
বৃহস্পতিবার ১৬ জুলাই বিকাল সাড়ে ৫ টায় স্থানীয় পর্যায়ে পশ্চিমপাড়া গ্রামটির পুর্নবাসন করার লক্ষে উক্ত পাড়ায় এক বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ১৪ নং দিগপাইত ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ জিয়াউল হক মাস্টারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আহমেদ ফরিদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামালপুর সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম চাঁন, সদর উপজেলা বিএনপি’র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এম গোলাম মোস্তফা মুকুল, জাতীয় যুব পুরস্কার প্রাপ্ত উদ্যোক্তা ও যুব সংগঠক সূর্য তোরণ সমাজ সেবা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও বাস্তবায়ন সংস্থা জামালপুর জেলা শাখার সভাপতি ও গণমাধ্যম কর্মী মোঃ খোরশেদ আলম প্রমুখ।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জামালপুর সদর উপজেলার ১৪ নং দিগপাইত ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান রাহাদ হোসেন, ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোঃ আবুল কালাম আজাদ,সাধারণ সম্পাদক মোঃ রঞ্জু মিয়াসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসী। স্থানীয় এলাকাবাসী বলেন, জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভেতরে অবস্থিত অত্র এলাকার সবচেয়ে প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী গ্রাম রঘুনাথপুর দিঘুলী ‘পশ্চিমপাড়া’। বর্তমানে এই গ্রামের প্রায় ১৫৫টি পরিবারের প্রায় ৫০০ মানুষ চরম উদ্বেগ, উৎকণ্ঠায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মহাপরিকল্পনার আড়ালে পড়ে আজ অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে শত বছরের পুরোনো এই জনপদ।
বিদ্যমান সংকট ও উদ্বেগের কারণসমূহ চারপাশে বাউন্ডারির মাধ্যমে অবরুদ্ধতার আশঙ্কা: অর্থনৈতিক অঞ্চল(EZ) কর্তৃপক্ষ গ্রামটিকে মাঝখানে রেখে চারপাশ দিয়ে সীমানা প্রাচীর (বাউন্ডারি ওয়াল) নির্মাণের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে। এটি বাস্তবায়িত হলে গ্রামটি বাইরের জগৎ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।

চারদিক প্রাচীরঘেরা হয়ে পড়লে গ্রামবাসীদের যাতায়াত, জরুরি চিকিৎসা, শিক্ষা এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়বে। গ্রামবাসীদের ভাষায়, এই প্রাচীর দেওয়া হলে তারা একটি “জীবিত কবরস্থানের” মধ্যে পতিত হবেন।
মানবেতর জীবনযাপন: অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভেতরে বন্দিদশার আশঙ্কায় গ্রামবাসীরা কোনো ধরনের স্থায়ী অবকাঠামো বা উন্নয়ন কাজ করতে পারছেন না। ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হওয়ায় প্রতিনিয়ত তাদের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
মানসিক ও সামাজিক বিপর্যয়: শত বছরের পুরোনো পৈতৃক ভিটেমাটি হারানোর ভয় এবং অবরুদ্ধ হয়ে পড়ার আতঙ্ক এখানকার শিশু ও বৃদ্ধদের মানসিকভাবে পঙ্গু করে দিচ্ছে।
স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, এমপি ও সরকারের প্রতি ভুক্তভোগীদের জোর দাবি, সীমানা প্রাচীর দিয়ে একটি প্রাচীন জনপদের ৫০০ মানুষকে অবরুদ্ধ করা কোনো মানবিক সমাধান হতে পারে না। দেশের উন্নয়ন ও মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার—দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা অত্যন্ত জরুরি। এই সংকট নিরসনে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান ও সংসদ সদস্য এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে যে দাবি গুলো জানানো হয়:
১. দ্রুত ও পরিকল্পিত পুনর্বাসন: ইকোনমিক জোনের স্বার্থে যদি গ্রামটিকে অবরুদ্ধ করতেই হয়, তবে গ্রামবাসীদের জীবন রক্ষার্থে অবিলম্বে তাদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত নতুন ও স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
২. উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও কর্মসংস্থান: পৈতৃক ভিটেমাটি ও কৃষিজমি হারানোর যৌক্তিক ও সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে। এছাড়া ইকোনমিক জোনে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের অগ্রাধিকার দিতে হবে।
৩. পুনর্বাসন না হওয়া পর্যন্ত বাউন্ডারি স্থগিত রাখা: যতক্ষণ না পর্যন্ত প্রতিটি পরিবারের জন্য সম্মানজনক পুনর্বাসন ও বাসস্থানের বিকল্প ব্যবস্থা সম্পন্ন হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ স্থগিত রাখতে হবে।
উন্নয়ন কখনোই সাধারণ মানুষের জীবনকে বিপন্ন করে হতে পারে না। জামালপুর ইকোনমিক জোনের মাধ্যমে এলাকার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আসুক এটি সবার কাম্য, তবে তার মূল্য যেন পশ্চিমপাড়া গ্রামের নিরীহ মানুষদের জীবন দিয়ে দিতে না হয়। মানবিক দিক বিবেচনা করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের প্রতি বিনীত অনুরোধ—আপনারা অতি দ্রুত সরেজমিনে এসে এই মানবিক সংকটের সুষ্ঠু সমাধানে এগিয়ে আসুন এবং ৫০০ পরিবারের সদস্যদেরকে একটি অন্ধকার ভবিষ্যৎ থেকে রক্ষা করুন।
ভুক্তভোগী ৫০০ মানুষের এই মানবিক সংকট সমাধানে দ্রুত সরেজমিন তদন্ত ও যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও এলাকাবাসী।
মোঃ খোরশেদ আলম, নিজস্ব প্রতিবেদক জামালপুর। 

















