সিলেট ০২:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
News Title :
বিয়ানীবাজার থেকে টমটম চালক নিখোঁজ, থানায় জিডি ‎বানিয়াচংয়ে ইয়ামাহা রাইডার্স ক্লাব (YRC) সদস্যদের গেটটুগেদার অনুষ্ঠিত। ‎গোয়াইনঘাটে ৪ লিস্টার মেশিন ধ্বংস, ডুবিয়ে দেওয়া হলো বালুভর্তি বাল্কহেড শান্তিগঞ্জে জোরপূর্বক জায়গা দখলের অভিযোগ ‎রক্তাক্ত গণমাধ্যম: সাগর-রুনি থেকে আলিফ ফকিরের বিয়োগান্তক সুর‎ নেত্রকোনায় সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যা: শেরপুর প্রেসক্লাবের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ ‎জৈন্তাপুরে জমি দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ: আহত একই পরিবারের ৩  ভাইসহ একাধিক সদস্য। ‎প্রতিবন্ধী নাতনির দায়িত্ব বৃদ্ধ দাদির কাঁধে লাখাই মুড়িয়াউক ইউনিয়ন নির্বাচনকে সামনে রেখে জমে উঠেছে প্রচার-প্রচারণা ‎সিলেটে বাস টমটম সংঘর্ষে মা-মেয়ে নিহতের ঘটনায় ঘাতক বাস চালক গ্রেপ্তার

‎সাতছড়ি বনে গাছ চুরির অভিযোগ, তদন্ত শুরু বন বিভাগের‎

গাছ চুরির ঘটনায় সহকারী বন সংরক্ষক মির্জা মেহেদী সারওয়ার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের ডুমুরতলা এলাকা পরিদর্শন করেন



‎
‎হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে মূল্যবান সেগুনগাছ চুরির ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে বন বিভাগ। এ ঘটনায় চুনারুঘাট থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সম্প্রতি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে গাছ কাটার ঘটনা প্রকাশিত হওয়ার পর বন বিভাগ ও প্রশাসনের তৎপরতা শুরু হয়।
‎
‎সোমবার (১৮ মে) দুপুরে মৌলভীবাজার বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মির্জা মেহেদী সারওয়ার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের ডুমুরতলা এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় সাতছড়ি রেঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান, বন প্রহরী ও স্থানীয় সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
‎
‎পরিদর্শনকালে ডুমুরতলা এলাকায় কাটা দুটি বড় সেগুনগাছের গোড়া দেখা যায়। এছাড়া পার্শ্ববর্তী আরও কয়েকটি স্থানে পুরোনো গাছ কাটার চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান। সহকারী বন সংরক্ষক মির্জা মেহেদী সারওয়ার বলেন, ঘটনাস্থলে গাছ কাটার সুস্পষ্ট আলামত পাওয়া গেছে। তবে সময় স্বল্পতার কারণে অন্যান্য স্থান পরিদর্শন করা সম্ভব হয়নি।
‎
‎তিনি বলেন,ডুমুরতলা এলাকায় দুটি সেগুনগাছ কাটার প্রমাণ পাওয়া গেছে। পাশের এলাকাতেও কয়েকটি পুরোনো গাছ কাটার চিহ্ন রয়েছে।সেগুলোর কিছু বর্তমান রেঞ্জ কর্মকর্তার দায়িত্ব গ্রহণের আগের ঘটনা বলে জানা গেছে।
‎
‎বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের ভেতরে রাতের আঁধারে সংঘবদ্ধ একটি চক্র মূল্যবান গাছ কেটে নিয়ে যায়। গত ৮ মে সরেজমিনে ডুমুরতলা এলাকায় গিয়ে শতবর্ষী দুটি সেগুনগাছের কাটা গোড়া এবং বনজুড়ে বিভিন্ন স্থানে গাছ কাটার চিহ্ন দেখা যায়।
‎
‎স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, বনজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে গাছ কাটার ঘটনা ঘটছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, বনের ভেতরে আরও অনেক কাটা গাছের গোড়া রয়েছে। আগেও একাধিকবার গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে।
‎তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বন ধ্বংসের পেছনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে। যদিও এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
‎
‎পরিবেশবাদী নেতা তোফাজ্জল সোহেল বলেন, বড় গাছ কেটে নেওয়ার ফলে শুধু বনভূমির ক্ষতিই হচ্ছে না, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত ভারসাম্যও হুমকির মুখে পড়ছে।
‎সাতছড়ি রেঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন,দুটি সেগুনগাছ চুরির ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে। পুলিশ কিছু তথ্য পেয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
‎
‎চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরী বলেন, “বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিয়ানীবাজার থেকে টমটম চালক নিখোঁজ, থানায় জিডি

