সিলেট ০৩:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
News Title :
‎ক্লাসের ফাঁকে সৃজনের উচ্ছ্বাস,অগ্রণীর দেয়ালে ‘অন্বেষণ’ ‎বানিয়াচংয়ে হারিয়ে গেছে, হাজার বছরের গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য পালকি।। বানিয়াচংয়ে সুজন সভাপতির মায়ের ইন্তেকালে মডেল প্রেসক্লাবের শোক নবীগঞ্জে ওরসের আসরে মৃত্যু, হত্যার মামলায় ২ বছর ৭ মাস পর লাশ উত্তোলন সন্ন্যাসী ছদ্মবেশেও শেষ রক্ষা হলো না শীর্ষ ছিনতাইকারী ‘মাছচোরা রাজীবের’, যৌথ অভিযানে গ্রেফতার সেক্সুয়াল হেডেক, স্বামী-স্ত্রী ঘনিষ্ঠ শারীরিক মেলামেশার সময় মাথাব্যথা কি ও কেনো? ‎দেওয়ান সোহেল রাজা ও দেওয়ান শোয়েব রাজার মায়ের ইন্তেকাল: বিভিন্ন মহলের শোক। বালাগঞ্জে টিসিবির তেল খুচরা বিক্রি, ডিলার-দোকানদারকে জরিমানা আজমিরীগঞ্জে ক্লাস চলাকালে বিদ্যালয়ের মেঝে ধস, আহত ৫ শিক্ষার্থী‎ ‎হবিগঞ্জে আগুনে পুড়ল তিন দোকান, ক্ষতি ২০ লাখ টাকা

সেক্সুয়াল হেডেক, স্বামী-স্ত্রী ঘনিষ্ঠ শারীরিক মেলামেশার সময় মাথাব্যথা কি ও কেনো?

‎ডা. সাঈদ এনাম


‎এক.

‎মনিকা (ছদ্মনাম) ও তাঁর স্বামী এসেছেন মাথাব্যথার সমস্যা নিয়ে। অনেক চিকিৎসা করিয়েও তেমন উপকার পাননি। শেষ পর্যন্ত অনেকটা নিরুপায় হয়েই ‘শেষ চেষ্টা’ হিসেবে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে এসেছেন তাঁরা।

‎বিস্তারিত ইতিহাস নিতে গিয়ে জানা গেল, মনিকার মাথাব্যথার শুরু তাঁদের বিয়ের রাত থেকেই। মাথার ভেতর চিনচিনে ব্যথা হয়, তবে সবচেয়ে বেশি হয় স্বামীর সঙ্গে যৌনমিলনের সময় কিংবা তার পরপরই। বিষয়টি নিয়ে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই বেশ চিন্তিত। স্বামীর মনে একটি প্রশ্নও তৈরি হয়েছে ‘আমি কি তবে স্ত্রীর মনের মতো স্বামী হতে পারছি না?’

‎অথচ তাঁদের দাম্পত্য জীবনে যৌনসম্পর্কে বড় কোনো ছন্দপতন নেই। দুজনেরই প্রি ম্যারিটাল বা এক্সট্রাম্যারিটাল সম্পর্কের ইতিহাস নেই। পারিবারিকভাবে তাঁদের বিয়ে হয়েছে এবং দিনের অন্য কোনো সময়ে মনিকার এমন মাথাব্যথাও হয় না। তাহলে শুধু বিশেষ এই সময়েই কেন মাথাব্যথা হয় এই প্রশ্নই তাঁদের ভাবিয়ে তুলেছে।

‎মনিকার মাথাব্যথার ধরনটি চিকিৎসাবিজ্ঞানে পরিচিত হেডেক অ্যাসোসিয়েটেড উইথ সেক্সুয়াল অ্যাক্টিভিটি নামে, যা সাধারণভাবে ‘সেক্সুয়াল হেডেক’ বা “মিলনের সময় মাথাব্যথা” নামে পরিচিত।

‎শারীরিক মেলামেশার সময় শারীরিক পরিশ্রম, হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপের সাময়িক বৃদ্ধি এবং উত্তেজনার সঙ্গে শরীরের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তনের কারণে এ ধরনের মাথাব্যথা হতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে শারীরিক  উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাথা ও ঘাড়ে চাপ বা ব্যথা অনুভূত হয় আবার কারও ক্ষেত্রে অর্গাজমের ঠিক আগে বা সময় হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা শুরু হতে পারে।

