
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের মরা চেলা নদী বালু মহালের তীরবর্তী ফকিরটিলা মৌজার ১২৩ নম্বর দাগে ব্যক্তিমালিকানাধীন পুকুর ও কৃষিজমি থেকে তিন রাতে বিপুল পরিমাণ বালু অবৈধভাবে উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় জমির মালিক শাহীন মিয়া বুধবার রাতে ছাতক থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৭০-৮০ জনকে আসামি করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। শাহীন মিয়া উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের পাথারীপুর গ্রামের মৃত মফিজ আলীর ছেলে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, উপজেলার ফকিরটিলা মৌজার জে.এল. নং-৭১, খতিয়ান নং-৩৯৫৬ এবং দাগ নং-১২৩-এর প্রায় ৬ একর পুকুর ও কৃষিজমি দীর্ঘদিন ধরে শাহীন মিয়া ও তাঁর সহ-শরিকরা মৌরসি স্বত্বে ভোগদখল করে আসছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। স্থানীয়দের বাধার মুখে ব্যর্থ হওয়ার পর গত ২৮ জুন দিবাগত রাত থেকে পরিকল্পিতভাবে বিপুলসংখ্যক লোক নিয়ে জমিতে প্রবেশ করে জোরপূর্বক বালু উত্তোলন শুরু করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২৮, ২৯ ও ৩০ জুন প্রতিদিন রাত আনুমানিক ১০টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত লোকজন জমিতে প্রবেশ করে গভীর গর্ত খননের মাধ্যমে নৌকাযোগে বালু উত্তোলন করে নিয়ে যায়। এ সময় জমির মালিক ও স্থানীয়রা বাধা দিলে অভিযুক্তরা মারমুখী আচরণ করে এবং অস্ত্র প্রদর্শন করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষের দাবি, তিন রাতে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার ঘনফুট বালু উত্তোলন করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ২১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তাদের অভিযোগ, এতে জমিতে গভীর গর্ত সৃষ্টি হয়েছে এবং কৃষিকাজ ও মৎস্যচাষ মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
শাহীন মিয়া বলেন, স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সালিশ চলাকালীন সময়েও অভিযুক্তরা বালু উত্তোলন অব্যাহত রাখে। এছাড়া আইনগত ব্যবস্থা নিলে বাড়িঘর ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে বৃহস্পতিবার ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং ছাতক নৌ-পুলিশের কাছেও পৃথক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শাহীন মিয়া।
এ বিষয়ে ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ 

















