
সুনামগঞ্জের ছাতকে দেশজুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি করা স্ত্রী আছিয়া বেগম হত্যা মামলার একমাত্র আসামি ঘাতক স্বামী আমির আলীকে (৪৫) ঘটনার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৯।
বুধবার (১৭ জুন) রাতে সিলেটের এয়ারপোর্ট থানাধীন ধুপাগুল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আমির আলী সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রপুর গ্রামের ছুরাব আলীর ছেলে
র্যাব ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৮-১৯ বছর আগে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার আলাপুর এলাকার আছিয়া বেগমের সাথে আমির আলীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর গত ১৩ বছর ধরে আমির আলী তার শ্বশুরবাড়িতেই বসবাস করে আসছিলেন। তবে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া ও মারধরের ঘটনা ঘটত।
গত ১৫ জুন সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে আছিয়া বেগম বাজারে কাপড় কিনতে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলে স্বামী আমির আলী তাতে বাধা দেন। এই নিয়ে উভয়ের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। পরবর্তীতে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে আমির আলী নিজেই আছিয়া বেগমকে বাজারে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে আলাপুর এলাকার একটি কালভার্টের ওপর পৌঁছামাত্রই আমির আলী তার লুঙ্গির কোঁচ থেকে ধারালো ছুরি বের করে আছিয়া বেগমের পেট, বুক ও ডান পায়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে পালিয়ে যান।
আছিয়া বেগমের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৭ জুন (বুধবার) দুপুর ১২:০৫ মিনিটের দিকে আছিয়া বেগম মারা যান। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের বোন বাদী হয়ে ছাতক থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ছায়া তদন্ত ও গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে র্যাব-৯। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৭ জুন রাত ৯:১৫ মিনিটের দিকে র্যাব-৯, সিপিএসসি, সিলেট-এর একটি আভিযানিক দল সিলেটের এয়ারপোর্ট থানাধীন খাদিমনগর ইউনিয়নের ধোপাগুল এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে মামলার একমাত্র এজাহারনামীয় আসামি আমির আলীকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে, এম, শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য সুনামগঞ্জের ছাতক থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং ঘটনার সাথে জড়িত অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা থাকলে তাদের আইনের আওতায় আনতে র্যাবের অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।
স্টাফ রিপোর্টার 


