‎লজ্জা, সংকোচ কিংবা বিষয়টিকে ‘স্বাভাবিক’ ভেবে অনেকেই চিকিৎসকের কাছে এ কথা বলেন না। ফলে প্রয়োজনীয় মূল্যায়নও অনেক সময় হয় না। তবে স্বামী স্ত্রীর শারীরিক মেলামেশার সঙ্গে সম্পর্কিত প্রতিটি মাথাব্যথাকে সহজে নেওয়া ঠিক নয়। বিশেষ করে প্রথমবার হঠাৎ বজ্রপাতের মতো তীব্র মাথাব্যথা হলে তা জরুরি চিকিৎসা মূল্যায়নের বিষয়।

‎সেক্সুয়াল হেডেক সম্পর্কে জানার আগে চলুন, মাথাব্যথা সম্পর্কে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জেনে নেওয়া যাক।

‎মাথাব্যথা কী এবং কেন হয়?

‎মাথা ও ঘাড়ের বিভিন্ন অংশ থেকে উৎপন্ন ব্যথাকে সাধারণভাবে মাথাব্যথা বলা হয়। মস্তিষ্ক নিজে ব্যথা অনুভব করে না, কারণ মস্তিষ্কের টিস্যুতে ব্যথা অনুভব করার উপযোগী স্নায়ু সমাপ্তি নেই। তবে মস্তিষ্কের আবরণ বা মেনিনজেস, রক্তনালি, করোটির বিভিন্ন গঠন, মাথা ও ঘাড়ের পেশি, চোখ, কান, সাইনাসসহ আশপাশের বিভিন্ন কাঠামো থেকে ব্যথার অনুভূতি তৈরি হতে পারে।

‎মাথাব্যথার কারণ ও ধরন অনেক। আন্তর্জাতিক শ্রেণিবিন্যাসে মাথাব্যথাকে বিভিন্ন প্রধান ও উপপ্রকারে ভাগ করা হয়েছে। তাই ‘মাথাব্যথা’ একটি মাত্র রোগ নয়, বরং বিভিন্ন ধরনের সমস্যার একটি সাধারণ উপসর্গ।

‎অনেকের ধারণা, মাথাব্যথা মানেই উচ্চ রক্তচাপ অথবা ব্রেইন টিউমার। ধারণাটি ঠিক নয়। উচ্চ রক্তচাপ বেশির ভাগ সময় কোনো নির্দিষ্ট উপসর্গ ছাড়াই থাকতে পারে এ কারণেই একে অনেক সময় ‘সাইলেন্ট কিলার’ বলা হয়। তবে অত্যন্ত বেশি রক্তচাপ বা হাইপারটেনসিভ ক্রাইসিসে মাথাব্যথা হতে পারে।

‎একইভাবে, মাথাব্যথা হলেই ব্রেইন টিউমার হয়েছে, এমনটিও নয়। ব্রেইন টিউমারের ক্ষেত্রে মাথাব্যথার পাশাপাশি বমি, খিঁচুনি, দৃষ্টির সমস্যা, আচরণ বা ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন, দুর্বলতা কিংবা অন্যান্য স্নায়বিক উপসর্গ থাকতে পারে তবে এসব উপসর্গ সবার ক্ষেত্রে থাকে না।

‎টেনশন টাইপ হেডেক কি?

‎প্রাথমিক মাথাব্যথার সবচেয়ে সাধারণ ধরনগুলোর একটি হলো টেনশন-টাইপ হেডেক (Tension-Type Headache বা TTH)। সাধারণত মাথার দুই পাশে বা পুরো মাথাজুড়ে চাপ বা শক্ত করে বাঁধা ধরনের ব্যথা হয়। অনেকের মনে হয়, যেন কেউ রশি বা গামছা দিয়ে মাথাটি শক্ত করে বেঁধে রেখেছে।

‎এ ব্যথা সাধারণত মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার হয় এবং দৈনন্দিন শারীরিক কাজকর্মে খুব বেশি বাড়ে না। মানসিক চাপ, ক্লান্তি, ঘুমের সমস্যা কিংবা দীর্ঘসময় একই ভঙ্গিতে কাজ করার সঙ্গে এর সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে প্রত্যেক রোগীর ক্ষেত্রে একই কারণ কাজ করে না।

‎মাইগ্রেন কি?

