
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসনে দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটি বাস্তবায়িত ‘ইমার্জেন্সি রিলিফ-২০২৬’ প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক (সচিব) ড. মোহাম্মদ জকরিয়া।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকালে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার আস্কোরিয়ায় আয়োজিত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০০ পরিবারের মাঝে ফ্যামিলি ফুড প্যাকেট বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। একইসঙ্গে তিনি ৫০০ পরিবারের জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রমও পরিদর্শন করেন।
এ সময় মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ জকরিয়া বলেন, “দুর্যোগের সময় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো একটি মানবিক ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটি যে দ্রুততার সঙ্গে বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য খাদ্য, স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী, রান্না করা খাবার ও জরুরি ওষুধ বিতরণ করছে, তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। আমি আশা করি, এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং আরও বেশি মানুষ এর সুফল পাবে।” এছাড়াও তিনি দেশব্যাপী দোস্ত এইডের অন্যান্য কার্যক্রমের প্রশংসা করেন এবং এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর সহকারী পরিচালক (সিনিয়র সহকারী সচিব) শরিফ আহম্মেদ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা বাহাদুর রইচুর রহমান, বাঁশখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানী আকন, প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এ সময় দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটির প্রজেক্ট ম্যানেজার আবুল কায়েস চট্টগ্রাম অঞ্চলে বন্যা মোকাবিলায় সংস্থার বাস্তবায়িত মানবিক সহায়তা কার্যক্রম সম্পর্কে মহাপরিচালককে অবহিত করেন। তিনি জানান, চলমান বন্যায় দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটির উদ্যোগে ইতোমধ্যে ২ হাজার ফ্যামিলি ফুড প্যাকেট এবং ১ হাজার স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও, বন্যাকবলিত এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার ও জরুরি ওষুধ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জরুরি প্রয়োজন বিবেচনায় সংস্থার মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে অব্যাহত থাকবে।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দোস্ত এইডের আইটি ম্যানেজার সম্রাট বাবর, অ্যাকাউন্টস ডেপুটি ম্যানেজার মাজহারুল ইসলাম, শিক্ষা কর্মকর্তা শওকত মিয়াসহ সংস্থার অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মীবৃন্দ।
দোস্ত এইডের উদ্যোগে বিতরণকৃত প্রতিটি ৫৩ কেজি ওজনের ফ্যামিলি ফুড প্যাকেটে ছিল ২৫ কেজি চাল, ১০ কেজি আটা, ৫ লিটার ভোজ্য তেলসহ কয়েক মাসের জন্য প্রয়োজনীয় নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী। এছাড়া প্রতিটি স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্যাকেটে ছিল স্যানিটারি ন্যাপকিন, শ্যাম্পু, সাবান, ওয়াশিং পাউডার, টুথপেস্ট, টুথব্রাশ, অ্যান্টিসেপটিক লিকুইডসহ একটি পরিবারের কয়েক মাসের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী।
উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর নেতৃত্বে দেশব্যাপী পানি ও স্যানিটেশন, শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রতিবন্ধী পূণর্বাসন, কর্মসংস্থান তৈরি, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে জরুরি ত্রাণ সহায়তা, পুনর্বাসন এবং টেকসই মানবিক উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে।
মো. খোরশেদ আলম। 


















