সিলেট ১২:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬
News Title :
বানিয়াচং মডেল প্রেসক্লাবের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত ‎কালের কণ্ঠে যোগ দিলেন সাংবাদিক আবু বকর সিদ্দিক চৌধুরী রাষ্ট্রীয় সম্মানে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিনের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন ‎চুনারুঘাটে অবৈধ সিলিকা বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান ‎মাধবপুরে অবৈধ বালু ও মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান, ড্রেজার ও পাইপ ধ্বংস ‎ভোরের নীরবতা ভেঙে পুলিশের অভিযান, ৭.৫ কেজি গাঁজাসহ আটক মাদক কারবারি ‎হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবে ‘আমার আব্বা’ গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত বানিয়াচং সাহিত্য পরিষদ পুনর্গঠন: সভাপতি জসিম, সম্পাদক শাহাব ‎মাধবপুরে পানির ফিল্টারে লুকিয়ে পাচারের সময় ১৯২ কেজি গাঁজাসহ কারবারি গ্রেপ্তার ‎সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন আর নেই

ফুটবল মাঠ নিয়ে সংঘর্ষে উত্তপ্ত বানিয়াচং ‎ওসিসহ আহত অন্তত ৩০





‎হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় একটি ফুটবল খেলার মাঠের ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে কয়েকটি মহল্লার বাসিন্দাদের মধ্যে দফায় দফায় উত্তেজনার পর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), এক সংবাদকর্মী ও কয়েকজন পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

‎রোববার (৩১ মে) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার ৩ নম্বর দক্ষিণ-পূর্ব ইউনিয়নের ইনাতখানী মহল্লার ডাক্তারবাড়ি এলাকার একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাঠটি দীর্ঘদিন ধরে ইনাতখানী, দক্ষিণ নন্দীপাড়া এবং আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা খেলাধুলার জন্য ব্যবহার করে আসছেন। শনিবার বিকেলে মাঠে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ চলাকালে মাঠ ব্যবহারের বিষয় নিয়ে কয়েকটি মহল্লার যুবকদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। পরে বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

‎এলাকাবাসীর সূত্র অনুযায়ী, বিরোধের জের ধরে রোববার বিকেলে কয়েকটি মহল্লার লোকজন মাঠের দিকে অগ্রসর হলে অপর পক্ষও সেখানে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহারের ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

‎এই মাঠ মালিকানা হলেও, ইনাতখানীর ডাক্তারবাড়ির হাটি ও পূর্ব আদমখানী মানুষ একক আধিপত্য আছে। দক্ষিণ নন্দীপাড়ার কারও মালিকানা নেই। তারপর সবার জন্য উম্মুক্ত আছে এই মাঠটি। পূর্ব আদমখানী ও ডাক্তারবাড়ি হাটির যুবকদের চাঁদা তুলে প্রায় লক্ষাধিক টাকার মাটি ভরাট করে খেলার উপযোগী করে বলে এলাকাবাসী জানান। পূর্ব আদমখানী ও ডাক্তারবাড়ি হাটির যুবকেরা এখানে সব সময় মাটের রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকে বলে তারা জানান।

তারা জানান, দক্ষিণ নন্দীপাড়া কিছু যুবক অন্যায় ভাবে আধিপত্য দেখাতে যেয়ে সংঘর্ষের সূত্রপাত বলে এলাকাবাসী জানান।

‎সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে বানিয়াচং থানার ওসি নাজমুল হক পায়ে আঘাত পান। এ ছাড়া কয়েকজন পুলিশ সদস্যও আহত হন। এছাড়াও দৈনিক যায়যায়দিনের বানিয়াচং প্রতিনিধি সিনিয়র সাংবাদিক, শেখ যোবায়ের জসিম গুরুতর আহত হন।

‎প্রায় দেড় ঘণ্টা সংঘর্ষ চলার পর সন্ধ্যা ৬টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

আহত সাংবাদিক শেখ যুবায়ের জসিম

‎আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। গুরুতর আহত মুর্শেদ মিয়া ও আরিফ পাপ্পুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

‎সংঘর্ষের পর এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সূত্র জানায়, সন্ধ্যার পর উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সালিসকারীরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বৈঠক করেন। রাত গভীর পর্যন্ত উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা চলতে থাকে।