‎মাইগ্রেন শুধু মাথাব্যথা নয়, এটি একটি স্নায়ুবৈজ্ঞানিক রোগ। পুরুষের তুলনায় নারীদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়। ব্যথা প্রায়ই মাথার এক পাশে হয় এবং স্পন্দনশীল বা ধকধকে অনুভূত হতে পারে। হাঁটা, সিঁড়ি ওঠা বা অন্যান্য স্বাভাবিক শারীরিক কর্মকাণ্ডে ব্যথা বাড়তে পারে।

‎আলো ও শব্দ অসহ্য লাগা, বমি বমি ভাব বা বমি মাইগ্রেনের সঙ্গে থাকতে পারে। তাই অনেক রোগী অন্ধকার ও নীরব ঘরে শুয়ে থাকতে স্বস্তি বোধ করেন। মাইগ্রেনের আক্রমণ কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এর পেছনে জেনেটিক বা পারিবারিক প্রবণতাও গুরুত্বপূর্ণ।

‎ক্লাস্টার হেডেক কি?

‎ক্লাস্টার হেডেক তুলনামূলকভাবে বিরল, কিন্তু অত্যন্ত তীব্র মাথাব্যথার একটি ধরন। সাধারণত এক পাশের চোখের চারপাশে বা চোখের পেছনে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। একই পাশে চোখ লাল হয়ে যাওয়া, চোখ দিয়ে পানি পড়া, নাক বন্ধ বা পানি পড়া, চোখের পাতা ঝুলে পড়া কিংবা অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

‎ব্যথার আক্রমণ সাধারণত নির্দিষ্ট সময় ধরে হয় এবং কয়েক সপ্তাহ বা মাস ধরে একটি ‘ক্লাস্টার পিরিয়ডে’ বারবার ফিরে আসতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে দিনের একই সময়ে আক্রমণ হওয়ার প্রবণতাও দেখা যায়।

‎সাইনাসের জন্যে মাথাব্যথার ধরণ?

‎নাক ও মুখমণ্ডলের হাড়ের ভেতরে থাকা বায়ুভর্তি কিছু গহ্বরকে সাইনাস বলা হয়। সাইনাসের সংক্রমণ বা প্রদাহ হলে মুখমণ্ডল বা কপালে চাপ ও ব্যথা অনুভূত হতে পারে। তবে শুধু কপাল বা মুখে ব্যথা হলেই সেটিকে ‘সাইনাস হেডেক’ বলা ঠিক নয়। অনেক সময় মাইগ্রেনকেও রোগীরা ভুল করে সাইনাসের ব্যথা মনে করেন।

‎সাইনাসের সংক্রমণের সঙ্গে সাধারণত নাক বন্ধ হওয়া, নাক দিয়ে সর্দি পড়া, গন্ধ কমে যাওয়া, জ্বর কিংবা মুখে চাপ অনুভূতির মতো উপসর্গ থাকতে পারে।

‎ক্রনিক ডেইলি হেডেক কি?

‎মাসের অধিকাংশ দিন বা প্রায় প্রতিদিন মাথাব্যথা হলে তাকে সাধারণভাবে ক্রনিক ডেইলি হেডেক বলা হয়। এটি নিজে একটি নির্দিষ্ট রোগের নাম নয় বরং দীর্ঘস্থায়ী মাথাব্যথার একটি বর্ণনামূলক শব্দ। এর পেছনে ক্রনিক মাইগ্রেন, ক্রনিক টেনশন-টাইপ হেডেকসহ বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। তাই প্রতিদিন মাথাব্যথা হলে কারণ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন।

‎হরমোন ও মাথাব্যথা: সম্পর্ক

‎নারীদের ক্ষেত্রে হরমোনের ওঠানামার সঙ্গে মাইগ্রেনের সম্পর্ক থাকতে পারে। বিশেষ করে মাসিকের আগে বা আশপাশের সময়ে ইস্ট্রোজেনের মাত্রার পরিবর্তনের কারণে কিছু নারীর মাইগ্রেনের আক্রমণ বেড়ে যেতে পারে। গর্ভাবস্থা, প্রসব পরবর্তী সময় কিংবা মেনোপজের সময়ও হরমোনের পরিবর্তনের সঙ্গে মাথাব্যথার ধরনে পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

‎সেক্সুয়াল হেডেক কি?

‎এবার ফিরে আসি মনিকার কথায়। যৌনক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত মাথাব্যথাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে Headache Associated with Sexual Activity বলা হয়। কারও ক্ষেত্রে যৌন উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাথা ও ঘাড়ে ধীরে ধীরে ব্যথা বাড়তে পারে। আবার কারও ক্ষেত্রে অর্গাজমের ঠিক আগে বা সময় হঠাৎ প্রচণ্ড মাথাব্যথা শুরু হতে পারে।

‎এই ধরনের মাথাব্যথার পেছনে যৌনক্রিয়ার সময় শারীরিক পরিশ্রম, হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপের সাময়িক বৃদ্ধি এবং রক্তনালির স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ‘মস্তিষ্কে রক্তচাপ বেড়ে যাওয়াই’ এর একমাত্র বা নিশ্চিত কারণ এমনটি বলা বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়।

