সিলেট ১০:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
News Title :
শান্তিগঞ্জের চন্দ্রপুর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কুইজ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ‎ সিলেটের আলোচিত ডিসি সারওয়ার আলম প্রত্যাহার! কিছু প্রশ্ন? সচেতন নাগরিক পরিষদের সংবর্ধনায় সিক্ত শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ ‎জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ‎নবীগঞ্জে ট্রাকচাপায় অটোরিকশাচালক নিহত, মহাসড়ক অবরোধ ‎লস্করপুর থেকে উদ্ধার তক্ষক সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত ‎জামালপুরে টেকসই কৃষি,পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বায়ােপেস্টিসাইডের ব্যবহার বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত।‎ মাধআপুরে ৩০ বছরের জরাজীর্ণ ভবন, ছাদ ধসে আহত দপ্তরি, বন্ধ পাঠদান ১০ দফা দাবিতে শান্তিগঞ্জে কৃষক-মজুর-মৎস্যজীবীদের বৈঠক‎,আন্দোলন জোরদারের ঘোষণা ‎সিলেটে র‍্যাব-বিজিবির যৌথ অভিযান: ১৩ লাখ টাকার ভারতীয় চোরাচালান পণ্যসহ ট্রাক জব্দ

‎সিলেটে ২৩ কিলোমিটার ‘বাসিয়া খাল’ পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বাসিয়া খালের খনন কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপি। ছবি- সাদেক আলী খান

সিলেটের কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে ঐতিহাসিক “বাসিয়া খাল” পুনঃখনন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপি।
‎শনিবার (২ মে) সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও এলাকায় ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন তিনি।
‎উদ্বোধন শেষে আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ গ্রামে বাস করে। তাই গ্রামের মানুষকে স্বাবলম্বী করাই আমাদের সরকারের মূল লক্ষ্য। জনগণের ভোটে নির্বাচিত এই সরকারের একমাত্র জবাবদিহিতা দেশের মানুষের কাছে। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই আমরা একের পর এক নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।

‎শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত এই খালটি পুনরায় সচল করতে সরকার ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো, প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ কোটি টাকা, খননের পরিধি খালের মোট ৪০ কিলোমিটারের মধ্যে প্রথম ধাপে ২৩ কিলোমিটার পুনরুদ্ধার করা হবে। তিনি বলেন, উপকারভোগী সরাসরি উপকৃত হবেন প্রায় ৮০ হাজার কৃষক এবং পরোক্ষভাবে সুফল পাবেন আরও ১৫ লক্ষ মানুষ।
‎এলাকায় বার্ষিক অতিরিক্ত ৭,০০০ মেট্রিক টন ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বর্ষা শেষে আগামী নভেম্বর থেকে মূল খনন শুরু হবে এবং আগামী বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। খালের দুই পাড়ে প্রায় ৫ হাজার বৃক্ষ রোপণ করা হবে বলে তিনি বক্তব্যে উল্লেখ করেন।

‎প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্মৃতিচারণ করে বলেন, ১৯৭৭ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে এই খালটি খনন করা হয়েছিল। কালক্রমে এটি ভরাট ও বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ বছর পর বর্তমান সরকার এটি পুনরায় খননের দায়িত্ব নিয়েছে। তিনি আরও জানান, শুধু সিলেট নয়, দেশের প্রায় ৬০টি জেলায় বর্তমানে খাল খনন কার্যক্রম একযোগে চলছে।

‎এর আগে আজ সকালে তিনি বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে ইউএস-বাংলা একটি ফ্লাইটে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানটি ল্যান্ড করে। সেখানে বিএনপি নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রী কে স্বাগত জানান। তিনি বিমান বন্দর থেকে সরাসরি হযরত শাহজালাল রঃ মাজারে জিয়ারত করতে আসেন। জিয়ারত শেষে তিনি সরাসরি সুরমা নদীর পাড়ে অনুষ্ঠানস্থলে চলে যান। বিমান বন্দর থেকে সিলেট শহর পর্যন্ত বৃষ্টির মধ্যে নেতাকর্মী সহ সাধারণ মানুষ প্রধানমন্ত্রী কে স্বাগত জানান। তিনিও হাত নেড়ে সবাইকে শুভেচ্ছা জানান।

‎মাজার জিয়ারত শেষে সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকায় সুরমা নদীর উভয় পাড়ে সৌন্দর্যবর্ধন ও বন্যা প্রতিরোধী অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে মোনাজাত শেষে তিনি পরবর্তী সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখেন। বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপি, সিলেটের সার্বিক উন্নয়নে তাঁর সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, সুরমা নদীকে কেন্দ্র করে আধুনিক পর্যটন ও টেকসই বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।



