সিলেট ০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
News Title :
নবীগঞ্জে ফুলতলী বাজারে জুয়া খেলার আয়োজন, ৩০ হাজার টাকা জরিমানা ‎সিলেটে ৩৩ বোতল কেরু মদসহ গ্রেফতার ২ ‎হবিগঞ্জে মিষ্টির ওজনে কারচুপির অভিযোগে এক রেস্তোরাঁকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা ৫২ বিজিবি ও র‍্যাব-৯–এর যৌথ অভিযানে ৩ কোটি ২৫ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ ‎লাখাই প্রেসক্লাবে এর সহসভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ পিতার ইন্তেকাল, বিভিন্ন মহলের শোক।‎ ‎মেগা প্রকল্পের আড়ালে অর্থ লোপাটে দেশ ঋণভারাক্রান্ত: লন্ডনে এম নাসের রহমান ‎শেরপুর ফের সক্রিয় চোরাচালান চক্র, পিকআপভর্তি ভারতীয় পণ্য জব্দ‎ ‎জামালপুরে এমপি ড. নিলোফার চৌধুরী মনির বৃক্ষরোপণ ও রাস্তা পরিদর্শন ‎ওডেসা গার্মেন্টসের প্রাক্তন এমডি আকিকুর রহমান মঞ্জু আর নেই‎ ‎গোয়াইনঘাটে র‍্যাবের অভিযান: বস্তাভর্তি ২৩ বোতল বিদেশী মদ উদ্ধার

‎শেরপুর ফের সক্রিয় চোরাচালান চক্র, পিকআপভর্তি ভারতীয় পণ্য জব্দ‎



‎মৌলভীবাজারের শেরপুর গোলচত্বর এলাকায় পুলিশের অভিযানে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় মেহেদি ও সোন পাপড়ি জব্দের ঘটনা আবারও সীমান্তভিত্তিক চোরাচালান নেটওয়ার্ক নিয়ে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। উদ্ধার হওয়া পণ্যের পরিমাণ, পরিবহনের ধরন এবং ব্যবহৃত রুট বিশ্লেষণ করলে এটি কোনো খুচরা ব্যবসায়ীর চালান নয়, বরং একটি সংগঠিত চক্রের অংশ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

‎পুলিশ জানায়,বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শেরপুর গোলচত্বর এলাকার ভাই ভাই হোটেলের সামনে এস আই ওবায়দুল্লাহ এর নেতৃত্ব এএসআই শফিকুল ইসলামসহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান চালিয়ে ঢাকাগামী একটি ত্রিপল দিয়ে মোড়ানো ডিআই পিকআপ (ঢাকা মেট্রো-ন-১৯-০৬২৭) আটক করা হয়। তল্লাশিতে প্রায় ৭ লাখ ৪৩ হাজার ৪০০ টাকা মূল্যের ভারতীয় তৈরি KAVERI Mehendi Cone এবং PRABHUJI BHUJIAWALA Ltd-এর তৈরি Soan Papdi উদ্ধার করা হয়।

‎এ ঘটনায় সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার গোরাগ্রাম এলাকার ইসমাইল আলীর ছেলে ইমরান আহমদ (৩০) এবং হাদারপাড় এলাকার আতাউর রহমানের ছেলে আল আমিন (২৫)-কে আটক করা হয়েছে।


‎তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, শেরপুর গোলচত্বর দীর্ঘদিন ধরে সিলেট, মৌলভীবাজার ও ঢাকার সংযোগস্থল হওয়ায় চোরাচালানকারীদের কাছে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট রুট। সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে বিভিন্ন উপায়ে ভারতীয় পণ্য এনে এখান থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

‎প্রশ্ন উঠেছে, এত বিপুল পরিমাণ বিদেশি পণ্য সীমান্ত অতিক্রম করে মহাসড়ক পর্যন্ত পৌঁছাল কীভাবে? এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট বা প্রভাবশালী চক্র জড়িত কি না, তা তদন্তে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

‎তবে শেরপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই ওবায়দু্ল্লাহ জানিয়েছে, আটক দুজনের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং চোরাচালান চক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জব্দকৃত পণ্যের উৎস, গন্তব্য এবং অর্থায়নের বিষয়েও তদন্ত চলছে।