‎তবে সংঘর্ষে জড়িত পক্ষগুলোর মধ্যে বিরোধ পুরোপুরি নিরসন না হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে পুনরায় সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দেয়। যদিও রাতের দিকে সালিসের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে উভয় পক্ষ সম্মতি দিয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

‎বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক সংঘর্ষের ঘটনা ও নিজের আহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে আমি ও কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছি। উভয় পক্ষেরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় শান্ত পরিবেশ বজায় আছে।

‎ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বানিয়াচং মডেল প্রেসক্লাবের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

ফুটবল মাঠ নিয়ে সংঘর্ষে উত্তপ্ত বানিয়াচং ‎ওসিসহ আহত অন্তত ৩০

সময় ১১:১৮:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬





‎হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় একটি ফুটবল খেলার মাঠের ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে কয়েকটি মহল্লার বাসিন্দাদের মধ্যে দফায় দফায় উত্তেজনার পর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), এক সংবাদকর্মী ও কয়েকজন পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

‎রোববার (৩১ মে) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার ৩ নম্বর দক্ষিণ-পূর্ব ইউনিয়নের ইনাতখানী মহল্লার ডাক্তারবাড়ি এলাকার একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাঠটি দীর্ঘদিন ধরে ইনাতখানী, দক্ষিণ নন্দীপাড়া এবং আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা খেলাধুলার জন্য ব্যবহার করে আসছেন। শনিবার বিকেলে মাঠে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ চলাকালে মাঠ ব্যবহারের বিষয় নিয়ে কয়েকটি মহল্লার যুবকদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। পরে বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

‎এলাকাবাসীর সূত্র অনুযায়ী, বিরোধের জের ধরে রোববার বিকেলে কয়েকটি মহল্লার লোকজন মাঠের দিকে অগ্রসর হলে অপর পক্ষও সেখানে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহারের ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

‎এই মাঠ মালিকানা হলেও, ইনাতখানীর ডাক্তারবাড়ির হাটি ও পূর্ব আদমখানী মানুষ একক আধিপত্য আছে। দক্ষিণ নন্দীপাড়ার কারও মালিকানা নেই। তারপর সবার জন্য উম্মুক্ত আছে এই মাঠটি। পূর্ব আদমখানী ও ডাক্তারবাড়ি হাটির যুবকদের চাঁদা তুলে প্রায় লক্ষাধিক টাকার মাটি ভরাট করে খেলার উপযোগী করে বলে এলাকাবাসী জানান। পূর্ব আদমখানী ও ডাক্তারবাড়ি হাটির যুবকেরা এখানে সব সময় মাটের রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকে বলে তারা জানান।

তারা জানান, দক্ষিণ নন্দীপাড়া কিছু যুবক অন্যায় ভাবে আধিপত্য দেখাতে যেয়ে সংঘর্ষের সূত্রপাত বলে এলাকাবাসী জানান।

‎সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে বানিয়াচং থানার ওসি নাজমুল হক পায়ে আঘাত পান। এ ছাড়া কয়েকজন পুলিশ সদস্যও আহত হন। এছাড়াও দৈনিক যায়যায়দিনের বানিয়াচং প্রতিনিধি সিনিয়র সাংবাদিক, শেখ যোবায়ের জসিম গুরুতর আহত হন।

‎প্রায় দেড় ঘণ্টা সংঘর্ষ চলার পর সন্ধ্যা ৬টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

আহত সাংবাদিক শেখ যুবায়ের জসিম

‎আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। গুরুতর আহত মুর্শেদ মিয়া ও আরিফ পাপ্পুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

‎সংঘর্ষের পর এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সূত্র জানায়, সন্ধ্যার পর উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সালিসকারীরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বৈঠক করেন। রাত গভীর পর্যন্ত উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা চলতে থাকে।

‎তবে সংঘর্ষে জড়িত পক্ষগুলোর মধ্যে বিরোধ পুরোপুরি নিরসন না হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে পুনরায় সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দেয়। যদিও রাতের দিকে সালিসের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে উভয় পক্ষ সম্মতি দিয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

‎বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক সংঘর্ষের ঘটনা ও নিজের আহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে আমি ও কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছি। উভয় পক্ষেরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় শান্ত পরিবেশ বজায় আছে।

‎ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।