‎সাতছড়ি বনে গাছ চুরির অভিযোগ, তদন্ত শুরু বন বিভাগের‎

সময় ১১:০৫:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
গাছ চুরির ঘটনায় সহকারী বন সংরক্ষক মির্জা মেহেদী সারওয়ার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের ডুমুরতলা এলাকা পরিদর্শন করেন



‎
‎হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে মূল্যবান সেগুনগাছ চুরির ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে বন বিভাগ। এ ঘটনায় চুনারুঘাট থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সম্প্রতি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে গাছ কাটার ঘটনা প্রকাশিত হওয়ার পর বন বিভাগ ও প্রশাসনের তৎপরতা শুরু হয়।
‎
‎সোমবার (১৮ মে) দুপুরে মৌলভীবাজার বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মির্জা মেহেদী সারওয়ার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের ডুমুরতলা এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় সাতছড়ি রেঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান, বন প্রহরী ও স্থানীয় সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
‎
‎পরিদর্শনকালে ডুমুরতলা এলাকায় কাটা দুটি বড় সেগুনগাছের গোড়া দেখা যায়। এছাড়া পার্শ্ববর্তী আরও কয়েকটি স্থানে পুরোনো গাছ কাটার চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান। সহকারী বন সংরক্ষক মির্জা মেহেদী সারওয়ার বলেন, ঘটনাস্থলে গাছ কাটার সুস্পষ্ট আলামত পাওয়া গেছে। তবে সময় স্বল্পতার কারণে অন্যান্য স্থান পরিদর্শন করা সম্ভব হয়নি।
‎
‎তিনি বলেন,ডুমুরতলা এলাকায় দুটি সেগুনগাছ কাটার প্রমাণ পাওয়া গেছে। পাশের এলাকাতেও কয়েকটি পুরোনো গাছ কাটার চিহ্ন রয়েছে।সেগুলোর কিছু বর্তমান রেঞ্জ কর্মকর্তার দায়িত্ব গ্রহণের আগের ঘটনা বলে জানা গেছে।
‎
‎বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের ভেতরে রাতের আঁধারে সংঘবদ্ধ একটি চক্র মূল্যবান গাছ কেটে নিয়ে যায়। গত ৮ মে সরেজমিনে ডুমুরতলা এলাকায় গিয়ে শতবর্ষী দুটি সেগুনগাছের কাটা গোড়া এবং বনজুড়ে বিভিন্ন স্থানে গাছ কাটার চিহ্ন দেখা যায়।
‎
‎স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, বনজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে গাছ কাটার ঘটনা ঘটছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, বনের ভেতরে আরও অনেক কাটা গাছের গোড়া রয়েছে। আগেও একাধিকবার গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে।
‎তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বন ধ্বংসের পেছনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে। যদিও এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
‎
‎পরিবেশবাদী নেতা তোফাজ্জল সোহেল বলেন, বড় গাছ কেটে নেওয়ার ফলে শুধু বনভূমির ক্ষতিই হচ্ছে না, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত ভারসাম্যও হুমকির মুখে পড়ছে।
‎সাতছড়ি রেঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন,দুটি সেগুনগাছ চুরির ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে। পুলিশ কিছু তথ্য পেয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
‎
‎চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরী বলেন, “বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”