‎সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রথমবার মেলামেশাতে হঠাৎ বজ্রপাতের মতো প্রচণ্ড মাথাব্যথা হলে সেটিকে কখনোই সাধারণ মিলন জনিত মাথাব্যথা ধরে নেওয়া যাবে না। কারণ কখনো কখনো মস্তিষ্কের রক্তনালির গুরুতর সমস্যা, যেমন সাবঅ্যারাকনয়েড হেমোরেজ, সেরিব্রাল ভাসোকনস্ট্রিকশন বা অন্যান্য ভাসকুলার সমস্যার সঙ্গে এমন মাথাব্যথা সম্পর্কিত হতে পারে।

‎তীব্র মাথাব্যথার সঙ্গে বমি, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, খিঁচুনি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, দুর্বলতা, কথা জড়িয়ে যাওয়া বা দৃষ্টির সমস্যা থাকলে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে যেতে হবে।

‎আবার যৌনমিলনের সময় সব মাথাব্যথাই শারীরিক পরিশ্রমের কারণে হয় না। উদ্বেগ, যৌনসম্পর্ক নিয়ে মানসিক চাপ, পারফরম্যান্স- অ্যাংজাইটি, দাম্পত্য দ্বন্দ্ব কিংবা যৌন অসন্তুষ্টিও মাথাব্যথার মতো শারীরিক উপসর্গকে বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে এ ধরনের ব্যথাকে শুধু ‘মানসিক’ বলে ধরে নেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় শারীরিক কারণগুলো চিকিৎসকের মাধ্যমে বিবেচনা করা জরুরি।

‎একইভাবে, স্বামী-স্ত্রীর যৌনজীবনে সমস্যা থাকলে তা শুধু দাম্পত্য সম্পর্কের বিষয় নয়, দীর্ঘদিনের যৌন অসন্তুষ্টি ও পারস্পরিক যোগাযোগের ঘাটতি সম্পর্কের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই প্রয়োজন হলে চিকিৎসা, যৌনস্বাস্থ্য বিষয়ে পরামর্শ এবং দাম্পত্য কাউন্সেলিং সবই ভূমিকা রাখতে পারে।

‎আরও কিছু কারণে মাথাব্যথা হতে পারে

‎অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণের সঙ্গে কিছু মানুষের মাথাব্যথা হতে পারে। আবার নিয়মিত বেশি পরিমাণ ক্যাফেইন গ্রহণের পর হঠাৎ তা বন্ধ করলেও ক্যাফেইন উইথড্রল হেডেক  (Caffeine-withdrawal headache) হতে পারে।

‎মানসিক চাপ, উদ্বেগ, ঘুমের সমস্যা ও বিষণ্নতার সঙ্গেও মাথাব্যথার সম্পর্ক রয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার ক্ষেত্রে মন ও শরীরের পারস্পরিক প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ। তবে ‘মন খারাপের কারণে হওয়া সব মাথাব্যথাই সাইকোজেনিক’এমন সরলীকরণও ঠিক নয়। এ ধরনের সমস্যায় রোগীর শারীরিক ও মানসিক দুই দিকই বিবেচনা করে চিকিৎসা করা প্রয়োজন।

‎দুই

‎মাথাব্যথাকে অবহেলা করা ঠিক নয়।

‎মাথাব্যথা যেমন খুব সাধারণ ও তুলনামূলক নিরীহ কারণেও হতে পারে, তেমনি কখনো কখনো এটি গুরুতর রোগের গুরুত্বপূর্ণ সংকেতও হতে পারে। বিশেষ করে জীবনে প্রথমবার হওয়া আকস্মিক ও অত্যন্ত তীব্র মাথাব্যথা, মাথায় আঘাতের পর মাথাব্যথা, জ্বর ও ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়ার সঙ্গে মাথাব্যথা, খিঁচুনি বা অজ্ঞান হওয়ার সঙ্গে মাথাব্যথা, কিংবা নতুন ধরনের ক্রমবর্ধমান মাথাব্যথা হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

‎তাই মাথাব্যথার সঠিক কারণ জানতে হলে শুধু ব্যথার ওষুধ খেয়ে নেওয়াই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন বিস্তারিত ইতিহাস, শারীরিক ও স্নায়ুবৈজ্ঞানিক পরীক্ষা এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা। তারপরই নির্ধারণ করা যায় কোন মাথাব্যথা সাধারণ, কোনটি বিশেষায়িত চিকিৎসা প্রয়োজন এবং কোনটি জরুরি চিকিৎসার সংকেত।

