
মৌলভীবাজারে ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে আকস্মিক বজ্রপাতের পৃথক ঘটনায় দুইজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২২ মে) জেলা সদর উপজেলার হামিদিয়া চা-বাগান এবং রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নে এসব ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে একজন চা-শ্রমিক ও অন্যজন স্থানীয় কৃষক। এসব ঘটনায় নিহতদের পরিবার ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের অন্তর্গত হামিদিয়া চা-বাগানে বজ্রপাতের শিকার হন স্বপন মুন্ডা নামের এক যুবক। আকস্মিক বজ্রাঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিহত স্বপন মুন্ডার বাড়ি কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের দেওরাছড়া চা-বাগানে বলে জানা গেছে। জুমার দিনে তরতাজা এই যুবকের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো চা-শ্রমিক পল্লীতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
অন্যদিকে, জেলার রাজনগর উপজেলার ৭নং কামারচাক ইউনিয়নের ভোলানগর গ্রামে বজ্রপাতে মো. তালেব মিয়া নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। জানা যায়, সকালে তিনি নিজের জমিতে ধান কাটতে যান। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আকাশে কালো মেঘ জমে বৃষ্টি শুরু হলেও জীবিকার তাগিদে তিনি কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। বেলা আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে বজ্রপাত হলে তিনি জমিতেই লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান। মাঠে থাকা অন্যান্য কৃষক ও স্বজনরা ছুটে গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করেন।
বজ্রপাতের এই পৃথক দুটি ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে চারপাশের পরিবেশ।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, চলতি মৌসুমে এ অঞ্চলে প্রায়ই বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হচ্ছে। জীবিকার তাগিদে মানুষ মাঠে কিংবা বাগানে কাজ করতে গিয়ে চরম ঝুঁকিতে পড়ছেন। মেঘের গর্জন শুনলে বা আকাশ কালো হয়ে এলে খোলা মাঠ, উঁচু স্থান ও গাছপালার নিচে অবস্থান না করে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
প্রকৃতির এই আকস্মিক রুদ্ররূপে দুটি পরিবারের উপার্জনক্ষম মানুষকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তাদের স্বজনরা। পুরো জেলা জুড়েই এখন শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে।
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি 


















