতন্ত্রের মাতৃভূমি নামে খ্যাত মাল্টি ন্যাশনাল ও  মাল্টিকালচারাল ও মাল্টিমিডিয়ার বৃটেনের মাটিতে ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ ক্যাটারার্স এসোসিয়েশন (বিসিএ) মর্যাদাপূর্ণ ১৯তম বার্ষিক এওয়ার্ডস ও গালা ডিনার ২০২৬ যুক্তরাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় খাদ্য খাতের এক বিশাল উদযাপনকে ঘিরে গত রবিবার ১ নভেম্বর, হাজার ও লোকের উপস্থিতিতে  সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
‎
সৌহার্দ্যপূর্ণ,বন্ধুত্ব, সদ্ভাব, আন্তরিকতা, প্রীতি ও ভালো সম্পর্ক,মৈত্রী, সম্প্রীতি, হৃদ্যতা, প্রীতি, সদ্ভাব। পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব, সকল শ্রেণী পেশায় বাঙালিয়ানা আত্মীয়তায় ভরপুর ছিলো টকটিভির সম্প্রচারক ইয়ান কলিন্স এবং একাধিক পুরস্কারজয়ী সংবাদ উপস্থাপক ও সাংবাদিক আনিলা ধামির প্রাণবন্ত  উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠান কারি শিল্পের এক মিলনমেলায় পরিনত হয়েছে।

বাংলাদেশ ক্যাটারার্স এসোসিয়েশন (বিসিএ) প্রেসিডেন্ট বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী ওলি খাঁন এমবিইর স্বাগত বক্তব্যের পর একে একে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত, সীমা মালহোত্রা এমপি, কেভিন বোনাভিয়া এমপি, রুপা হক এমপি, স্যার জেমস ক্লেভারলি এমপি, ড্যানিয়েল জেইচনার এমপি, লর্ড করণ বিলিমোরিয়া, লর্ড কোরবান হোসেন এবং লর্ড রামি রেঞ্জার সিবিই, বিসিএর সেক্রেটারি জেনারেল টিপু রহমান, বিসিএর ট্রেজারার ফয়জুল হক, অ্যাওয়ার্ডস কমিটির আহ্বায়ক ও সেলিব্রিটি শেফ আতিক রহমান এমবিই, প্রেস ও পাবলিকেশনস সেক্রেটারি নাজ ইসলাম সহ নানা শেণি পেশার বিশিষ্টজনরা বক্তব্য রাখেন এবং এওয়ার্ডস প্রাপ্তদের হাতে ক্রেষ্ট ও সাটিফিকেট তুলে দেন।

‎বিসিএর প্রেসিডেন্ট ওলি খাঁন এমবিই বলেন, রবিবার ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ক্যাটারিং ও হসপিটালিটি শিল্পের এত মানুষকে একসাথে দেখতে পাওয়াটা ছিল দারুণ এক অভিজ্ঞতা। এই অ্যাওয়ার্ডস কেবল শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি দেওয়ার জন্যই নয়, বরং আমাদের এই শিল্পকে যারা এতটা বিশেষ করে তুলেছেন—সেইসব মানুষ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং আমাদের যৌথ ঐতিহ্যকে উদযাপন করারও একটি উপলক্ষ। আমাদের সকল বিজয়ীদের অভিনন্দন, যাদের অর্জন এই খাতকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিভারই প্রমাণ দেয়।

সেক্রেটারি জেনারেল টিপু রহমান বলেন,আমাদের শিল্পে যারা উচ্চমান স্থাপন করছেন, সেইসব রেস্তোরাঁ এবং মানুষদের স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য এই অ্যাওয়ার্ডস একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। রবিবারের অনুষ্ঠানটি ছিল একটি চমৎকার উদযাপন, যা সহকর্মীদের নিজেদের অর্জনগুলো ভাগ করে নিতে এবং যুক্তরাজ্য জুড়ে বিভিন্ন কমিউনিটিতে বাংলাদেশি হসপিটালিটি খাতের অব্যাহত অবদানকে স্বীকৃতি দিতে একত্রিত করেছে। আমরা আশা করি এ বছরের বিজয়ীরা তাদের অর্জনের জন্য গর্ববোধ করবেন।
‎
‎ট্রেজারার  ফয়জুল হক বলেন, প্রতিটি সফল রেস্তোরাঁর পেছনে থাকেন একজন ব্যবসায়ী এবং একটি কর্মীদল, যারা কর্মসংস্থান তৈরি করছেন, সরবরাহকারীদের সহায়তা করছেন এবং স্থানীয় বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে (হাই স্ট্রিট) অবদান রাখছেন। এই অ্যাওয়ার্ডস সেই কঠোর পরিশ্রম এবং আমাদের শিল্পকে সচল রাখা উদ্যোক্তা মনোভাবের ওপর আলোকপাত করে। রবিবারের গালা অনুষ্ঠানে একসাথে বসে সেই অর্জনগুলো উদযাপন করতে পারা এবং যেসব ব্যবসার অবদান কেবল ডাইনিং রুমের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নয়, তাদের স্বীকৃতি দিতে পারাটা ছিল বিশেষভাবে আনন্দদায়ক।

প্রেস ও পাবলিকেশনস সেক্রেটারি নাজ ইসলাম বলেন, ব্রিটেনে বাংলাদেশি রন্ধনশিল্পকে যারা গড়ে তুলেছেন, তাদের মানুষ, গল্প এবং ঐতিহ্যের এক যথার্থ উদযাপন ছিল এই সন্ধ্যাটি। প্রতিষ্ঠিত নামের পাশাপাশি উদীয়মান প্রতিভাদের একসাথে স্বীকৃতি পেতে দেখা এবং পুরো শিল্পকে একত্রিত করে এর অর্জনগুলো উদযাপন করা ছিল অত্যন্ত আনন্দের। বিসিএ ৬৬ বছর ধরে এই কমিউনিটির হয়ে কাজ করছে, আর আমাদের বিজয়ীদের সাফল্যের কথা তুলে ধরা এরই গল্প বলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
‎
‎বিসিএ অ্যাওয়ার্ডস কমিটির আহ্বায়ক ও সেলিব্রিটি শেফ আতিক রহমান এমবিই যোগ করেন, এটি ছিল একটি চমৎকার সন্ধ্যা এবং ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ক্যাটারিং ও হসপিটালিটি শিল্পের এত মানুষকে একত্রিত করতে পারাটা সত্যিই সৌভাগ্যের বিষয়। এই অ্যাওয়ার্ডস আমাদের যৌথ ঐতিহ্যকে উদযাপন করে, ব্রিটেনে আমাদের শিল্পের অসামান্য অবদানকে তুলে ধরে এবং পরবর্তী প্রজন্মকে এটি সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে।
‎
‎বৃটেন থেকে সাংবাদিক মোহাম্মদ মকিস মনসুর জানান, রেস্টুরেন্ট অব দ্য ইয়ার’ ১২টি অঞ্চল থেকে ৪৮টি রেস্টুরেন্টকে এওয়ার্ড তুলে দেওয়া হয়েছে । এছাড়া ব্রিটিশ বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট ও হসপিটালিটি খাতের উদ্যোক্তা, শেফ, ব্যবসায়ী এবং শিল্পসংশ্লিষ্ট বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ভিন্ন বিভাগে এওয়ার্ড তুলে দেওয়া হয়েছে ।
‎
অনুষ্ঠানে বিশেষ সম্মাননা বা ‘বিসিএ অনার্স অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয় এমপি কেভিন বোনাভিয়া, ব্রিক লেনের উদ্যোক্তা আবদুল জব্বার এবং মানবাধিকারকর্মী ড. নাজিয়া খানম ওবিইকে। জনসেবা, ব্যবসা এবং কমিউনিটির প্রতি তাঁদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ
‎এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
‎
‎টিকিট সম্পূর্ণ বিক্রি হয়ে যাওয়া ১৯তম বার্ষিক বাংলাদেশ ক্যাটারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএ) এওয়ার্ডসে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি হসপিটালিটি বা আতিথেয়তা খাতের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্বরা একত্রিত হন। এই আয়োজনের মাধ্যমে সেইসব রেস্তোরাঁ, শেফ, উদ্যোক্তা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, যারা এই শিল্পকে এগিয়ে নিতে এবং কারির প্রতি ব্রিটেনের মানুষের ভালোবাসা অটুট রাখতে নিষ্টা ও নিরলসভাবে কাজ করে আসছে।
‎
‎লন্ডনের পার্ক প্লাজা ওয়েস্টমিনস্টার ব্রিজ হোটেলে অনুষ্ঠিত এই মর্যাদাপূর্ণ গালা ডিনারটি ছিল রন্ধনশিল্পের উৎকর্ষ এবং এই শিল্পের পেছনের মানুষ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অনন্য উদযাপন—যে শিল্প হাজারো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রাখছে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে এবং দেশজুড়ে বিভিন্ন কমিউনিটিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
‎
‎এই আয়োজনকে ঘিরে রাজা তৃতীয় চার্লস এবং প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম শুভেচ্ছা ও সমর্থন বার্তা পাঠিয়েছেন, যা অনুষ্ঠানের অফিশিয়াল ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে। বাকিংহাম প্যালেস থেকে পাঠানো বার্তায় রাজা এই অ্যাওয়ার্ডসের প্রশংসা করেন এবং অনুষ্ঠানের সাফল্য কামনা করেন। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর বার্তায় সম্মাননাপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানানো হয় এবং ব্রিটেনের অর্থনীতি ও স্থানীয় কমিউনিটিতে বাংলাদেশি হসপিটালিটি ব্যবসাগুলোর অবদানের কথা স্বীকার করা হয়।
‎
‎জাঁকজমকপূর্ণভাবে মর্যাদাপূর্ণ বিসিএ’র১৯তম বার্ষিক এওয়ার্ডস ও গালা ডিনারপার্টিতে আগতরা বাংলাদেশি কমিউনিটির এই দীর্ঘ পথচলা, অর্জন ও সাফল্য সত্যিই গর্বের বলে উল্লেখ করে বিসিএ’র প্রেসিডেন্ট ওলি খান এমবিই, জেনারেল সেক্রেটারি টিপু রহমান এবং ট্রেজারার ফয়জুল ইসলামের গতিশীল নেতৃত্বে সংগঠনটি তার গৌরবময় ঐতিহ্যকে সমুন্নত রেখে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ব্রিটেনে বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিত্ব করে যাবে বলে এই প্রত্যাশা ব্যাক্ত করেছেন।
‎
‎উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ক্যাটারার্স অ্যাসোসিয়েশন ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ৬৫ বছরের গৌরবময় ঐতিহ্যবাহী এই সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে ব্রিটেনের মূলধারায় ১২ হাজার বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট ও ক্যাটারিং শিল্পের প্রতিনিধিত্ব করে আসছে। একই সঙ্গে ব্রিটিশ অর্থনীতিতে বাংলাদেশি কমিউনিটির গুরুত্বপূর্ণ অবদান তুলে ধরতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।
‎

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎জাতীয় উশু প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হবিগঞ্জের আনাছ বিকেএসপিতে প্রশিক্ষণের সুযোগ

‘লন্ডনে জাঁকজমকপূর্ণভাবে মর্যাদাপূর্ণ বিসিএ’র‎ ১৯তম বার্ষিক এওয়ার্ডস ও গালা ডিনার অনুষ্ঠিত

সময় ০৮:৫৬:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

গণতন্ত্রের মাতৃভূমি নামে খ্যাত মাল্টি ন্যাশনাল ও  মাল্টিকালচারাল ও মাল্টিমিডিয়ার বৃটেনের মাটিতে ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ ক্যাটারার্স এসোসিয়েশন (বিসিএ) মর্যাদাপূর্ণ ১৯তম বার্ষিক এওয়ার্ডস ও গালা ডিনার ২০২৬ যুক্তরাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় খাদ্য খাতের এক বিশাল উদযাপনকে ঘিরে গত রবিবার ১ নভেম্বর, হাজার ও লোকের উপস্থিতিতে  সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
‎
সৌহার্দ্যপূর্ণ,বন্ধুত্ব, সদ্ভাব, আন্তরিকতা, প্রীতি ও ভালো সম্পর্ক,মৈত্রী, সম্প্রীতি, হৃদ্যতা, প্রীতি, সদ্ভাব। পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব, সকল শ্রেণী পেশায় বাঙালিয়ানা আত্মীয়তায় ভরপুর ছিলো টকটিভির সম্প্রচারক ইয়ান কলিন্স এবং একাধিক পুরস্কারজয়ী সংবাদ উপস্থাপক ও সাংবাদিক আনিলা ধামির প্রাণবন্ত  উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠান কারি শিল্পের এক মিলনমেলায় পরিনত হয়েছে।

বাংলাদেশ ক্যাটারার্স এসোসিয়েশন (বিসিএ) প্রেসিডেন্ট বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী ওলি খাঁন এমবিইর স্বাগত বক্তব্যের পর একে একে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত, সীমা মালহোত্রা এমপি, কেভিন বোনাভিয়া এমপি, রুপা হক এমপি, স্যার জেমস ক্লেভারলি এমপি, ড্যানিয়েল জেইচনার এমপি, লর্ড করণ বিলিমোরিয়া, লর্ড কোরবান হোসেন এবং লর্ড রামি রেঞ্জার সিবিই, বিসিএর সেক্রেটারি জেনারেল টিপু রহমান, বিসিএর ট্রেজারার ফয়জুল হক, অ্যাওয়ার্ডস কমিটির আহ্বায়ক ও সেলিব্রিটি শেফ আতিক রহমান এমবিই, প্রেস ও পাবলিকেশনস সেক্রেটারি নাজ ইসলাম সহ নানা শেণি পেশার বিশিষ্টজনরা বক্তব্য রাখেন এবং এওয়ার্ডস প্রাপ্তদের হাতে ক্রেষ্ট ও সাটিফিকেট তুলে দেন।

‎বিসিএর প্রেসিডেন্ট ওলি খাঁন এমবিই বলেন, রবিবার ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ক্যাটারিং ও হসপিটালিটি শিল্পের এত মানুষকে একসাথে দেখতে পাওয়াটা ছিল দারুণ এক অভিজ্ঞতা। এই অ্যাওয়ার্ডস কেবল শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি দেওয়ার জন্যই নয়, বরং আমাদের এই শিল্পকে যারা এতটা বিশেষ করে তুলেছেন—সেইসব মানুষ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং আমাদের যৌথ ঐতিহ্যকে উদযাপন করারও একটি উপলক্ষ। আমাদের সকল বিজয়ীদের অভিনন্দন, যাদের অর্জন এই খাতকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিভারই প্রমাণ দেয়।

সেক্রেটারি জেনারেল টিপু রহমান বলেন,আমাদের শিল্পে যারা উচ্চমান স্থাপন করছেন, সেইসব রেস্তোরাঁ এবং মানুষদের স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য এই অ্যাওয়ার্ডস একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। রবিবারের অনুষ্ঠানটি ছিল একটি চমৎকার উদযাপন, যা সহকর্মীদের নিজেদের অর্জনগুলো ভাগ করে নিতে এবং যুক্তরাজ্য জুড়ে বিভিন্ন কমিউনিটিতে বাংলাদেশি হসপিটালিটি খাতের অব্যাহত অবদানকে স্বীকৃতি দিতে একত্রিত করেছে। আমরা আশা করি এ বছরের বিজয়ীরা তাদের অর্জনের জন্য গর্ববোধ করবেন।
‎
‎ট্রেজারার  ফয়জুল হক বলেন, প্রতিটি সফল রেস্তোরাঁর পেছনে থাকেন একজন ব্যবসায়ী এবং একটি কর্মীদল, যারা কর্মসংস্থান তৈরি করছেন, সরবরাহকারীদের সহায়তা করছেন এবং স্থানীয় বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে (হাই স্ট্রিট) অবদান রাখছেন। এই অ্যাওয়ার্ডস সেই কঠোর পরিশ্রম এবং আমাদের শিল্পকে সচল রাখা উদ্যোক্তা মনোভাবের ওপর আলোকপাত করে। রবিবারের গালা অনুষ্ঠানে একসাথে বসে সেই অর্জনগুলো উদযাপন করতে পারা এবং যেসব ব্যবসার অবদান কেবল ডাইনিং রুমের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নয়, তাদের স্বীকৃতি দিতে পারাটা ছিল বিশেষভাবে আনন্দদায়ক।

প্রেস ও পাবলিকেশনস সেক্রেটারি নাজ ইসলাম বলেন, ব্রিটেনে বাংলাদেশি রন্ধনশিল্পকে যারা গড়ে তুলেছেন, তাদের মানুষ, গল্প এবং ঐতিহ্যের এক যথার্থ উদযাপন ছিল এই সন্ধ্যাটি। প্রতিষ্ঠিত নামের পাশাপাশি উদীয়মান প্রতিভাদের একসাথে স্বীকৃতি পেতে দেখা এবং পুরো শিল্পকে একত্রিত করে এর অর্জনগুলো উদযাপন করা ছিল অত্যন্ত আনন্দের। বিসিএ ৬৬ বছর ধরে এই কমিউনিটির হয়ে কাজ করছে, আর আমাদের বিজয়ীদের সাফল্যের কথা তুলে ধরা এরই গল্প বলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
‎
‎বিসিএ অ্যাওয়ার্ডস কমিটির আহ্বায়ক ও সেলিব্রিটি শেফ আতিক রহমান এমবিই যোগ করেন, এটি ছিল একটি চমৎকার সন্ধ্যা এবং ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ক্যাটারিং ও হসপিটালিটি শিল্পের এত মানুষকে একত্রিত করতে পারাটা সত্যিই সৌভাগ্যের বিষয়। এই অ্যাওয়ার্ডস আমাদের যৌথ ঐতিহ্যকে উদযাপন করে, ব্রিটেনে আমাদের শিল্পের অসামান্য অবদানকে তুলে ধরে এবং পরবর্তী প্রজন্মকে এটি সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে।
‎
‎বৃটেন থেকে সাংবাদিক মোহাম্মদ মকিস মনসুর জানান, রেস্টুরেন্ট অব দ্য ইয়ার’ ১২টি অঞ্চল থেকে ৪৮টি রেস্টুরেন্টকে এওয়ার্ড তুলে দেওয়া হয়েছে । এছাড়া ব্রিটিশ বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট ও হসপিটালিটি খাতের উদ্যোক্তা, শেফ, ব্যবসায়ী এবং শিল্পসংশ্লিষ্ট বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ভিন্ন বিভাগে এওয়ার্ড তুলে দেওয়া হয়েছে ।
‎
অনুষ্ঠানে বিশেষ সম্মাননা বা ‘বিসিএ অনার্স অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয় এমপি কেভিন বোনাভিয়া, ব্রিক লেনের উদ্যোক্তা আবদুল জব্বার এবং মানবাধিকারকর্মী ড. নাজিয়া খানম ওবিইকে। জনসেবা, ব্যবসা এবং কমিউনিটির প্রতি তাঁদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ
‎এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
‎
‎টিকিট সম্পূর্ণ বিক্রি হয়ে যাওয়া ১৯তম বার্ষিক বাংলাদেশ ক্যাটারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএ) এওয়ার্ডসে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি হসপিটালিটি বা আতিথেয়তা খাতের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্বরা একত্রিত হন। এই আয়োজনের মাধ্যমে সেইসব রেস্তোরাঁ, শেফ, উদ্যোক্তা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, যারা এই শিল্পকে এগিয়ে নিতে এবং কারির প্রতি ব্রিটেনের মানুষের ভালোবাসা অটুট রাখতে নিষ্টা ও নিরলসভাবে কাজ করে আসছে।
‎
‎লন্ডনের পার্ক প্লাজা ওয়েস্টমিনস্টার ব্রিজ হোটেলে অনুষ্ঠিত এই মর্যাদাপূর্ণ গালা ডিনারটি ছিল রন্ধনশিল্পের উৎকর্ষ এবং এই শিল্পের পেছনের মানুষ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অনন্য উদযাপন—যে শিল্প হাজারো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রাখছে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে এবং দেশজুড়ে বিভিন্ন কমিউনিটিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
‎
‎এই আয়োজনকে ঘিরে রাজা তৃতীয় চার্লস এবং প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম শুভেচ্ছা ও সমর্থন বার্তা পাঠিয়েছেন, যা অনুষ্ঠানের অফিশিয়াল ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে। বাকিংহাম প্যালেস থেকে পাঠানো বার্তায় রাজা এই অ্যাওয়ার্ডসের প্রশংসা করেন এবং অনুষ্ঠানের সাফল্য কামনা করেন। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর বার্তায় সম্মাননাপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানানো হয় এবং ব্রিটেনের অর্থনীতি ও স্থানীয় কমিউনিটিতে বাংলাদেশি হসপিটালিটি ব্যবসাগুলোর অবদানের কথা স্বীকার করা হয়।
‎
‎জাঁকজমকপূর্ণভাবে মর্যাদাপূর্ণ বিসিএ’র১৯তম বার্ষিক এওয়ার্ডস ও গালা ডিনারপার্টিতে আগতরা বাংলাদেশি কমিউনিটির এই দীর্ঘ পথচলা, অর্জন ও সাফল্য সত্যিই গর্বের বলে উল্লেখ করে বিসিএ’র প্রেসিডেন্ট ওলি খান এমবিই, জেনারেল সেক্রেটারি টিপু রহমান এবং ট্রেজারার ফয়জুল ইসলামের গতিশীল নেতৃত্বে সংগঠনটি তার গৌরবময় ঐতিহ্যকে সমুন্নত রেখে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ব্রিটেনে বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিত্ব করে যাবে বলে এই প্রত্যাশা ব্যাক্ত করেছেন।
‎
‎উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ক্যাটারার্স অ্যাসোসিয়েশন ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ৬৫ বছরের গৌরবময় ঐতিহ্যবাহী এই সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে ব্রিটেনের মূলধারায় ১২ হাজার বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট ও ক্যাটারিং শিল্পের প্রতিনিধিত্ব করে আসছে। একই সঙ্গে ব্রিটিশ অর্থনীতিতে বাংলাদেশি কমিউনিটির গুরুত্বপূর্ণ অবদান তুলে ধরতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।
‎