সিলেট ১১:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬
News Title :
‎সিলেট বিভাগে কৃষকের ঘরে নেই ঈদের আনন্দ! ‎টাঙ্গাইলে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের নামাজের প্রস্তুতি সম্পন্ন আয়কর অডিট আতঙ্ক নয়: করদাতার করণীয় ‎বিজিবি-বিএসএফ ও খোয়াই পুলিশের চমৎকার সমন্বয়ে মালিকের হাতে ফিরল গবাদি পশু‎ কুরবানির জন্তুু জবাইয়ের সুন্নাহ পদ্ধতি। ‎জৈন্তাপুরে র‍্যাবের অভিযান: ১২১ বোতল বিদেশী মদ ও সিএনজিসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে সিলেটের কেন্দ্রীয় শাহী ঈদগাহ পরিদর্শন করলেন-মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। সীমান্তে চোরাই গরুর উৎসব, নীরব প্রশাসন—অভিযোগ এলাকাবাসীর! হবিগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ ৪জন গ্রেপ্তার নবীগঞ্জে দুই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার
‎সোনালী ফসল কেড়ে নিল অকাল বন্যা..

‎সিলেট বিভাগে কৃষকের ঘরে নেই ঈদের আনন্দ!

আব্দুল হক মামুন, সিলেট।




‎পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ যখন দেশজুড়ে, তখন সিলেট বিভাগের হাওরাঞ্চলের কৃষকদের ঘরে চলছে হাহাকার। আনন্দ তো দূরের কথা, চোখে-মুখে শুধুই অন্ধকারের ছায়া। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর টানা অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট অকাল বন্যায় তলিয়ে গেছে কৃষকের একমাত্র সম্বল বোরো ধান। নিজের মুখের গ্রাসটুকু ঘরে তুলতে না পেরে, উল্টো ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে চরম হতাশায় দিন কাটছে হাজারো কৃষকের।

‎হাওরবাসীর সারা বছরের একমাত্র ভরসা এই বোরো ফসল। কিন্তু এবারের আকস্মিক বন্যা তাদের সেই স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। ফলে সিলেট বিভাগের কৃষকদের ঈদ কেটেছে সম্পূর্ণ নিরানন্দ ও বিষাদের মধ্য দিয়ে।

‎সিলেট বিভাগের ধানের অন্যতম প্রধান জোগানদাতা সুনামগঞ্জ জেলা। তবে এবারের পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিতে জেলার হাওরাঞ্চল সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে বিভিন্ন স্থানে ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙে হু হু করে পানি ঢুকে তলিয়ে গেছে হাজার হাজার হেক্টর জমির কাঁচা ও আধা-পাকা ধান।

‎জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৮ থেকে ২৫ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর আগে জলাবদ্ধতার কারণে আরও প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়েছিল‎স্থানীয় কৃষকদের মতে, ফসলহানি ও জলাবদ্ধতায় প্রায় ৫০০ কোটি টাকার ধান পানির নিচে তলিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে।‎জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৮ থেকে ২৫ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর আগে জলাবদ্ধতার কারণে আরও প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়েছিল

‎বন্যার পাশাপাশি হাওরে পর্যাপ্ত রোদ না থাকায় বিপাকে পড়েছিলেন কৃষকরা। খলায় রাখা ধান শুকাতে না পেরে অঙ্কুরিত হয়ে নষ্ট হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দীর্ঘদিন ধান শুকাতে না পারায় খলার মধ্যে ই নষ্ট হয়ে গেছে কৃষকের স্বপ্ন।

‎সুনামগঞ্জের পর সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে হবিগঞ্জ জেলায়। ধান পাকার ঠিক আগমুহূর্তে উজান থেকে আসা আকস্মিক বন্যায় তলিয়ে যায় জেলার অধিকাংশ হাওর।

