সিলেট ০৩:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
News Title :
‎গোলাপগঞ্জে পাহাড়ের জঙ্গলে মিলল ৪টি এয়ারগান, উদ্ধার করল র‌্যাব-৯ অনলাইন জুয়া চক্রের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার, স্মার্টফোন জব্দ ‎ইথারে মানসিক বিভ্রমের সংক্রমণ! সিলেটে বিরল “ফলি এ ডক্স” কেসে চিকিৎসকের আন্তর্জাতিক সাফল্য ‎সিলেটে ২০ মামলার আসামি ও সাজাপ্রাপ্ত মাদক ব্যবসায়ী কাউছার গ্রেফতার হবিগঞ্জে পুলিশের মাসিক ও কল্যাণ সভা, দীর্ঘদিনের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ‎‎ মাধবপুরে একসঙ্গে চার শিশু নিখোঁজ, তিন দিনেও সন্ধান নেই হাসপাতালের অযথা ঘোরাঘুরি: অদৃশ্য জীবাণুর ভয়ংকর ফাঁদ ‎বেগম আহমদা চৌধুরীর ইন্তেকাল। পরিবারের পক্ষ থেকে দোয়া প্রার্থী ‎মধুপুরে মাদরাসার হিসাব নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে পরিচালক লাঞ্ছিত‎ ‎মৌলভীবাজারে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসে র‌্যালি-আলোচনা

‎বিয়ানীবাজারে মডেল মসজিদ নির্মাণ নিয়ে জটিলতা!

মডেল মসজিদের নকসা, ছবি-সংগৃহীত।


‎দেশের অন্যান্য উপজেলায় মডেল মসজিদ নির্মাণ কাজ শেষ হলেও সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলায় এখনো পর্যন্ত সেই কাজটি শুরু করা সম্ভব হয়নি। ভূমি জঠিলতার কারণে বিগত ৯ বছর থেকে প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটের বিয়ানীবাজারে এই প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখেনি।

‎সম্প্রতি স্থানীয় সংসদ সদস্য এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী মডেল মসজিদটি উপজেলা শহরের ২২ কি. মি দূরে চারখাই ইউনিয়নে স্থান নির্ধারণ করে মডেল মসজিদ নির্মাণ এর জন্য প্রস্তাবণা পাঠান সংশ্লিষ্ট দপ্তরে। এই খবর প্রকাশ হতেই ফের সৃষ্টি হয় নতুন জটিলতা। পৌরসভার বাসিন্দাদের একটি মহল সক্রিয় হয়ে উঠে মসজিদটি সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী পৌর শহরের ভেতরে নির্মাণের দাবিতে। এ নিয়ে সোসাল মিডিয়ায় পক্ষে বিপক্ষে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠে। গঠিত হয় মডেল মসজিদ নির্মাণ নাগরিক উদ্যোগ কমিটি। এই কমিটির ব্যানারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে স্বারকলিপি প্রধান এবং স্থানীয় এমপি, ইউএনওসহ কর্তৃপক্ষের সাথে চলছে দফায় দফায় বৈঠক।

‎জানা যায়, ২০১৭ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মডেল মসজিদ প্রকল্পের কাজ শুরু করতে উপজেলা শহরে ৬টি স্থান চিহ্নিত করা হয়। তবে স্থানীয় ভূমিখেকোদের দৌরাত্বে সৃষ্ট জটিলতায় চিহ্নিত স্থানগুলোতে প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ বেস্তে যায়। অভিযোগ রয়েছে তৎকালীন সময়ে প্রভাবশালী এসব ভুমিখেকোদের কাছ থেকে চিহ্নিত সরাকারি জমি উদ্ধারে সেই সময়ের জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনের কর্তারা রহস্যজনকভাবে হার মেনে নেন। সর্বশেষ উপজেলা কমপ্লেক্সের ভেতরে থাকা মসজিদসহ সংলগ্ন স্থানে মডেল মসজিদ নির্মাণের একটি প্রস্তাবনা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়।

‎তবে রহস্যজনক কারণে সেই  প্রস্তাবনাটিও শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। ফলে ফাইল চাপা পড়ে যায় বিয়ানীবাজার উপজেলা মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্প। প্রায় ৯ বছর পর বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসলে স্থানীয় এমপি এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী নতুন করে মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন। পৌর শহর থেকে প্রায় ২২ কি.মি দূরে চারখাই ইউনিয়নের বাজার সংলগ্ন স্থানে মডেল মসজিদ নির্মাণের স্থান নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাব প্রেরণ করেন।

‎মডেল মসজিদ পৌর শহরে না হয়ে চারখাই ইউনিয়নে হতে যাচ্ছে এই খবর প্রকাশ হতেই সক্রিয় হয়ে উঠেন পৌরসভার বাসিন্দাদের একটা মহল। তাদের দাবি এই প্রকল্পে  সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী মডেল মসজিদটি উপজেলা কমপ্লেক্সের ২ কি.মি এর মধ্যে নির্মাণ করতে হবে। এ নিয়ে সোসাল মিডিয়ায় পক্ষে বিপক্ষে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠে। পৌর শহরের ভেতর মডেল মসজিদ নির্মাণের দাবিতে গঠিত হয় উপজেলা মডেল মসজিদ নির্মাণ নাগরিক উদ্যোগ কমিটি’। বিয়ানীবাজার প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সাবেক প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমানকে আহবায়ক করে গঠিত কমিটি তাদের দাবির পক্ষে জনমত সৃষ্টিতে করছে দফায় দফায় বৈঠক ও মতবিনিময়।
‎তারা ইতিমধ্যে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান এবং স্থানীয় এমপি ও ইউএনওর সাথে বৈঠক করে তাদের দাবি তুলে ধরছেন। এই অবস্থায় নতুন করে সৃষ্ট জটিলতায় শেষ পর্যন্ত এই প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখবে নাকি আবারও ফাইল বন্দি হয়ে যাবে তা নিয়ে সচেতন মহলে সংশয় দেখা দিয়েছে।

‎প্রাপ্ত সুত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে সারা দেশে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয় বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন। পুরনো রেট শিডিউলে এ প্রকল্পের প্রাক্কলন তৈরি ও অনুমোদন করায় প্রকল্প হাতে নেওয়ার সময় এর অনুমিত খরচ ছিল ৯ হাজার ৬২ কোটি ৪১ লাখ টাকা। এর ৯০ শতাংশ অনুদান হিসেবে সৌদি আরব থেকে আসার কথা ছিল। তবে এক বছরেরও বেশি সময় অপেক্ষা করার পরেও বৈদেশিক সহায়তা না পাওয়ায় প্রকল্পটির কাজ শুরু করা যায়নি। পরে নিজস্ব তহবিলের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

‎২০১৮ সালের ২৬ জুন প্রকল্পের খরচ ৩৪০ কোটি টাকা কমিয়ে আট হাজার ৭২২ কোটি করা হয় এবং বাস্তবায়নের সময়সীমা ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত ধরা হয়। পরে প্রকল্পটির খরচ ৮ দশমিক ১৭ শতাংশ বাড়ানো হয়। এতে মোট খরচ ধরা হয় ৯ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকা। একই সঙ্গে প্রকল্পটির নতুন মেয়াদকাল ধরা হয় ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত। কিন্তু এই মেয়াদকালেও প্রকল্পটি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. নজিবুর রহমান।

‎বিয়ানীবাজার পৌর শহরের ব্যাবসায়ী আবুল হাসান বলেন, পার্শ্ববর্তী উপজেলায় মডেল মসজিদ নির্মাণ কাজ শেষ করে মুসল্লিরা নামাজ আদায় শুরু করে দিয়েছেন কিন্তু আমাদের উপজেলায় এখনো মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু করা সম্ভব হয় নি যা অত্যন্ত দুখের বিষয়। আশা করবো যত দ্রুত সম্ভব সকল সমস্যার সমাধান করে মডেল মসজিদ নির্মাণ কাজ শুরু হবে।

‎এ বিষয়ে সিলেট-৬ আসনের সাংসদ এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, দেশের বিভিন্ন উপজেলায় মডেল মসজিদ নির্মাণ হলেও রহস্যজনক কারণে বিয়ানীবাজার উপজেলায় এখনো পর্যন্ত মডেল মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। আমি নির্বাচিত হওয়ার পর মডেল মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ পূণরায় গ্রহণ করি। কিন্তু বিয়ানীবাজার উপজেলায় মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য ভূমি জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে ভূমি জটিলতার অবসান করে মডেল মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু করতে পারব। এ জন্য সবার সহযোগিতার প্রয়োজন। সরকারের এতো বড় একটা প্রকল্প বাস্তবায়ন না হলে ক্ষতি বিয়ানীবাজারবাসীর জন্য হবে, এ জনপদের মানুষ  বঞ্চিত হবে মডেল মসজিদ প্রাপ্তি থেকে।

‎বিয়ানীবাজার প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা মডেল মসজিদ নির্মাণ নাগরিক উদ্যোগ কমিটির আহবায়ক আতাউর রহমান বলেন, মডেল মসজিদ নির্মাণ  হলে সেখানে মুসল্লীরা নামাজ আদায় করতে পারবেন সেটা আমরাও চাই। কিন্তু সেটা সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী হতে হবে। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী মডেল মসজিদ নির্মাণ করতে হবে উপজেলা কমপ্লেক্সের ২ কি.মি এর মধ্যে। পৌর শহরের যে কোন একটা জায়গায় মসজিদ নির্মাণ করা হলে আমাদের কোন আপত্তি নেই। আমরা স্থানীয় এমপির সাথে দেখা করে কথা বলেছি। আশা করি তিনি বিষয়টা বুঝতে পেরেছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎গোলাপগঞ্জে পাহাড়ের জঙ্গলে মিলল ৪টি এয়ারগান, উদ্ধার করল র‌্যাব-৯

‎বিয়ানীবাজারে মডেল মসজিদ নির্মাণ নিয়ে জটিলতা!

সময় ০৮:২৮:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মডেল মসজিদের নকসা, ছবি-সংগৃহীত।


‎দেশের অন্যান্য উপজেলায় মডেল মসজিদ নির্মাণ কাজ শেষ হলেও সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলায় এখনো পর্যন্ত সেই কাজটি শুরু করা সম্ভব হয়নি। ভূমি জঠিলতার কারণে বিগত ৯ বছর থেকে প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটের বিয়ানীবাজারে এই প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখেনি।

‎সম্প্রতি স্থানীয় সংসদ সদস্য এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী মডেল মসজিদটি উপজেলা শহরের ২২ কি. মি দূরে চারখাই ইউনিয়নে স্থান নির্ধারণ করে মডেল মসজিদ নির্মাণ এর জন্য প্রস্তাবণা পাঠান সংশ্লিষ্ট দপ্তরে। এই খবর প্রকাশ হতেই ফের সৃষ্টি হয় নতুন জটিলতা। পৌরসভার বাসিন্দাদের একটি মহল সক্রিয় হয়ে উঠে মসজিদটি সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী পৌর শহরের ভেতরে নির্মাণের দাবিতে। এ নিয়ে সোসাল মিডিয়ায় পক্ষে বিপক্ষে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠে। গঠিত হয় মডেল মসজিদ নির্মাণ নাগরিক উদ্যোগ কমিটি। এই কমিটির ব্যানারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে স্বারকলিপি প্রধান এবং স্থানীয় এমপি, ইউএনওসহ কর্তৃপক্ষের সাথে চলছে দফায় দফায় বৈঠক।

‎জানা যায়, ২০১৭ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মডেল মসজিদ প্রকল্পের কাজ শুরু করতে উপজেলা শহরে ৬টি স্থান চিহ্নিত করা হয়। তবে স্থানীয় ভূমিখেকোদের দৌরাত্বে সৃষ্ট জটিলতায় চিহ্নিত স্থানগুলোতে প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ বেস্তে যায়। অভিযোগ রয়েছে তৎকালীন সময়ে প্রভাবশালী এসব ভুমিখেকোদের কাছ থেকে চিহ্নিত সরাকারি জমি উদ্ধারে সেই সময়ের জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনের কর্তারা রহস্যজনকভাবে হার মেনে নেন। সর্বশেষ উপজেলা কমপ্লেক্সের ভেতরে থাকা মসজিদসহ সংলগ্ন স্থানে মডেল মসজিদ নির্মাণের একটি প্রস্তাবনা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়।

‎তবে রহস্যজনক কারণে সেই  প্রস্তাবনাটিও শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। ফলে ফাইল চাপা পড়ে যায় বিয়ানীবাজার উপজেলা মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্প। প্রায় ৯ বছর পর বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসলে স্থানীয় এমপি এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী নতুন করে মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন। পৌর শহর থেকে প্রায় ২২ কি.মি দূরে চারখাই ইউনিয়নের বাজার সংলগ্ন স্থানে মডেল মসজিদ নির্মাণের স্থান নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাব প্রেরণ করেন।

‎মডেল মসজিদ পৌর শহরে না হয়ে চারখাই ইউনিয়নে হতে যাচ্ছে এই খবর প্রকাশ হতেই সক্রিয় হয়ে উঠেন পৌরসভার বাসিন্দাদের একটা মহল। তাদের দাবি এই প্রকল্পে  সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী মডেল মসজিদটি উপজেলা কমপ্লেক্সের ২ কি.মি এর মধ্যে নির্মাণ করতে হবে। এ নিয়ে সোসাল মিডিয়ায় পক্ষে বিপক্ষে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠে। পৌর শহরের ভেতর মডেল মসজিদ নির্মাণের দাবিতে গঠিত হয় উপজেলা মডেল মসজিদ নির্মাণ নাগরিক উদ্যোগ কমিটি’। বিয়ানীবাজার প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সাবেক প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমানকে আহবায়ক করে গঠিত কমিটি তাদের দাবির পক্ষে জনমত সৃষ্টিতে করছে দফায় দফায় বৈঠক ও মতবিনিময়।
‎তারা ইতিমধ্যে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান এবং স্থানীয় এমপি ও ইউএনওর সাথে বৈঠক করে তাদের দাবি তুলে ধরছেন। এই অবস্থায় নতুন করে সৃষ্ট জটিলতায় শেষ পর্যন্ত এই প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখবে নাকি আবারও ফাইল বন্দি হয়ে যাবে তা নিয়ে সচেতন মহলে সংশয় দেখা দিয়েছে।

‎প্রাপ্ত সুত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে সারা দেশে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয় বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন। পুরনো রেট শিডিউলে এ প্রকল্পের প্রাক্কলন তৈরি ও অনুমোদন করায় প্রকল্প হাতে নেওয়ার সময় এর অনুমিত খরচ ছিল ৯ হাজার ৬২ কোটি ৪১ লাখ টাকা। এর ৯০ শতাংশ অনুদান হিসেবে সৌদি আরব থেকে আসার কথা ছিল। তবে এক বছরেরও বেশি সময় অপেক্ষা করার পরেও বৈদেশিক সহায়তা না পাওয়ায় প্রকল্পটির কাজ শুরু করা যায়নি। পরে নিজস্ব তহবিলের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

‎২০১৮ সালের ২৬ জুন প্রকল্পের খরচ ৩৪০ কোটি টাকা কমিয়ে আট হাজার ৭২২ কোটি করা হয় এবং বাস্তবায়নের সময়সীমা ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত ধরা হয়। পরে প্রকল্পটির খরচ ৮ দশমিক ১৭ শতাংশ বাড়ানো হয়। এতে মোট খরচ ধরা হয় ৯ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকা। একই সঙ্গে প্রকল্পটির নতুন মেয়াদকাল ধরা হয় ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত। কিন্তু এই মেয়াদকালেও প্রকল্পটি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. নজিবুর রহমান।

‎বিয়ানীবাজার পৌর শহরের ব্যাবসায়ী আবুল হাসান বলেন, পার্শ্ববর্তী উপজেলায় মডেল মসজিদ নির্মাণ কাজ শেষ করে মুসল্লিরা নামাজ আদায় শুরু করে দিয়েছেন কিন্তু আমাদের উপজেলায় এখনো মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু করা সম্ভব হয় নি যা অত্যন্ত দুখের বিষয়। আশা করবো যত দ্রুত সম্ভব সকল সমস্যার সমাধান করে মডেল মসজিদ নির্মাণ কাজ শুরু হবে।

‎এ বিষয়ে সিলেট-৬ আসনের সাংসদ এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, দেশের বিভিন্ন উপজেলায় মডেল মসজিদ নির্মাণ হলেও রহস্যজনক কারণে বিয়ানীবাজার উপজেলায় এখনো পর্যন্ত মডেল মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। আমি নির্বাচিত হওয়ার পর মডেল মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ পূণরায় গ্রহণ করি। কিন্তু বিয়ানীবাজার উপজেলায় মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য ভূমি জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে ভূমি জটিলতার অবসান করে মডেল মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু করতে পারব। এ জন্য সবার সহযোগিতার প্রয়োজন। সরকারের এতো বড় একটা প্রকল্প বাস্তবায়ন না হলে ক্ষতি বিয়ানীবাজারবাসীর জন্য হবে, এ জনপদের মানুষ  বঞ্চিত হবে মডেল মসজিদ প্রাপ্তি থেকে।

‎বিয়ানীবাজার প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা মডেল মসজিদ নির্মাণ নাগরিক উদ্যোগ কমিটির আহবায়ক আতাউর রহমান বলেন, মডেল মসজিদ নির্মাণ  হলে সেখানে মুসল্লীরা নামাজ আদায় করতে পারবেন সেটা আমরাও চাই। কিন্তু সেটা সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী হতে হবে। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী মডেল মসজিদ নির্মাণ করতে হবে উপজেলা কমপ্লেক্সের ২ কি.মি এর মধ্যে। পৌর শহরের যে কোন একটা জায়গায় মসজিদ নির্মাণ করা হলে আমাদের কোন আপত্তি নেই। আমরা স্থানীয় এমপির সাথে দেখা করে কথা বলেছি। আশা করি তিনি বিষয়টা বুঝতে পেরেছেন।