
কোনো বৃষ্টিপাত নেই, নদীতেও অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি ঘটেনি। অথচ মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ১ নম্বর খলিলপুর ইউনিয়নের ৬,৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের শতাধিক কৃষকের রোপণ করা ফসলি জমি হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। এতে চোখের সামনে নষ্ট হচ্ছে কৃষকের স্বপ্নের ফসল।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ নয়; বরং নদী-খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহে কৃত্রিম প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং সুইস গেইট ইচ্ছামতো খোলা-বন্ধ করার কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর পেছনে স্থানীয় একটি অসাধু ও প্রভাবশালী চক্র জড়িত বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকার বাজার সংলগ্ন বরাক নদীর পুলের কাছে থাকা সুইস গেইটটি মাছ ধরার সুবিধার্থে একটি গোষ্ঠী নিজেদের ইচ্ছেমতো খোলা ও বন্ধ করে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি শাখা বরাক নদী ও সংযুক্ত খাল গুলোতে বসানো হয়েছে তথাকথিত ‘খাঠি বান’—মাছ ধরার জন্য তৈরি কৃত্রিম বাঁধ। এসব বাঁধের কারণে নদী ও খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
কৃষকদের দাবি, পানি নিষ্কাশনের পথ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় কোথাও পানি আটকে থাকছে, আবার কোথাও উল্টো স্রোতে পানি ঢুকে পড়ছে ফসলি জমিতে। ফলে কোনো বন্যা বা অতিবৃষ্টির ঘটনা না ঘটলেও একের পর এক জমি পানির নিচে চলে যাচ্ছে।
ভুক্তভোগী কৃষকরা বলছেন, কয়েকদিন ধরে জমিতে পানি জমে থাকায় রোপণ করা ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা না হলে শুধু চলতি মৌসুমের ফসলই নয়, কৃষকদের উৎপাদন খরচও পুরোপুরি পানিতে তলিয়ে যাবে।
কৃষকদের প্রশ্ন, নদী ও খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করে মাছ ধরার সুযোগ কীভাবে দেওয়া হচ্ছে? কার অনুমতি বা প্রভাবের কারণে এসব কৃত্রিম বাঁধ অপসারণ করা হচ্ছে না? আর সুইস গেইট পরিচালনার কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম থাকলে সেটি যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না—তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।
এ অবস্থায় স্থানীয় সংবাদকর্মী ও ভুক্তভোগী কৃষকদের পক্ষ থেকে মৌলভীবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
কৃষকদের ফসল রক্ষায় দ্রুত নদী ও খালে স্থাপিত সব অবৈধ ‘খাঠি বান’ উচ্ছেদ, সুইস গেইট নির্ধারিত নিয়মে পরিচালনা এবং পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ সচল করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তাদের আশঙ্কা, প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়াই মানুষের তৈরি এই জলাবদ্ধতায় শতাধিক কৃষকের ফসলের অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে।
আব্দুস সামাদ আজাদ, মৌলভীবাজার 


