‎আর যৌনমিলনের সঙ্গে মাথাব্যথার সম্পর্ক থাকলে লজ্জা বা সংকোচের কিছু নেই। চিকিৎসকের কাছে বিষয়টি খোলামেলা বলা চিকিৎসারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কারণ সঠিক তথ্যই সঠিক রোগ নির্ণয়ের প্রথম ধাপ।

লেখক- সহযোগী অধ্যাপক।

‎ডি এম সি, কে-৫২, সাইকিয়াট্রিস্ট
‎মেম্বার, আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশন
‎মেম্বার, ইউরোপিয়ান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশন

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎ক্লাসের ফাঁকে সৃজনের উচ্ছ্বাস,অগ্রণীর দেয়ালে ‘অন্বেষণ’

সেক্সুয়াল হেডেক, স্বামী-স্ত্রী ঘনিষ্ঠ শারীরিক মেলামেশার সময় মাথাব্যথা কি ও কেনো?

সময় ১১:২৫:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‎ডা. সাঈদ এনাম


‎এক.

‎মনিকা (ছদ্মনাম) ও তাঁর স্বামী এসেছেন মাথাব্যথার সমস্যা নিয়ে। অনেক চিকিৎসা করিয়েও তেমন উপকার পাননি। শেষ পর্যন্ত অনেকটা নিরুপায় হয়েই ‘শেষ চেষ্টা’ হিসেবে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে এসেছেন তাঁরা।

‎বিস্তারিত ইতিহাস নিতে গিয়ে জানা গেল, মনিকার মাথাব্যথার শুরু তাঁদের বিয়ের রাত থেকেই। মাথার ভেতর চিনচিনে ব্যথা হয়, তবে সবচেয়ে বেশি হয় স্বামীর সঙ্গে যৌনমিলনের সময় কিংবা তার পরপরই। বিষয়টি নিয়ে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই বেশ চিন্তিত। স্বামীর মনে একটি প্রশ্নও তৈরি হয়েছে ‘আমি কি তবে স্ত্রীর মনের মতো স্বামী হতে পারছি না?’

‎অথচ তাঁদের দাম্পত্য জীবনে যৌনসম্পর্কে বড় কোনো ছন্দপতন নেই। দুজনেরই প্রি ম্যারিটাল বা এক্সট্রাম্যারিটাল সম্পর্কের ইতিহাস নেই। পারিবারিকভাবে তাঁদের বিয়ে হয়েছে এবং দিনের অন্য কোনো সময়ে মনিকার এমন মাথাব্যথাও হয় না। তাহলে শুধু বিশেষ এই সময়েই কেন মাথাব্যথা হয় এই প্রশ্নই তাঁদের ভাবিয়ে তুলেছে।

‎মনিকার মাথাব্যথার ধরনটি চিকিৎসাবিজ্ঞানে পরিচিত হেডেক অ্যাসোসিয়েটেড উইথ সেক্সুয়াল অ্যাক্টিভিটি নামে, যা সাধারণভাবে ‘সেক্সুয়াল হেডেক’ বা “মিলনের সময় মাথাব্যথা” নামে পরিচিত।

‎শারীরিক মেলামেশার সময় শারীরিক পরিশ্রম, হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপের সাময়িক বৃদ্ধি এবং উত্তেজনার সঙ্গে শরীরের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তনের কারণে এ ধরনের মাথাব্যথা হতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে শারীরিক  উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাথা ও ঘাড়ে চাপ বা ব্যথা অনুভূত হয় আবার কারও ক্ষেত্রে অর্গাজমের ঠিক আগে বা সময় হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা শুরু হতে পারে।

‎লজ্জা, সংকোচ কিংবা বিষয়টিকে ‘স্বাভাবিক’ ভেবে অনেকেই চিকিৎসকের কাছে এ কথা বলেন না। ফলে প্রয়োজনীয় মূল্যায়নও অনেক সময় হয় না। তবে স্বামী স্ত্রীর শারীরিক মেলামেশার সঙ্গে সম্পর্কিত প্রতিটি মাথাব্যথাকে সহজে নেওয়া ঠিক নয়। বিশেষ করে প্রথমবার হঠাৎ বজ্রপাতের মতো তীব্র মাথাব্যথা হলে তা জরুরি চিকিৎসা মূল্যায়নের বিষয়।

‎সেক্সুয়াল হেডেক সম্পর্কে জানার আগে চলুন, মাথাব্যথা সম্পর্কে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জেনে নেওয়া যাক।

‎মাথাব্যথা কী এবং কেন হয়?

