
সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের তামাবিল স্থলবন্দর এলাকায় সড়কের পাশে পাথর ডাম্পিং এবং জাফলংয়ের মামার বাজার-মোহাম্মদপুর এলাকায় যত্রতত্র ট্রাক পার্কিংয়ে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। আমদানি করা পাথর সড়কের পাশে স্তূপ করে রাখার পাশাপাশি পাথর পরিবহনের ট্রাক মহাসড়কের ওপর ও দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকায় গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি বিভিন্ন স্থানে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এতে তামাবিল স্থলবন্দর ও জাফলংগামী পর্যটক, পণ্যবাহী যান, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, তামাবিল স্থলবন্দর এলাকায় ভারতের মেঘালয় থেকে আমদানি করা পাথর মহাসড়কের পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। পাথর লোড-আনলোডের জন্য বড় বড় ড্রাম ট্রাক ও অন্যান্য পণ্যবাহী যান দীর্ঘ সময় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকছে। কোথাও কোথাও পাথরের স্তূপ সড়কের একেবারে পাশ ঘেঁষে থাকায় যান চলাচলের জায়গা কমে গেছে। এতে ব্যস্ত এ মহাসড়কে প্রায়ই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
অন্যদিকে জাফলংয়ের প্রধান প্রবেশপথ মামার বাজার থেকে মোহাম্মদপুর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে প্রতিদিন বালু ও পাথরবাহী ট্রাক পার্ক করে রাখা হচ্ছে। এ এলাকায় কোনো স্থায়ী ট্রাক টার্মিনাল না থাকায় চালকরা সড়কের পাশে গাড়ি রাখছেন। ফলে পর্যটনকেন্দ্র জাফলংয়ের প্রধান প্রবেশপথেও যানজট লেগে থাকছে।
তামাবিল থেকে প্রতিদিন জাফলংয়ের আমির মিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থী আফসানা আক্তার বলেন, ‘প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে কলেজে আসা-যাওয়া করতে হয়। তামাবিল এলাকায় পাথরের স্তূপ ও ট্রাকের কারণে প্রায়ই যানজটে আটকে থাকতে হয়। এতে সময়মতো কলেজে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। রাস্তার পাশে বড় বড় ট্রাক থাকায় পথ চলতেও ভয় লাগে।
ঢাকা থেকে পর্যটক নিয়ে নিয়মিত জাফলং যাতায়াত করেন বাসচালক জাহাঙ্গীর আজহার। তিনি বলেন, ‘আমি প্রায়ই পর্যটকদের নিয়ে এই সড়কে চলাচল করি। তামাবিল এলাকায় পাথরের স্তূপ ও ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকায় সড়ক সংকুচিত হয়ে যায়। আবার মামার বাজার ও মোহাম্মদপুর এলাকায় দুই পাশে ট্রাক পার্ক করা থাকে। ফলে যানজট তৈরি হয় এবং বড় গাড়ি চলাচলে সমস্যা হয়। পর্যটক নিয়ে দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা কামরুল হাসান বলেন, ‘মামার বাজার ও মোহাম্মদপুর এলাকায় প্রতিদিনই যানজট লেগে থাকে। সড়কের দুই পাশে ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকায় সাধারণ মানুষের চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্যটনকেন্দ্রের প্রবেশপথে এমন অবস্থা দীর্ঘদিন চলতে পারে না। নির্দিষ্ট জায়গায় ট্রাক রাখার ব্যবস্থা করা হলে এ সমস্যা অনেকটাই কমে আসবে।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, তামাবিল থেকে জাফলং পর্যন্ত এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক পর্যটক, পণ্যবাহী যান, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দা চলাচল করেন। যানজটের কারণে মুমূর্ষু রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সও আটকে পড়ছে। এতে জরুরি চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
তামাবিল পাথর আমদানিকারক গ্রুপের সভাপতি রফিকুল ইসলাম শাহপরান বলেন, স্থলবন্দরে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় ব্যবসায়ীরা সড়কের পাশে পাথর আনলোড করছেন। তবে মূল সড়কে যাতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়, সে জন্য তাদের সতর্ক করা হচ্ছে। বন্দর অভ্যন্তরে জায়গার সংকট থাকায় ‘কানাইজুড়ি ডাম্পিং’ চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। স্থায়ী ডাম্পিং ইয়ার্ডের জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
জাফলং ট্রাক চালক সমিতির সভাপতি সবেদ মিয়া বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন শত শত ট্রাক জাফলংয়ে আসে। স্থানীয় ট্রাকসহ এ সংখ্যা প্রায় এক হাজারে পৌঁছে। কিন্তু স্থায়ী ট্রাক টার্মিনাল না থাকায় চালকরা বাধ্য হয়ে সড়কের পাশে গাড়ি পার্ক করেন। স্থায়ী টার্মিনাল ছাড়া এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী খাইরুল বাশার মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন বলেন, মহাসড়কের পাশে পাথর স্তূপ করা এবং অবৈধভাবে ট্রাক পার্কিং করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা বেআইনি। তামাবিল-জাফলং সড়ক সচল ও নিরাপদ রাখতে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। সড়ক দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী বলেন, সরকারি জায়গা দখল করে ডাম্পিং ইয়ার্ড তৈরি করা বেআইনি। মহাসড়ককে যানজট ও দুর্ঘটনামুক্ত করতে সড়কের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা ও পাথরের স্তূপ সরিয়ে নিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জাফলংয়ে স্থায়ী ট্রাক টার্মিনালের জন্য উপযুক্ত জায়গা নির্ধারণসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মনসুর আলম, গোয়াইনঘাট। 

