‎স্থানীয়দের মতে, শুধু বাহককে আটক করলেই চোরাচালান বন্ধ হবে না। এর সঙ্গে জড়িত অর্থদাতা, সংগ্রাহক, পরিবহন সমন্বয়কারী এবং গ্রহণকারী—পুরো নেটওয়ার্ককে আইনের আওতায় আনতে না পারলে একই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটতেই থাকবে।

‎আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, শেরপুর পুলিশ ফাঁড়ির আওতাধীন এলাকায় চোরাচালান দমন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নবীগঞ্জে ফুলতলী বাজারে জুয়া খেলার আয়োজন, ৩০ হাজার টাকা জরিমানা

‎শেরপুর ফের সক্রিয় চোরাচালান চক্র, পিকআপভর্তি ভারতীয় পণ্য জব্দ‎

সময় ০৭:২৬:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬



‎মৌলভীবাজারের শেরপুর গোলচত্বর এলাকায় পুলিশের অভিযানে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় মেহেদি ও সোন পাপড়ি জব্দের ঘটনা আবারও সীমান্তভিত্তিক চোরাচালান নেটওয়ার্ক নিয়ে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। উদ্ধার হওয়া পণ্যের পরিমাণ, পরিবহনের ধরন এবং ব্যবহৃত রুট বিশ্লেষণ করলে এটি কোনো খুচরা ব্যবসায়ীর চালান নয়, বরং একটি সংগঠিত চক্রের অংশ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

‎পুলিশ জানায়,বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শেরপুর গোলচত্বর এলাকার ভাই ভাই হোটেলের সামনে এস আই ওবায়দুল্লাহ এর নেতৃত্ব এএসআই শফিকুল ইসলামসহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান চালিয়ে ঢাকাগামী একটি ত্রিপল দিয়ে মোড়ানো ডিআই পিকআপ (ঢাকা মেট্রো-ন-১৯-০৬২৭) আটক করা হয়। তল্লাশিতে প্রায় ৭ লাখ ৪৩ হাজার ৪০০ টাকা মূল্যের ভারতীয় তৈরি KAVERI Mehendi Cone এবং PRABHUJI BHUJIAWALA Ltd-এর তৈরি Soan Papdi উদ্ধার করা হয়।

‎এ ঘটনায় সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার গোরাগ্রাম এলাকার ইসমাইল আলীর ছেলে ইমরান আহমদ (৩০) এবং হাদারপাড় এলাকার আতাউর রহমানের ছেলে আল আমিন (২৫)-কে আটক করা হয়েছে।


‎তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, শেরপুর গোলচত্বর দীর্ঘদিন ধরে সিলেট, মৌলভীবাজার ও ঢাকার সংযোগস্থল হওয়ায় চোরাচালানকারীদের কাছে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট রুট। সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে বিভিন্ন উপায়ে ভারতীয় পণ্য এনে এখান থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

‎প্রশ্ন উঠেছে, এত বিপুল পরিমাণ বিদেশি পণ্য সীমান্ত অতিক্রম করে মহাসড়ক পর্যন্ত পৌঁছাল কীভাবে? এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট বা প্রভাবশালী চক্র জড়িত কি না, তা তদন্তে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

‎তবে শেরপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই ওবায়দু্ল্লাহ জানিয়েছে, আটক দুজনের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং চোরাচালান চক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জব্দকৃত পণ্যের উৎস, গন্তব্য এবং অর্থায়নের বিষয়েও তদন্ত চলছে।

‎স্থানীয়দের মতে, শুধু বাহককে আটক করলেই চোরাচালান বন্ধ হবে না। এর সঙ্গে জড়িত অর্থদাতা, সংগ্রাহক, পরিবহন সমন্বয়কারী এবং গ্রহণকারী—পুরো নেটওয়ার্ককে আইনের আওতায় আনতে না পারলে একই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটতেই থাকবে।

‎আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, শেরপুর পুলিশ ফাঁড়ির আওতাধীন এলাকায় চোরাচালান দমন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।