‎মাথা ও ঘাড়ের বিভিন্ন অংশ থেকে উৎপন্ন ব্যথাকে সাধারণভাবে মাথাব্যথা বলা হয়। মস্তিষ্ক নিজে ব্যথা অনুভব করে না, কারণ মস্তিষ্কের টিস্যুতে ব্যথা অনুভব করার উপযোগী স্নায়ু সমাপ্তি নেই। তবে মস্তিষ্কের আবরণ বা মেনিনজেস, রক্তনালি, করোটির বিভিন্ন গঠন, মাথা ও ঘাড়ের পেশি, চোখ, কান, সাইনাসসহ আশপাশের বিভিন্ন কাঠামো থেকে ব্যথার অনুভূতি তৈরি হতে পারে।

‎মাথাব্যথার কারণ ও ধরন অনেক। আন্তর্জাতিক শ্রেণিবিন্যাসে মাথাব্যথাকে বিভিন্ন প্রধান ও উপপ্রকারে ভাগ করা হয়েছে। তাই ‘মাথাব্যথা’ একটি মাত্র রোগ নয়, বরং বিভিন্ন ধরনের সমস্যার একটি সাধারণ উপসর্গ।

‎অনেকের ধারণা, মাথাব্যথা মানেই উচ্চ রক্তচাপ অথবা ব্রেইন টিউমার। ধারণাটি ঠিক নয়। উচ্চ রক্তচাপ বেশির ভাগ সময় কোনো নির্দিষ্ট উপসর্গ ছাড়াই থাকতে পারে এ কারণেই একে অনেক সময় ‘সাইলেন্ট কিলার’ বলা হয়। তবে অত্যন্ত বেশি রক্তচাপ বা হাইপারটেনসিভ ক্রাইসিসে মাথাব্যথা হতে পারে।

‎একইভাবে, মাথাব্যথা হলেই ব্রেইন টিউমার হয়েছে, এমনটিও নয়। ব্রেইন টিউমারের ক্ষেত্রে মাথাব্যথার পাশাপাশি বমি, খিঁচুনি, দৃষ্টির সমস্যা, আচরণ বা ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন, দুর্বলতা কিংবা অন্যান্য স্নায়বিক উপসর্গ থাকতে পারে তবে এসব উপসর্গ সবার ক্ষেত্রে থাকে না।

‎টেনশন টাইপ হেডেক কি?

‎প্রাথমিক মাথাব্যথার সবচেয়ে সাধারণ ধরনগুলোর একটি হলো টেনশন-টাইপ হেডেক (Tension-Type Headache বা TTH)। সাধারণত মাথার দুই পাশে বা পুরো মাথাজুড়ে চাপ বা শক্ত করে বাঁধা ধরনের ব্যথা হয়। অনেকের মনে হয়, যেন কেউ রশি বা গামছা দিয়ে মাথাটি শক্ত করে বেঁধে রেখেছে।

‎এ ব্যথা সাধারণত মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার হয় এবং দৈনন্দিন শারীরিক কাজকর্মে খুব বেশি বাড়ে না। মানসিক চাপ, ক্লান্তি, ঘুমের সমস্যা কিংবা দীর্ঘসময় একই ভঙ্গিতে কাজ করার সঙ্গে এর সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে প্রত্যেক রোগীর ক্ষেত্রে একই কারণ কাজ করে না।

‎মাইগ্রেন কি?

‎মাইগ্রেন শুধু মাথাব্যথা নয়, এটি একটি স্নায়ুবৈজ্ঞানিক রোগ। পুরুষের তুলনায় নারীদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়। ব্যথা প্রায়ই মাথার এক পাশে হয় এবং স্পন্দনশীল বা ধকধকে অনুভূত হতে পারে। হাঁটা, সিঁড়ি ওঠা বা অন্যান্য স্বাভাবিক শারীরিক কর্মকাণ্ডে ব্যথা বাড়তে পারে।

‎আলো ও শব্দ অসহ্য লাগা, বমি বমি ভাব বা বমি মাইগ্রেনের সঙ্গে থাকতে পারে। তাই অনেক রোগী অন্ধকার ও নীরব ঘরে শুয়ে থাকতে স্বস্তি বোধ করেন। মাইগ্রেনের আক্রমণ কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এর পেছনে জেনেটিক বা পারিবারিক প্রবণতাও গুরুত্বপূর্ণ।

‎ক্লাস্টার হেডেক কি?

‎ক্লাস্টার হেডেক তুলনামূলকভাবে বিরল, কিন্তু অত্যন্ত তীব্র মাথাব্যথার একটি ধরন। সাধারণত এক পাশের চোখের চারপাশে বা চোখের পেছনে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। একই পাশে চোখ লাল হয়ে যাওয়া, চোখ দিয়ে পানি পড়া, নাক বন্ধ বা পানি পড়া, চোখের পাতা ঝুলে পড়া কিংবা অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

‎ব্যথার আক্রমণ সাধারণত নির্দিষ্ট সময় ধরে হয় এবং কয়েক সপ্তাহ বা মাস ধরে একটি ‘ক্লাস্টার পিরিয়ডে’ বারবার ফিরে আসতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে দিনের একই সময়ে আক্রমণ হওয়ার প্রবণতাও দেখা যায়।

‎সাইনাসের জন্যে মাথাব্যথার ধরণ?

‎নাক ও মুখমণ্ডলের হাড়ের ভেতরে থাকা বায়ুভর্তি কিছু গহ্বরকে সাইনাস বলা হয়। সাইনাসের সংক্রমণ বা প্রদাহ হলে মুখমণ্ডল বা কপালে চাপ ও ব্যথা অনুভূত হতে পারে। তবে শুধু কপাল বা মুখে ব্যথা হলেই সেটিকে ‘সাইনাস হেডেক’ বলা ঠিক নয়। অনেক সময় মাইগ্রেনকেও রোগীরা ভুল করে সাইনাসের ব্যথা মনে করেন।

‎সাইনাসের সংক্রমণের সঙ্গে সাধারণত নাক বন্ধ হওয়া, নাক দিয়ে সর্দি পড়া, গন্ধ কমে যাওয়া, জ্বর কিংবা মুখে চাপ অনুভূতির মতো উপসর্গ থাকতে পারে।

‎ক্রনিক ডেইলি হেডেক কি?

‎মাসের অধিকাংশ দিন বা প্রায় প্রতিদিন মাথাব্যথা হলে তাকে সাধারণভাবে ক্রনিক ডেইলি হেডেক বলা হয়। এটি নিজে একটি নির্দিষ্ট রোগের নাম নয় বরং দীর্ঘস্থায়ী মাথাব্যথার একটি বর্ণনামূলক শব্দ। এর পেছনে ক্রনিক মাইগ্রেন, ক্রনিক টেনশন-টাইপ হেডেকসহ বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। তাই প্রতিদিন মাথাব্যথা হলে কারণ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন।

‎হরমোন ও মাথাব্যথা: সম্পর্ক

‎নারীদের ক্ষেত্রে হরমোনের ওঠানামার সঙ্গে মাইগ্রেনের সম্পর্ক থাকতে পারে। বিশেষ করে মাসিকের আগে বা আশপাশের সময়ে ইস্ট্রোজেনের মাত্রার পরিবর্তনের কারণে কিছু নারীর মাইগ্রেনের আক্রমণ বেড়ে যেতে পারে। গর্ভাবস্থা, প্রসব পরবর্তী সময় কিংবা মেনোপজের সময়ও হরমোনের পরিবর্তনের সঙ্গে মাথাব্যথার ধরনে পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

‎সেক্সুয়াল হেডেক কি?

‎এবার ফিরে আসি মনিকার কথায়। যৌনক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত মাথাব্যথাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে Headache Associated with Sexual Activity বলা হয়। কারও ক্ষেত্রে যৌন উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাথা ও ঘাড়ে ধীরে ধীরে ব্যথা বাড়তে পারে। আবার কারও ক্ষেত্রে অর্গাজমের ঠিক আগে বা সময় হঠাৎ প্রচণ্ড মাথাব্যথা শুরু হতে পারে।

‎এই ধরনের মাথাব্যথার পেছনে যৌনক্রিয়ার সময় শারীরিক পরিশ্রম, হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপের সাময়িক বৃদ্ধি এবং রক্তনালির স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ‘মস্তিষ্কে রক্তচাপ বেড়ে যাওয়াই’ এর একমাত্র বা নিশ্চিত কারণ এমনটি বলা বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়।

‎সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রথমবার মেলামেশাতে হঠাৎ বজ্রপাতের মতো প্রচণ্ড মাথাব্যথা হলে সেটিকে কখনোই সাধারণ মিলন জনিত মাথাব্যথা ধরে নেওয়া যাবে না। কারণ কখনো কখনো মস্তিষ্কের রক্তনালির গুরুতর সমস্যা, যেমন সাবঅ্যারাকনয়েড হেমোরেজ, সেরিব্রাল ভাসোকনস্ট্রিকশন বা অন্যান্য ভাসকুলার সমস্যার সঙ্গে এমন মাথাব্যথা সম্পর্কিত হতে পারে।

