সিলেট ১০:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
News Title :
স্মৃতির পথে আটচল্লিশ বছর’ সময় ও সাংবাদিকতার এক ‎গুরুত্বপূর্ণ দলিল॥ ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক সংবাদের ব্যস্ততা ছেড়ে হাওরের বুকে‎নৌকা ভ্রমণে বানিয়াচং প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা “সাত দিনেও শয্যা পাইনি’-স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সামনে রোগীর ক্ষোভ! অনুপস্থিত ফার্মাসিস্টকে বদলির নির্দেশ‎ নবীগঞ্জে মোটরসাইকেলে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার পথে প্রাণ গেল স্কুলের দুই কর্মচারীর গোয়াইনঘাটে ৯ লাখ টাকার ভারতীয় জিরা জব্দ কুলাউড়ায় শহীদ রুমী দিবসে আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণ ‎জাতীয় ৪ নেতার মুরাল অপসারণের দায় ইউএনও দিলেন মৃত মুক্তিযোদ্ধার ওপর ‎তৌহিদী জনতার বাঁধা পেরিয়ে অবশেষে উৎসবমুখর পরিবেশে বিয়ানীবাজারে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত ‎মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার দাবি জাতীয় নাগরিক পার্টির এশিয়ান ইউনিভার্সিটিতে উইমেন্স মডেল কলেজের ৬ শিক্ষার্থীর স্কলারশিপ: স্বপ্নজয়ের সংবর্ধনা

কুলাউড়ায় শহীদ রুমী দিবসে আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণ


‎শহীদ রুমী দিবস উপলক্ষে কুলাউড়ার শ্রীপুর মাদ্রাসাবাজারে আলোচনা সভা ও কুইজ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
‎শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ১১টায় শ্রীপুর মাদ্রাসাবাজারের হিরা-গুলজান একাডেমি অ্যান্ড জুনিয়র হাইস্কুলে শহীদ রুমী স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে শহীদ রুমীর জীবন, দেশপ্রেম, মুক্তিযুদ্ধ ও আত্মত্যাগ নিয়ে আলোচনা করা হয়।

‎মুক্তকুড়ি ওপেন স্কাউট গ্রুপের সম্পাদক মো. বিল্লাল হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন হিরা-গুলজান একাডেমি অ্যান্ড জুনিয়র হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. এনামুল হক চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন শহীদ রুমী স্মৃতি পরিষদের উপদেষ্টা সাদিয়া নোশিন তাসনিম, বাসদ (মার্কসবাদী) কুলাউড়া উপজেলা শাখার সদস্য সচিব সাদমান সৌমিক মজুমদার, সদস্য সুমন দেব, নুরুল ইসলাম ফয়সাল, শিক্ষক সঞ্জয় দেবনাথ এবং শ্রীপুর বাজারের ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সহসভাপতি মো. সাদেকুজ্জামান।


‎আলোচনায় বক্তারা বলেন, শহীদ রুমী ছিলেন দেশপ্রেম, সাহস ও আত্মত্যাগের এক উজ্জ্বল প্রতীক। তাঁর দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয়। বক্তারা শহীদ রুমীর জীবন ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

‎অনুষ্ঠানে শহীদ রুমীর তাঁর মা শহীদ জননী জাহানারা ইমামের উদ্দেশে দেওয়া বহুল আলোচিত বক্তব্যের অংশবিশেষ সম্বলিত একটি স্মারক বুকমার্ক প্রদর্শন করা হয়। সেখানে রুমীর বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ রয়েছে: ‘আম্মা, দেশের এই রকম অবস্থায় তুমি যদি আমাকে জোর করে আমেরিকায় পাঠিয়ে দাও, আমি হয়তো যাব শেষ পর্যন্ত। কিন্তু তাহলে আমার বিবেক চিরকালের মতো অপরাধী করে রাখবে আমাকে। আমেরিকা থেকে হয়ত বড় ডিগ্রি নিয়ে এসে বড় ইঞ্জিনিয়ার হবো; কিন্তু বিবেকের … সামনে কোনোদিনও মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারব না। তুমি কি তাই চাও আম্মা?’

