
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের আমতৈল গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আজিজকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা এবং লাশ গুমের চেষ্টার প্রতিবাদে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর গোলচত্বরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার দুপুরে বৃহত্তর আমতৈল গ্রামবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খসরুজ্জামান। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা নেছার আহমদ, মাহতাব মিয়া, তোফায়েল আহমেদ, কালন মিয়া, বলাই মিয়া, এনামুল হক (এনামশা), রাকিব আলী, দিলোয়ার হোসেন, আসাবউদ্দিনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বক্তারা বলেন, আব্দুল আজিজকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে। তারা এ হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি নূরুল ইসলামসহ জড়িত সকলকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ফাঁসির দাবি জানান। একই সঙ্গে দ্রুত, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান আসামিসহ সকল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দেন। অন্যথায় বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে এবং মৌলভীবাজার-সিলেট সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার হুঁশিয়ারি দেন।
উল্লেখ্য, গত ৭ জুলাই রাতে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ব্রাহ্মণগ্রামে হাজী আব্দুস সোবহানের শুঁটকি আড়তের কর্মচারী, বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের আমতৈল গ্রামের সামছুল হকের ছেলে আব্দুল আজিজ (৩০) হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সেদিন রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ব্রাহ্মণ গ্রামের হাজী মান উল্লাহর ছেলে সুলেমান মিয়া (৪৫) আব্দুল আজিজকে নিজের বসতঘরে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। দীর্ঘ সময় দরজা বন্ধ থাকায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হলে তারা ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করেন। পরে বাথরুমে বস্তাবন্দি অবস্থায় আব্দুল আজিজের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় সুলেমান মিয়া কৌশলে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মৌলভীবাজার মডেল থানায় নূরুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে নয়জনের নামে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি 

