‎তীব্র মাথাব্যথার সঙ্গে বমি, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, খিঁচুনি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, দুর্বলতা, কথা জড়িয়ে যাওয়া বা দৃষ্টির সমস্যা থাকলে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে যেতে হবে।

‎আবার যৌনমিলনের সময় সব মাথাব্যথাই শারীরিক পরিশ্রমের কারণে হয় না। উদ্বেগ, যৌনসম্পর্ক নিয়ে মানসিক চাপ, পারফরম্যান্স- অ্যাংজাইটি, দাম্পত্য দ্বন্দ্ব কিংবা যৌন অসন্তুষ্টিও মাথাব্যথার মতো শারীরিক উপসর্গকে বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে এ ধরনের ব্যথাকে শুধু ‘মানসিক’ বলে ধরে নেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় শারীরিক কারণগুলো চিকিৎসকের মাধ্যমে বিবেচনা করা জরুরি।

‎একইভাবে, স্বামী-স্ত্রীর যৌনজীবনে সমস্যা থাকলে তা শুধু দাম্পত্য সম্পর্কের বিষয় নয়, দীর্ঘদিনের যৌন অসন্তুষ্টি ও পারস্পরিক যোগাযোগের ঘাটতি সম্পর্কের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই প্রয়োজন হলে চিকিৎসা, যৌনস্বাস্থ্য বিষয়ে পরামর্শ এবং দাম্পত্য কাউন্সেলিং সবই ভূমিকা রাখতে পারে।

‎আরও কিছু কারণে মাথাব্যথা হতে পারে

‎অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণের সঙ্গে কিছু মানুষের মাথাব্যথা হতে পারে। আবার নিয়মিত বেশি পরিমাণ ক্যাফেইন গ্রহণের পর হঠাৎ তা বন্ধ করলেও ক্যাফেইন উইথড্রল হেডেক  (Caffeine-withdrawal headache) হতে পারে।

‎মানসিক চাপ, উদ্বেগ, ঘুমের সমস্যা ও বিষণ্নতার সঙ্গেও মাথাব্যথার সম্পর্ক রয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার ক্ষেত্রে মন ও শরীরের পারস্পরিক প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ। তবে ‘মন খারাপের কারণে হওয়া সব মাথাব্যথাই সাইকোজেনিক’এমন সরলীকরণও ঠিক নয়। এ ধরনের সমস্যায় রোগীর শারীরিক ও মানসিক দুই দিকই বিবেচনা করে চিকিৎসা করা প্রয়োজন।

‎দুই

‎মাথাব্যথাকে অবহেলা করা ঠিক নয়।

‎মাথাব্যথা যেমন খুব সাধারণ ও তুলনামূলক নিরীহ কারণেও হতে পারে, তেমনি কখনো কখনো এটি গুরুতর রোগের গুরুত্বপূর্ণ সংকেতও হতে পারে। বিশেষ করে জীবনে প্রথমবার হওয়া আকস্মিক ও অত্যন্ত তীব্র মাথাব্যথা, মাথায় আঘাতের পর মাথাব্যথা, জ্বর ও ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়ার সঙ্গে মাথাব্যথা, খিঁচুনি বা অজ্ঞান হওয়ার সঙ্গে মাথাব্যথা, কিংবা নতুন ধরনের ক্রমবর্ধমান মাথাব্যথা হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

‎তাই মাথাব্যথার সঠিক কারণ জানতে হলে শুধু ব্যথার ওষুধ খেয়ে নেওয়াই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন বিস্তারিত ইতিহাস, শারীরিক ও স্নায়ুবৈজ্ঞানিক পরীক্ষা এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা। তারপরই নির্ধারণ করা যায় কোন মাথাব্যথা সাধারণ, কোনটি বিশেষায়িত চিকিৎসা প্রয়োজন এবং কোনটি জরুরি চিকিৎসার সংকেত।

‎আর যৌনমিলনের সঙ্গে মাথাব্যথার সম্পর্ক থাকলে লজ্জা বা সংকোচের কিছু নেই। চিকিৎসকের কাছে বিষয়টি খোলামেলা বলা চিকিৎসারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কারণ সঠিক তথ্যই সঠিক রোগ নির্ণয়ের প্রথম ধাপ।

লেখক- সহযোগী অধ্যাপক।

‎ডি এম সি, কে-৫২, সাইকিয়াট্রিস্ট
‎মেম্বার, আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশন
‎মেম্বার, ইউরোপিয়ান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশন