সিলেট ১২:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
News Title :
বেকারত্ব দূরীকরণে উস্তাদ-সাগরেদ মডেল: আরডিএস- RAISE প্রকল্পের সাফল্য ও আগামীর পথচলা নবীগঞ্জে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধে বোনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা: ঘাতক ভাই সিলেট থেকে গ্রেফতার ‎শ্রীমঙ্গলে নাগরিক-সরকার রিপোর্টিং ব্যবস্থা গড়ার আহ্বান হাওরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে কৃষক নিহত, আহত ৩ বিয়ানীবাজারে চোরাই মালামাল সহ ৩জন গ্রেফতার জামালপুরে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন জুয়েল, ১ মাস লালনের পর বৃদ্ধাকে স্বজনদের হাতে হস্তান্তর ‎জামালপুর থেকে হারানো মা কে ফিরে পেলেন সন্তানেরা, ফিরলেন আপন গৃহে। ‎পাইকগাছায় কলেজ ছাত্রী অপহরণ: সিলেট থেকে প্রধান আসামি ইমরান গ্রেফতার, ভিকটিম উদ্ধার ‎গাজীপুরে দাওয়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ইজতিমায় জিকির ও নাত মাহফিল অনুষ্ঠিত কোম্পানীগঞ্জে র‍্যাবের যৌথ অভিযান: মদ ও এসকাফসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

‎শ্রীমঙ্গলে নাগরিক-সরকার রিপোর্টিং ব্যবস্থা গড়ার আহ্বান

‎নাগরিকদের উদ্বেগ, সমস্যা ও প্রয়োজনকে কার্যকরভাবে সরকারি পদক্ষেপে রূপ দিতে একটি জবাবদিহি মূলক নাগরিক-সরকার রিপোর্টিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন শ্রীমঙ্গলে অনুষ্ঠিত এক পরামর্শ মূলক কর্মশালার অংশীজনেরা। তারা বলেছেন, শুধু সরকারি সেবা ও কর্মসূচি চালু থাকলেই হবে না; প্রান্তিক মানুষের কাছে সেবার তথ্য পৌঁছানো, সেবায় প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা, সমস্যা জানানোর সুযোগ সৃষ্টি এবং সরকারি উদ্যোগের অগ্রগতি জনগণকে জানানোও জরুরি।

‎সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ‘কণ্ঠস্বর থেকে কার্যকর পদক্ষেপ: জলবায়ু-সহনশীল জীবিকা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্থানীয় শাসনের জন্য নাগরিক-সরকার রিপোর্টিং ব্যবস্থা’ শীর্ষক পরামর্শমূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

‎কর্মশালায় বক্তব্য দেন ডিনেটের নির্বাহী পরিচালক মাহমুদ হাসান, ‘নাগরিক সমন্বয়’ প্রকল্পের ব্যবস্থাপক আসিফ আহমেদ তন্ময়, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সুয়েব হোসেন চৌধুরী, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা অসীম কুমার করসহ সংশ্লিষ্টরা।

‎কর্মশালায় স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি, সাংবাদিক, সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশন (সিএসও), কমিউনিটি বেইজড অর্গানাইজেশন (সিবিও), ডিনেটের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন অংশীজন অংশ নেন।

‎আলোচনায় বক্তারা বলেন, সামাজিক সুরক্ষা, জীবিকা, জলবায়ু-সহনশীলতা ও দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচি ও সেবা রয়েছে। কিন্তু নারীদের একটি বড় অংশ, চা-শ্রমিক, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, ক্ষুদ্র কৃষক ও যুবসমাজসহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অনেকেই এসব সেবার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তথ্যের অভাব, জটিল প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে সহজে পৌঁছাতে না পারাসহ নানা কারণে এ দূরত্ব তৈরি হচ্ছে।

‎তারা বলেন, ‘সেবার প্রাপ্যতা’ এবং‘সেবায় প্রবেশাধিকার’ এক বিষয় নয়। তাই নাগরিকদের সমস্যা ও উদ্বেগ সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি সরকারি সাড়ার অগ্রগতি সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করার কার্যকর ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।

‎ডিনেটের নির্বাহী পরিচালক মাহমুদ হাসান বলেন, “মৌলভীবাজারে মানুষের কথা বলার জন্য শুধু আরেকটি ব্যবস্থা প্রয়োজন নেই; প্রয়োজন এমন একটি শক্তিশালী ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে মানুষের কথা শোনা হবে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযুক্ত হবে, সাড়া পাবে এবং ফলাফল সম্পর্কে মানুষকে জানানো হবে।”

‎কর্মশালায় স্থানীয় সিএসও ও সিবিওগুলোর ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, এসব সংগঠন নাগরিকদের সমস্যা ও প্রয়োজন শুনে তা নথিভুক্ত করা, সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং সরকারি সাড়ার অগ্রগতি অনুসরণে সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করতে পারে।

‎‘নাগরিক সমন্বয়’ প্রকল্পের ব্যবস্থাপক আসিফ আহমেদ তন্ময় বলেন, “প্রান্তিক মানুষের অনেক সমস্যা ও প্রয়োজন মাঠপর্যায়ে উঠে আসছে। এখন প্রয়োজন এসব বিষয়কে একটি সুসংগঠিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং প্রতিক্রিয়া জনগণকে জানানো।”

‎কর্মশালায় জানানো হয়, এ উদ্যোগের লক্ষ্য নতুন কোনো কমিটি বা সমান্তরাল ব্যবস্থা তৈরি করা নয়; বরং বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনগণের কাছে আরও সহজপ্রাপ্য, সাড়াদানকারী ও জবাবদিহিমূলক করে তোলা।