‎শহীদ রুমীর এ বক্তব্যে দেশের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও আত্মত্যাগের মানসিকতা ফুটে ওঠে বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

‎পরে শহীদ রুমী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

‎প্রসঙ্গত, শহীদ রুমী ছিলেন শহীদ জননী জাহানারা ইমামের জ্যেষ্ঠ পুত্র ও মুক্তিযুদ্ধের একজন গেরিলা যোদ্ধা। ১৯৭১ সালের ২৯ আগস্ট পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে আটক হওয়ার পর তিনি আর ফিরে আসেননি। ৩০ আগস্ট তাঁর নিখোঁজ হওয়ার দিন হিসেবে স্মরণ করা হয়। তাঁর আত্মত্যাগের স্মৃতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তুলে ধরতেই প্রতি বছর শহীদ রুমী দিবস পালিত হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্মৃতির পথে আটচল্লিশ বছর’ সময় ও সাংবাদিকতার এক ‎গুরুত্বপূর্ণ দলিল॥ ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক

কুলাউড়ায় শহীদ রুমী দিবসে আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণ

সময় ০১:৩৭:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬


‎শহীদ রুমী দিবস উপলক্ষে কুলাউড়ার শ্রীপুর মাদ্রাসাবাজারে আলোচনা সভা ও কুইজ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
‎শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ১১টায় শ্রীপুর মাদ্রাসাবাজারের হিরা-গুলজান একাডেমি অ্যান্ড জুনিয়র হাইস্কুলে শহীদ রুমী স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে শহীদ রুমীর জীবন, দেশপ্রেম, মুক্তিযুদ্ধ ও আত্মত্যাগ নিয়ে আলোচনা করা হয়।

‎মুক্তকুড়ি ওপেন স্কাউট গ্রুপের সম্পাদক মো. বিল্লাল হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন হিরা-গুলজান একাডেমি অ্যান্ড জুনিয়র হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. এনামুল হক চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন শহীদ রুমী স্মৃতি পরিষদের উপদেষ্টা সাদিয়া নোশিন তাসনিম, বাসদ (মার্কসবাদী) কুলাউড়া উপজেলা শাখার সদস্য সচিব সাদমান সৌমিক মজুমদার, সদস্য সুমন দেব, নুরুল ইসলাম ফয়সাল, শিক্ষক সঞ্জয় দেবনাথ এবং শ্রীপুর বাজারের ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সহসভাপতি মো. সাদেকুজ্জামান।


‎আলোচনায় বক্তারা বলেন, শহীদ রুমী ছিলেন দেশপ্রেম, সাহস ও আত্মত্যাগের এক উজ্জ্বল প্রতীক। তাঁর দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয়। বক্তারা শহীদ রুমীর জীবন ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

‎অনুষ্ঠানে শহীদ রুমীর তাঁর মা শহীদ জননী জাহানারা ইমামের উদ্দেশে দেওয়া বহুল আলোচিত বক্তব্যের অংশবিশেষ সম্বলিত একটি স্মারক বুকমার্ক প্রদর্শন করা হয়। সেখানে রুমীর বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ রয়েছে: ‘আম্মা, দেশের এই রকম অবস্থায় তুমি যদি আমাকে জোর করে আমেরিকায় পাঠিয়ে দাও, আমি হয়তো যাব শেষ পর্যন্ত। কিন্তু তাহলে আমার বিবেক চিরকালের মতো অপরাধী করে রাখবে আমাকে। আমেরিকা থেকে হয়ত বড় ডিগ্রি নিয়ে এসে বড় ইঞ্জিনিয়ার হবো; কিন্তু বিবেকের … সামনে কোনোদিনও মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারব না। তুমি কি তাই চাও আম্মা?’

‎শহীদ রুমীর এ বক্তব্যে দেশের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও আত্মত্যাগের মানসিকতা ফুটে ওঠে বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

‎পরে শহীদ রুমী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

‎প্রসঙ্গত, শহীদ রুমী ছিলেন শহীদ জননী জাহানারা ইমামের জ্যেষ্ঠ পুত্র ও মুক্তিযুদ্ধের একজন গেরিলা যোদ্ধা। ১৯৭১ সালের ২৯ আগস্ট পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে আটক হওয়ার পর তিনি আর ফিরে আসেননি। ৩০ আগস্ট তাঁর নিখোঁজ হওয়ার দিন হিসেবে স্মরণ করা হয়। তাঁর আত্মত্যাগের স্মৃতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তুলে ধরতেই প্রতি বছর শহীদ রুমী দিবস পালিত হয়।