সিলেট ০৭:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
News Title :
‎সিলেটে হাইড্রোলিক হর্ন ও পরিবেশ আইন লঙ্ঘনে ১০ গাড়ির মালিককে জরিমানা নবীগঞ্জে আম গাছে থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় যুবকের মরদেহ উদ্ধার‎ ‘নেলসন ম্যান্ডেলা পিস অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ পেলেন কাজী মোহাম্মদ জমিরুল ইসলাম মমতাজ‎ ‎৪৫০ শিক্ষার্থীর একমাত্র ভরসা গুচ্ছগ্রাম বিদ্যালয়; পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রীর সহযোগিতার আশ্বাস গ্রাম পুলিশের বেতন বৃদ্ধি ও চাকরি জাতীয়করণের দাবি ‎শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে অভিভাবকদের সাথে মত বিনিময় সভার অনুষ্ঠিত ‎সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ৩ শ্রমিক দগ্ধ নবীগঞ্জে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বসার জায়গা নিশ্চিত করলেন পৌর প্রশাসক মো. রুহুল আমিন চুনারুঘাটে ১৫ কিলোমিটার ধাওয়া শেষে জনতার হাতে আটক ডাকাতি মামলার অভিযুক্ত, উদ্ধার প্রাইভেটকার মাদক দমনে পুলিশের বিশেষ উইং চান এমপি নাসের রহমান, তদবিরকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি ডিআইজি

বানিয়াচংয়ে দায়িত্ব পালন নিয়ে চেয়ারম্যান বনাম প্যানেল চেয়ারম্যানের দ্বন্দ্ব দুপক্ষের সংঘর্ষে ওসিসহ শতাধিক আহত‎




‎হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার ৭নং বড়ইউড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এর দায়িত্ব পালন নিয়ে চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ বনাম প্যানেল চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন এর দ্বন্দ্বে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ওসিসহ শতাধিক লোক আহত হয়েছে। গুরুতর আহত টেটাবিদ্ধ মুকিত,রকিব,আঙ্গুরসহ অন্তত ১০জনকে সিলেট প্রেরন করাে হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালীন কৃষি প্রনোদনার চাল ও টাকা লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

‎জানা যায় সোমবার (৮জুন) সকাল ১০ টার দিকে বড়ইউড়ি ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদে ইউনিয়ন পরিষদে অবস্থান করে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষদের মধ্যে অনুদানের টাকা ও চাল বিতরণ করছিলেন এসময় প্যানেল চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন এসে ফরিদ আহমেদকে বৈধ চেয়ারম্যান নয় বলে জানান। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্ক বির্তকের জেরে উভয়পক্ষের লোকজনের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ বাঁধে। প্রায় ৩ ঘন্টাব্যাপীূ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত শতাধিক লোক আহত হয়েছে।

‎ঘটনার খবর পেয়ে বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ নাজমুল হক সহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ৩রাউন্ড টিয়ারসেল এবং ৫টি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এ ঘটনায় বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ নাজমুল হকসহ ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়। ফরিদ আহমেদ ও কফিল উদ্দিনের পক্ষের অন্তত শতাধিত লোক আহত হয়েছে। তন্মধ্যে গুরুতর টেটাবিদ্ধ এনামুল, মুকিত, রকিব, আঙ্গুর, বাচ্চু, বাবলু, রিপনসহ ১০জনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্য আহতরা হবিগঞ্জ, নবীগঞ্জসহ স্থানীয় প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।



‎এ বিষয়ে বর্তমান চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মহামান্য হাইকোর্ট আমাকে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য আদেশ দিয়েছেন। এর প্রেক্ষিতে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক এবং বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা বেগম সাথী স্বাক্ষরিত এক পত্রে আমাকে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য লিখিতভাবে আদেশ প্রদান করেন। কিন্তু প্যানেল চেয়ারম্যান আমার সব কাগজপত্র ভূয়া বলে আমাকে দায়িত্ব পালনে তার দলবল নিয়ে বাঁধা প্রদান করে এবং আমার উপর সন্ত্রাসী হামলা চালায়।

‎এ বিষয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার উপর ফরিদ আহমেদ কর্তৃক উত্তাপিত সকল অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবী করে জানান, ফরিদ আহমেদ দীর্ঘদিন যাবত পলাতক থাকায় আমি অত্র ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। আমার এবং পরিষদের কোন সদস্যের সাথে কোন ধরনের যোগাযোগ ছাড়াই হঠাৎ করে ফরিদ আহমেদ ইউনিয়ন পরিষদে চলে আসায় এ পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে। ইউএনও কর্তৃক দায়িত্ব হস্তান্তরের কোন চিঠি পেয়েছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান কফিল উদ্দন।



‎এ বিষয়ে বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ নাজমুল হক এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঘটনার খবর পেয়ে তৎক্ষণিক পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রনে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এলাকায় পুলিশ টহল অব্যাহত আছে।
‎কৃষি প্রনোদনার টাকা ও চাল লুটপাটের ঘটনার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা বেগম সাথী’র বক্তব্য জানতে সরকারী মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে অত্র ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোঃ ইকবাল হোসেন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমার প্রতিনিধি হিসেবে আমার কার্যালয়ের পরিদর্শক মিহির চন্দ্র পুরকায়স্থ সেখানে উপস্থিত হন। এসময় ইউনিয়ন অফিসে দুপক্ষের মারমুখী অবস্থা দেখে আত্মরক্ষার্থে তিনি সেখানে থেকে চলে আসেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎সিলেটে হাইড্রোলিক হর্ন ও পরিবেশ আইন লঙ্ঘনে ১০ গাড়ির মালিককে জরিমানা

বানিয়াচংয়ে দায়িত্ব পালন নিয়ে চেয়ারম্যান বনাম প্যানেল চেয়ারম্যানের দ্বন্দ্ব দুপক্ষের সংঘর্ষে ওসিসহ শতাধিক আহত‎

সময় ০৭:০৩:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬




‎হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার ৭নং বড়ইউড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এর দায়িত্ব পালন নিয়ে চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ বনাম প্যানেল চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন এর দ্বন্দ্বে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ওসিসহ শতাধিক লোক আহত হয়েছে। গুরুতর আহত টেটাবিদ্ধ মুকিত,রকিব,আঙ্গুরসহ অন্তত ১০জনকে সিলেট প্রেরন করাে হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালীন কৃষি প্রনোদনার চাল ও টাকা লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

‎জানা যায় সোমবার (৮জুন) সকাল ১০ টার দিকে বড়ইউড়ি ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদে ইউনিয়ন পরিষদে অবস্থান করে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষদের মধ্যে অনুদানের টাকা ও চাল বিতরণ করছিলেন এসময় প্যানেল চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন এসে ফরিদ আহমেদকে বৈধ চেয়ারম্যান নয় বলে জানান। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্ক বির্তকের জেরে উভয়পক্ষের লোকজনের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ বাঁধে। প্রায় ৩ ঘন্টাব্যাপীূ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত শতাধিক লোক আহত হয়েছে।

‎ঘটনার খবর পেয়ে বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ নাজমুল হক সহ বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ৩রাউন্ড টিয়ারসেল এবং ৫টি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এ ঘটনায় বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ নাজমুল হকসহ ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়। ফরিদ আহমেদ ও কফিল উদ্দিনের পক্ষের অন্তত শতাধিত লোক আহত হয়েছে। তন্মধ্যে গুরুতর টেটাবিদ্ধ এনামুল, মুকিত, রকিব, আঙ্গুর, বাচ্চু, বাবলু, রিপনসহ ১০জনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্য আহতরা হবিগঞ্জ, নবীগঞ্জসহ স্থানীয় প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।



‎এ বিষয়ে বর্তমান চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মহামান্য হাইকোর্ট আমাকে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য আদেশ দিয়েছেন। এর প্রেক্ষিতে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক এবং বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা বেগম সাথী স্বাক্ষরিত এক পত্রে আমাকে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য লিখিতভাবে আদেশ প্রদান করেন। কিন্তু প্যানেল চেয়ারম্যান আমার সব কাগজপত্র ভূয়া বলে আমাকে দায়িত্ব পালনে তার দলবল নিয়ে বাঁধা প্রদান করে এবং আমার উপর সন্ত্রাসী হামলা চালায়।

‎এ বিষয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার উপর ফরিদ আহমেদ কর্তৃক উত্তাপিত সকল অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবী করে জানান, ফরিদ আহমেদ দীর্ঘদিন যাবত পলাতক থাকায় আমি অত্র ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। আমার এবং পরিষদের কোন সদস্যের সাথে কোন ধরনের যোগাযোগ ছাড়াই হঠাৎ করে ফরিদ আহমেদ ইউনিয়ন পরিষদে চলে আসায় এ পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে। ইউএনও কর্তৃক দায়িত্ব হস্তান্তরের কোন চিঠি পেয়েছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যান কফিল উদ্দন।



‎এ বিষয়ে বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ নাজমুল হক এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঘটনার খবর পেয়ে তৎক্ষণিক পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রনে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এলাকায় পুলিশ টহল অব্যাহত আছে।
‎কৃষি প্রনোদনার টাকা ও চাল লুটপাটের ঘটনার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা বেগম সাথী’র বক্তব্য জানতে সরকারী মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে অত্র ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোঃ ইকবাল হোসেন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমার প্রতিনিধি হিসেবে আমার কার্যালয়ের পরিদর্শক মিহির চন্দ্র পুরকায়স্থ সেখানে উপস্থিত হন। এসময় ইউনিয়ন অফিসে দুপক্ষের মারমুখী অবস্থা দেখে আত্মরক্ষার্থে তিনি সেখানে থেকে চলে আসেন।