‎কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, জেলায় অন্তত ১১ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমির ধান পানির নিচে। ফসল ও উৎপাদন খরচ মিলিয়ে জেলার বিভিন্ন হাওরে প্রায় ৩৪০ কোটি থেকে শুরু করে কোনো কোনো এলাকায় ৪৭৬ কোটি টাকার ধান বিনষ্ট হয়েছে।

‎হাওরের নিচু এলাকার পাশাপাশি জেলার কিছু উঁচু এলাকায় ফসল রক্ষা পেলেও সেখানে হানা দিয়েছে শিলাবৃষ্টি। শিলাবৃষ্টির কারণে প্রায় ৫০ শতাংশ ধান নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে উঁচু এলাকার কৃষকেরাও তাদের উৎপাদন খরচ তুলতে পারেননি।

‎ধানের জমিগুলো সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় শস্যের পাশাপাশি তীব্র গোখাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। খড় বা ঘাস কাটার কোনো জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়ে অনেক কৃষক তাদের গৃহপালিত গরু-ছাগল পানির দরে বিক্রি করে দিচ্ছেন। বানিয়াচং উপজেলার লোহাজুড়ি গ্রামের কৃষক আশিকুর রহমান তিনি গোখাদ্য সংকটের কারনে তিনি গরু বিক্রি করতে বাদ্য হন। এমন অবস্থা হাওরাঞ্চলে অধিকাংশ কৃষকের।

‎হাওরাঞ্চলের সিংহভাগ কৃষকই স্থানীয় ব্যাংক, এনজিও কিংবা দাদনদারদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে বোরো চাষ করেছিলেন। ফসল বেঁচে সেই ঋণ পরিশোধের স্বপ্ন দেখছিলেন তারা। কিন্তু এখন ফসলও নেই, ঘরে খাওয়ার ধানও নেই। উল্টো মাথার ওপর ঝুলছে ঋণের কিস্তির বোঝা।

‎সব মিলিয়ে, সোনালী ফসলের অপমৃত্যুর সাথে সাথে ম্লান হয়ে গেছে হাওরপাড়ের মানুষের ঈদ আনন্দ। বেঁচে থাকার লড়াইয়ে এখন দিশেহারা সিলেট বিভাগের লাখো কৃষক পরিবার।

‎সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে দ্রুত এবং কার্যকর ত্রাণ ও কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা না পেলে এই সংকট আরও দীর্ঘায়িত হবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

লেখক- সম্পাদক ও প্রকাশক-

অনলাইন সিলেট নিউজ পোর্টাল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎সিলেট বিভাগে কৃষকের ঘরে নেই ঈদের আনন্দ!

‎সোনালী ফসল কেড়ে নিল অকাল বন্যা..

‎সিলেট বিভাগে কৃষকের ঘরে নেই ঈদের আনন্দ!

সময় ০২:৫১:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬

আব্দুল হক মামুন, সিলেট।




‎পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ যখন দেশজুড়ে, তখন সিলেট বিভাগের হাওরাঞ্চলের কৃষকদের ঘরে চলছে হাহাকার। আনন্দ তো দূরের কথা, চোখে-মুখে শুধুই অন্ধকারের ছায়া। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর টানা অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট অকাল বন্যায় তলিয়ে গেছে কৃষকের একমাত্র সম্বল বোরো ধান। নিজের মুখের গ্রাসটুকু ঘরে তুলতে না পেরে, উল্টো ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে চরম হতাশায় দিন কাটছে হাজারো কৃষকের।

‎হাওরবাসীর সারা বছরের একমাত্র ভরসা এই বোরো ফসল। কিন্তু এবারের আকস্মিক বন্যা তাদের সেই স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। ফলে সিলেট বিভাগের কৃষকদের ঈদ কেটেছে সম্পূর্ণ নিরানন্দ ও বিষাদের মধ্য দিয়ে।