‎উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী’র সহধর্মিণী ডা. জোবায়দা রহমান, সিলেট-১ আসনে এমপি  বানিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ্ব জি কে গউছ সহ সিলেট বিভাগের সকল সংসদ সদস্যবৃন্দ সহ জেলা ও মহানগর বিএনপি নেতৃবৃন্দ এবং সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ,স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শান্তিগঞ্জের চন্দ্রপুর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কুইজ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ‎

‎সিলেটে ২৩ কিলোমিটার ‘বাসিয়া খাল’ পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সময় ০৪:০০:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
বাসিয়া খালের খনন কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপি। ছবি- সাদেক আলী খান

সিলেটের কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে ঐতিহাসিক “বাসিয়া খাল” পুনঃখনন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপি।
‎শনিবার (২ মে) সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও এলাকায় ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন তিনি।
‎উদ্বোধন শেষে আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ গ্রামে বাস করে। তাই গ্রামের মানুষকে স্বাবলম্বী করাই আমাদের সরকারের মূল লক্ষ্য। জনগণের ভোটে নির্বাচিত এই সরকারের একমাত্র জবাবদিহিতা দেশের মানুষের কাছে। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই আমরা একের পর এক নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।

‎শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত এই খালটি পুনরায় সচল করতে সরকার ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো, প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ কোটি টাকা, খননের পরিধি খালের মোট ৪০ কিলোমিটারের মধ্যে প্রথম ধাপে ২৩ কিলোমিটার পুনরুদ্ধার করা হবে। তিনি বলেন, উপকারভোগী সরাসরি উপকৃত হবেন প্রায় ৮০ হাজার কৃষক এবং পরোক্ষভাবে সুফল পাবেন আরও ১৫ লক্ষ মানুষ।
‎এলাকায় বার্ষিক অতিরিক্ত ৭,০০০ মেট্রিক টন ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বর্ষা শেষে আগামী নভেম্বর থেকে মূল খনন শুরু হবে এবং আগামী বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। খালের দুই পাড়ে প্রায় ৫ হাজার বৃক্ষ রোপণ করা হবে বলে তিনি বক্তব্যে উল্লেখ করেন।

‎প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্মৃতিচারণ করে বলেন, ১৯৭৭ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে এই খালটি খনন করা হয়েছিল। কালক্রমে এটি ভরাট ও বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ বছর পর বর্তমান সরকার এটি পুনরায় খননের দায়িত্ব নিয়েছে। তিনি আরও জানান, শুধু সিলেট নয়, দেশের প্রায় ৬০টি জেলায় বর্তমানে খাল খনন কার্যক্রম একযোগে চলছে।

‎এর আগে আজ সকালে তিনি বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে ইউএস-বাংলা একটি ফ্লাইটে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানটি ল্যান্ড করে। সেখানে বিএনপি নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রী কে স্বাগত জানান। তিনি বিমান বন্দর থেকে সরাসরি হযরত শাহজালাল রঃ মাজারে জিয়ারত করতে আসেন। জিয়ারত শেষে তিনি সরাসরি সুরমা নদীর পাড়ে অনুষ্ঠানস্থলে চলে যান। বিমান বন্দর থেকে সিলেট শহর পর্যন্ত বৃষ্টির মধ্যে নেতাকর্মী সহ সাধারণ মানুষ প্রধানমন্ত্রী কে স্বাগত জানান। তিনিও হাত নেড়ে সবাইকে শুভেচ্ছা জানান।

‎মাজার জিয়ারত শেষে সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকায় সুরমা নদীর উভয় পাড়ে সৌন্দর্যবর্ধন ও বন্যা প্রতিরোধী অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে মোনাজাত শেষে তিনি পরবর্তী সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখেন। বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপি, সিলেটের সার্বিক উন্নয়নে তাঁর সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, সুরমা নদীকে কেন্দ্র করে আধুনিক পর্যটন ও টেকসই বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।



‎উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী’র সহধর্মিণী ডা. জোবায়দা রহমান, সিলেট-১ আসনে এমপি  বানিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ্ব জি কে গউছ সহ সিলেট বিভাগের সকল সংসদ সদস্যবৃন্দ সহ জেলা ও মহানগর বিএনপি নেতৃবৃন্দ এবং সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ,স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।