
টানা দুই দিনের ভারি বর্ষণ এবং উজানের পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জ জেলার নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর মধ্যে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের খোয়াই নদীর চাকমা গেট খুলে দেওয়ায় জেলার খোয়াই নদীতে পানির প্রবাহ আরও বেড়েছে। এতে নদী তীরবর্তী এলাকায় বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় খোয়াই নদীর পানি বাল্লা পয়েন্টে বিপৎসীমার ২২০ সেন্টিমিটার, শায়েস্তাগঞ্জ পয়েন্টে ৯৯ সেন্টিমিটার এবং মাছুলিয়া পয়েন্টে ১১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, জেলার প্রায় সব নদ-নদীর পানিই বৃদ্ধি পাচ্ছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি বিরাজ করছে খোয়াই নদীর বাল্লা সীমান্ত পয়েন্টে। পাশাপাশি ধলেশ্বরী, সুতাং, সোনাই, করাঙ্গী, জানিখাল ও জিয়ারখলাসহ বিভিন্ন নদী, খাল ও ছড়ার পানিও বেড়েছে।

হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান সংবাদ মাধ্যমে বলেন, গত দুই দিন ধরে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এ অবস্থায় ভারতের খোয়াই নদীর চাকমা গেট খুলে দেওয়ায় নদীটির পানির প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে কালনী-কুশিয়ারা নদীর পানিও বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। মঙ্গলবার রাত থেকে জেলার প্রায় সব নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় আগামী কয়েক দিন ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে।

তিনি বলেন, খোয়াই নদীর পানি এভাবে বাড়তে থাকলে হবিগঞ্জ শহররক্ষা বাঁধের কয়েকটি দুর্বল অংশ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। কোথাও ভাঙন দেখা দিলে আশপাশের এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এদিকে টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার নিম্নাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে বন্যার শঙ্কা বেড়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
স্বপন রবি দাশ, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি।। 
