‎সিলেট বিভাগের ধানের অন্যতম প্রধান জোগানদাতা সুনামগঞ্জ জেলা। তবে এবারের পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিতে জেলার হাওরাঞ্চল সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে বিভিন্ন স্থানে ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙে হু হু করে পানি ঢুকে তলিয়ে গেছে হাজার হাজার হেক্টর জমির কাঁচা ও আধা-পাকা ধান।

‎জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৮ থেকে ২৫ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর আগে জলাবদ্ধতার কারণে আরও প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়েছিল‎স্থানীয় কৃষকদের মতে, ফসলহানি ও জলাবদ্ধতায় প্রায় ৫০০ কোটি টাকার ধান পানির নিচে তলিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে।‎জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৮ থেকে ২৫ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর আগে জলাবদ্ধতার কারণে আরও প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়েছিল

‎বন্যার পাশাপাশি হাওরে পর্যাপ্ত রোদ না থাকায় বিপাকে পড়েছিলেন কৃষকরা। খলায় রাখা ধান শুকাতে না পেরে অঙ্কুরিত হয়ে নষ্ট হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দীর্ঘদিন ধান শুকাতে না পারায় খলার মধ্যে ই নষ্ট হয়ে গেছে কৃষকের স্বপ্ন।

‎সুনামগঞ্জের পর সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে হবিগঞ্জ জেলায়। ধান পাকার ঠিক আগমুহূর্তে উজান থেকে আসা আকস্মিক বন্যায় তলিয়ে যায় জেলার অধিকাংশ হাওর।

‎কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, জেলায় অন্তত ১১ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমির ধান পানির নিচে। ফসল ও উৎপাদন খরচ মিলিয়ে জেলার বিভিন্ন হাওরে প্রায় ৩৪০ কোটি থেকে শুরু করে কোনো কোনো এলাকায় ৪৭৬ কোটি টাকার ধান বিনষ্ট হয়েছে।

‎হাওরের নিচু এলাকার পাশাপাশি জেলার কিছু উঁচু এলাকায় ফসল রক্ষা পেলেও সেখানে হানা দিয়েছে শিলাবৃষ্টি। শিলাবৃষ্টির কারণে প্রায় ৫০ শতাংশ ধান নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে উঁচু এলাকার কৃষকেরাও তাদের উৎপাদন খরচ তুলতে পারেননি।

‎ধানের জমিগুলো সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় শস্যের পাশাপাশি তীব্র গোখাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। খড় বা ঘাস কাটার কোনো জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়ে অনেক কৃষক তাদের গৃহপালিত গরু-ছাগল পানির দরে বিক্রি করে দিচ্ছেন। বানিয়াচং উপজেলার লোহাজুড়ি গ্রামের কৃষক আশিকুর রহমান তিনি গোখাদ্য সংকটের কারনে তিনি গরু বিক্রি করতে বাদ্য হন। এমন অবস্থা হাওরাঞ্চলে অধিকাংশ কৃষকের।

‎হাওরাঞ্চলের সিংহভাগ কৃষকই স্থানীয় ব্যাংক, এনজিও কিংবা দাদনদারদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে বোরো চাষ করেছিলেন। ফসল বেঁচে সেই ঋণ পরিশোধের স্বপ্ন দেখছিলেন তারা। কিন্তু এখন ফসলও নেই, ঘরে খাওয়ার ধানও নেই। উল্টো মাথার ওপর ঝুলছে ঋণের কিস্তির বোঝা।

‎সব মিলিয়ে, সোনালী ফসলের অপমৃত্যুর সাথে সাথে ম্লান হয়ে গেছে হাওরপাড়ের মানুষের ঈদ আনন্দ। বেঁচে থাকার লড়াইয়ে এখন দিশেহারা সিলেট বিভাগের লাখো কৃষক পরিবার।

‎সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে দ্রুত এবং কার্যকর ত্রাণ ও কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা না পেলে এই সংকট আরও দীর্ঘায়িত হবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

লেখক- সম্পাদক ও প্রকাশক-

অনলাইন সিলেট নিউজ পোর্টাল।