
অসহায় ও পরিচয়হীন এক বৃদ্ধাকে রাস্তা থেকে উদ্ধার করে দীর্ঘ এক মাস নিজের বাড়িতে পরম যত্নে লালন-পালন করার পর অবশেষে তাকে সুস্থ করে স্বজনদের হাতে তুলে দিয়ে বিরল মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন জামালপুরের মানবাধিকার কর্মী এস এম জুয়েল রানা।
আজ ১৪ সেপ্টেম্বর সোমবার, সিলেটের হবিগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার রিচি ইউনিয়নের রিচি গ্রাম থেকে ওই বৃদ্ধার দুই পুত্র—আমির মিয়া ও মনির মিয়া এবং কন্যা জুলি খাতুন জামালপুরের দিগপাইত উপশহরের এস এম জুয়েলের বাসভবনে আসেন। পরে আবেগঘন পরিবেশে তারা তাদের মাকে নিজ বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যান।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও বাস্তবায়ন সংস্থা জামালপুর জেলা শাখার সভাপতি ও দক্ষিণ জামালপুর প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক খোরশেদ আলম, দক্ষিণ জামালপুর প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব শাহ আলম, সাংবাদিক ফারুক আহমেদ ভূঁইয়া, সাংবাদিক আল বিল্লাল খান, সাংবাদিক আমানউল্লাহ, সমাজসেবক মোজাম্মেল হক মুজা সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
জানা যায়, ঠিক এক মাস আগে জামালপুর সদর উপজেলার ইজেড বটতলা এলাকায় এক প্রবীণ নারী অসুস্থ অবস্থায় রাস্তায় পড়েছিলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে তা মানবাধিকার কর্মী এস এম জুয়েল রানার নজরে আসে। এরপর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও বাস্তবায়ন সংস্থা জামালপুর জেলা শাখার সভাপতি খোরশেদ আলম, সাংবাদিক আল বিল্লাল খান, মানবাধিকার কর্মী বিলেত আলী, সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম, মানবাধিকার কর্মী আমানুল্লাহ আকাশ এবং নারায়ণপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) মকবুল হোসেন যৌথভাবে ওই বৃদ্ধাকে সার্বিক দেখাশোনা ও আশ্রয়ের জন্য এস এম জুয়েল রানার জিম্মায় হস্তান্তর করেন।
পরবর্তীতে জুয়েল রানা তাকে নিজ মায়ের আসনে বসিয়ে নিয়মিত ওষুধপত্র ও পুষ্টিকর খাবার খাইয়ে সেবা-যত্ন করতে থাকেন। এমনকি তিনি পরম মায়ায় ওই বৃদ্ধার মলমূত্রযুক্ত কাপড় নিজ হাতে পরিষ্কার করতেন এবং পরম যত্নে তাকে মুখে খাবার তুলে দিতেন। তার এই নিরলস সেবায় বৃদ্ধা কিছুটা সুস্থ হয়ে ওঠেন।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর বৃদ্ধার সঠিক পরিচয় শনাক্তের জন্য তাকে জামালপুর জেলা নির্বাচন অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার আঙুলের ছাপ ও তথ্যের মাধ্যমে জানা যায়, তিনি সিলেট জেলার হবিগঞ্জ সদর উপজেলার রিচি গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। তার নাম মোছাঃ রোকেয়া বেগম (পিতা: সানজব আলী, মাতা: আবচান বিবি)।
পরবর্তীতে তার পরিচয় নিশ্চিত করে সিলেটের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল “অনলাইন সিলেট” সংবাদ প্রকাশিত হলে তা ওই বৃদ্ধার ছোট ছেলে আমির মিয়ার নজরে আসে। এরপর তিনি (অনলাইন সিলেট) নিউজ পোর্টালের সম্পাদক আব্দুল হক মামুনের সাথে যোগাযোগ করেন এবং মায়ের সঠিক পরিচয় নিশ্চিত হন। অবশেষ দীর্ঘ এক মাস পর মায়ের সন্ধান পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং জুয়েল রানার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান সন্তানরা। অবশেষে মাকে নিয়ে সন্তানেরা ফিরলেন নিজ গৃহে।
ফারুক আহমেদ ভূঁইয়া, জামালপুর। 


