‎উল্লেখ্য, ‘নাগরিকতা–সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ড (সিইএফ)’ কর্মসূচির আওতায় মৌলভীবাজারে ‘নাগরিক সমন্বয়’ প্রকল্পটি সুইজারল্যান্ড, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং জিএফএ কনসাল্টিং গ্রুপের ব্যবস্থাপনায় ডিনেট ও সহযোগী সংস্থাগুলোর মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বেকারত্ব দূরীকরণে উস্তাদ-সাগরেদ মডেল: আরডিএস- RAISE প্রকল্পের সাফল্য ও আগামীর পথচলা

‎শ্রীমঙ্গলে নাগরিক-সরকার রিপোর্টিং ব্যবস্থা গড়ার আহ্বান

সময় ০৭:০৪:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‎নাগরিকদের উদ্বেগ, সমস্যা ও প্রয়োজনকে কার্যকরভাবে সরকারি পদক্ষেপে রূপ দিতে একটি জবাবদিহি মূলক নাগরিক-সরকার রিপোর্টিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন শ্রীমঙ্গলে অনুষ্ঠিত এক পরামর্শ মূলক কর্মশালার অংশীজনেরা। তারা বলেছেন, শুধু সরকারি সেবা ও কর্মসূচি চালু থাকলেই হবে না; প্রান্তিক মানুষের কাছে সেবার তথ্য পৌঁছানো, সেবায় প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা, সমস্যা জানানোর সুযোগ সৃষ্টি এবং সরকারি উদ্যোগের অগ্রগতি জনগণকে জানানোও জরুরি।

‎সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ‘কণ্ঠস্বর থেকে কার্যকর পদক্ষেপ: জলবায়ু-সহনশীল জীবিকা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্থানীয় শাসনের জন্য নাগরিক-সরকার রিপোর্টিং ব্যবস্থা’ শীর্ষক পরামর্শমূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

‎কর্মশালায় বক্তব্য দেন ডিনেটের নির্বাহী পরিচালক মাহমুদ হাসান, ‘নাগরিক সমন্বয়’ প্রকল্পের ব্যবস্থাপক আসিফ আহমেদ তন্ময়, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সুয়েব হোসেন চৌধুরী, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা অসীম কুমার করসহ সংশ্লিষ্টরা।

‎কর্মশালায় স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি, সাংবাদিক, সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশন (সিএসও), কমিউনিটি বেইজড অর্গানাইজেশন (সিবিও), ডিনেটের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন অংশীজন অংশ নেন।

‎আলোচনায় বক্তারা বলেন, সামাজিক সুরক্ষা, জীবিকা, জলবায়ু-সহনশীলতা ও দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচি ও সেবা রয়েছে। কিন্তু নারীদের একটি বড় অংশ, চা-শ্রমিক, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, ক্ষুদ্র কৃষক ও যুবসমাজসহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অনেকেই এসব সেবার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তথ্যের অভাব, জটিল প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে সহজে পৌঁছাতে না পারাসহ নানা কারণে এ দূরত্ব তৈরি হচ্ছে।

‎তারা বলেন, ‘সেবার প্রাপ্যতা’ এবং‘সেবায় প্রবেশাধিকার’ এক বিষয় নয়। তাই নাগরিকদের সমস্যা ও উদ্বেগ সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি সরকারি সাড়ার অগ্রগতি সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করার কার্যকর ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।

‎ডিনেটের নির্বাহী পরিচালক মাহমুদ হাসান বলেন, “মৌলভীবাজারে মানুষের কথা বলার জন্য শুধু আরেকটি ব্যবস্থা প্রয়োজন নেই; প্রয়োজন এমন একটি শক্তিশালী ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে মানুষের কথা শোনা হবে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযুক্ত হবে, সাড়া পাবে এবং ফলাফল সম্পর্কে মানুষকে জানানো হবে।”

‎কর্মশালায় স্থানীয় সিএসও ও সিবিওগুলোর ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, এসব সংগঠন নাগরিকদের সমস্যা ও প্রয়োজন শুনে তা নথিভুক্ত করা, সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং সরকারি সাড়ার অগ্রগতি অনুসরণে সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করতে পারে।

‎‘নাগরিক সমন্বয়’ প্রকল্পের ব্যবস্থাপক আসিফ আহমেদ তন্ময় বলেন, “প্রান্তিক মানুষের অনেক সমস্যা ও প্রয়োজন মাঠপর্যায়ে উঠে আসছে। এখন প্রয়োজন এসব বিষয়কে একটি সুসংগঠিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং প্রতিক্রিয়া জনগণকে জানানো।”

‎কর্মশালায় জানানো হয়, এ উদ্যোগের লক্ষ্য নতুন কোনো কমিটি বা সমান্তরাল ব্যবস্থা তৈরি করা নয়; বরং বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনগণের কাছে আরও সহজপ্রাপ্য, সাড়াদানকারী ও জবাবদিহিমূলক করে তোলা।

‎উল্লেখ্য, ‘নাগরিকতা–সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ড (সিইএফ)’ কর্মসূচির আওতায় মৌলভীবাজারে ‘নাগরিক সমন্বয়’ প্রকল্পটি সুইজারল্যান্ড, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং জিএফএ কনসাল্টিং গ্রুপের ব্যবস্থাপনায় ডিনেট ও সহযোগী সংস্থাগুলোর মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে।