
উপমহাদেশের প্রখ্যাত সাংবাদিক ও শ্রমিক নেতা, সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত সিরাজুল হোসেন খান শততম বর্ষে পদার্পণ করেছেন আজ ( শুক্রবার)। ১৯২৬ সালের ১৭ জুলাই বানিয়াচংয়ের ঐতিহ্যবাহী সাগর দিঘির পশ্চিম পাড় বড় বাড়িতে জন্ম গ্রহণ করেন তিনি। তাঁর পিতা মুসলিমলীগ নেতা আবুল হোসেন খান এবং চাচা ছিলেন এমএলএ অ্যাডভোকেট খান সাহেব নুরুল হোসেন।
ছোট বেলা থেকেই সিরাজুল হোসেন খান তুখোড় মেধাবী ছিলেন। তিনি এল আর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সাথে মেট্টিক পাস করেন। এইচএসসিতে হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজে ভর্তি হন। কৃতিত্বের সাথে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামের ইতিহাসে অনার্স (সম্মান) ভর্তি হন।
১৯৫০ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম. এ পাশ করেন। ছাত্র থাকা অবস্থায়ই ইংরেজি দৈনিক দ্যি অবজারভার পত্রিকার সহ-সম্পাদক হিসেবে যোগদান করেন।
সিরাজুল হোসেন খান অসীম সাহসী এবং অনলবর্ষী বক্তা ছিলেন। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিয়ে আন্দোলন করে ১৪ মাস কারাভোগ করেন তিনি।
উচুঁ মাপের সাংবাদিক ও কলাম লেখক ছিলেন। তিনি পাকিস্তান টাইমসের ঢাকা সংবাদদাতা এবং পূর্ব পাকিস্তান সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পাশাপাশি ১৯৬৭-১৯৬৯ সালে পূর্ব পাকিস্তান শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি নিউজ এজেন্সি এনা প্রতিষ্ঠা করেন।
হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ) আসন থেকে ২ বার সংসদ সদস্য ছিলেন।
ছিলেন জাতীয় পার্টি সরকারের একাধিক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। তিনি তথ্য, শ্রম ও কর্মসংস্থান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন।
সিরাজুল হোসেন খান মৎস্যমন্ত্রী থাকাকালীন বলেছিলেন, ‘জাল যার, জলা তার’। তিনি ব্যক্তি হিসেবে ছিলেন অত্যন্ত সৎ, যোগ্য, মেধাবী, দেশপ্রেমিক ও দূরদর্শী। ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক।
২০০৭ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ৮১ বছর বয়সে ইহধাম ত্যাগ করেন। তিনি নেই, রয়ে গেছে কর্মময় জীবনের অসংখ্য স্মৃতি।
এ বরেণ্য রাজনৈতিক নেতার শততম জন্মবার্ষিকী স্মরণীয় করে রাখতে পরিবারের পক্ষ থেকে বড় আকারে সভার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রয়াত সাবেক মন্ত্রী সিরাজুল হোসেন খান এঁর ভাতিজা আরশাদ হোসেন খান বিপলু।
লেখকঃ সভাপতি, বানিয়াচং মডেল প্রেসক্লাব।
শিব্বির আহমদ আরজু। 


















