সিলেট ০৬:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
News Title :
খলিলপুর ও মনুমূখ ইউনিয়নে ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠিত ‎লাখাইয়ে দূর্নীতি কমিশন এর বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও পুরুষ্কার বিতরনী অনুষ্ঠিত। এশিয়ান ইউনিভার্সিটিতে মৌলভীবাজারের ৬ শিক্ষার্থীর ফুল স্কলারশিপ ‎বিয়ানীবাজারে ১০ কোটি টাকা নিয়ে উধাও আদম ব্যবসায়ী দুই ভাই! মধুপুর শালবন রক্ষায় শোলাকুড়ীতে বিশাল মানববন্ধন, ঘোষিত ৭ দফা দাবি ‎টাঙ্গাইলে র‍্যাবের সাঁড়াশি অভিযান: শিশু ফাতেমা হত্যা ও সিরাজগঞ্জের ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার ‎জুড়ীতে দুদকের দুর্নীতি বিরোধী স্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত বই পাঠে বিমূখতা তরুণদের চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতা নষ্ট করে দিচ্ছেঃ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক ভাতকুড়া-নলুয়া ফোরলেন প্রকল্পের ঘোষণা দিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী- আযম খান তেলিয়াপাড়া চা বাগানে শ্রমিক দ্বন্দ্বের অবসান, সমঝোতায় ফিরলো স্বাভাবিক উৎপাদন

‎বিয়ানীবাজারে ১০ কোটি টাকা নিয়ে উধাও আদম ব্যবসায়ী দুই ভাই!

অভিযুক্ত দুই ভাইয়ের এক ভাই (ফাইল ছবি)





‎বিয়ানীবাজার থেকে ইতালী যেতে ইচ্ছুক শতাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়েছেন আপন দুই ভাই। তাদের একজন কাওছার হোসেন ইতালীতে বসবাস করেন। অপরজন দেলোওয়ার হোসেন দেশে অবস্থান করে এই টাকা গ্রহণ করেছেন। তারা উপজেলার জলঢুপ পাড়িয়াবহর এলাকার সফাত আলীর ছেলে। এদিকে টাকা ফেরত চেয়ে ভুক্তভোগীরা গতকাল রাতে আদম ব্যবসায়ীদের বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে মধ্যরাতে থানা পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।

‎ভূক্তভোগীরা জানান, আদম ব্যবসায়ী কাওছার হোসেন ইতালীতে বসবাস করেন। সে সুযোগ নিয়ে তিনি প্রথমদিকে ১০-১২জন লোককে কৃষি ভিসায় ইতালী নিয়ে যান। এমন খবর সর্বত্র জানাজানি হলে ইউরোপগামী মানুষের লাইন পড়ে কাওছারের বাড়িতে। একপর্যায়ে জনপ্রতি ১৪-১৫ লক্ষ টাকা নির্ধারণ করে ইটালী যেতে রাজি হন স্থানীয়রা। এদের মধ্যে কেউ নির্ধারিত টাকার পুরোটা আবার কেউ আংশিক কাওছারের দেশে থাকা ভাই দেলোওয়ার হোসেনের কাছে তুলে দেন। যার পরিমাণ ১০ কোটি টাকার উপরে হবে বলে জানান ভুক্তভোগীরা। অপরদিকে প্রায় ৪-৫ বছর ধরে ইতালী যেতে না পারা লোকজন টাকার জন্য চাপ দেন দেলোওয়ার-কাওছারকে। উপায় না পেয়ে কাওছার ইতালী থেকে অন্যত্র গিয়ে আত্মগোপন করেন। আর দেলোওয়ার হয়ে যান লাপাত্তা।

‎তবে ভুক্তভোগীরা জড়ো হয়ে বিকেল থেকে ওই আদম ব্যবসায়ীদের বাড়ি ঘেরাও করে টাকার জন্য চাপ দেন। কিন্তু তারা কোন সদুত্তর না পেয়ে ক্রমেই ক্ষুব্দ হতে থাকেন। পরে পরিস্থিতির অবনতি হলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় মধ্যরাতে পুলিশ গিয়ে ভুক্তভোগীদের শান্ত করেন।
‎ঘটনাস্থলে উপস্থিত লাউতা ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন জানান, আগামী সোমবার দুপুরে ইউএনও কার্যালয়ে আদম ব্যবসায়ীদের পিতা এবং ভুক্তভোগীরা সমঝোতা বৈঠকে বসবেন। সেখান থেকে পাওনা টাকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে।

‎দেলোওয়ার-কাওছারের পিতা সফাত আলী জানান, ইতালী দূতাবাস বাংলাদেশীদের জন্য ভিসা প্রদান বন্ধ করে দেয়ায় আমার ছেলেরা বিপাকে পড়েছে। তারা ইতালীর নিয়োগ কর্তৃপক্ষকে মোটা অংকের টাকা অগ্রীম প্রদান করায় সমস্যা আরো প্রকট হয়েছে।

‎বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ওমর ফারুক বলেন, পাওনা টাকার জন্য ক্ষুব্দ লোকদের শান্ত করে সমঝোতা বৈঠকের জন্য রাজি করানো হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খলিলপুর ও মনুমূখ ইউনিয়নে ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠিত

‎বিয়ানীবাজারে ১০ কোটি টাকা নিয়ে উধাও আদম ব্যবসায়ী দুই ভাই!

সময় ০৪:২০:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
অভিযুক্ত দুই ভাইয়ের এক ভাই (ফাইল ছবি)





‎বিয়ানীবাজার থেকে ইতালী যেতে ইচ্ছুক শতাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়েছেন আপন দুই ভাই। তাদের একজন কাওছার হোসেন ইতালীতে বসবাস করেন। অপরজন দেলোওয়ার হোসেন দেশে অবস্থান করে এই টাকা গ্রহণ করেছেন। তারা উপজেলার জলঢুপ পাড়িয়াবহর এলাকার সফাত আলীর ছেলে। এদিকে টাকা ফেরত চেয়ে ভুক্তভোগীরা গতকাল রাতে আদম ব্যবসায়ীদের বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে মধ্যরাতে থানা পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।

‎ভূক্তভোগীরা জানান, আদম ব্যবসায়ী কাওছার হোসেন ইতালীতে বসবাস করেন। সে সুযোগ নিয়ে তিনি প্রথমদিকে ১০-১২জন লোককে কৃষি ভিসায় ইতালী নিয়ে যান। এমন খবর সর্বত্র জানাজানি হলে ইউরোপগামী মানুষের লাইন পড়ে কাওছারের বাড়িতে। একপর্যায়ে জনপ্রতি ১৪-১৫ লক্ষ টাকা নির্ধারণ করে ইটালী যেতে রাজি হন স্থানীয়রা। এদের মধ্যে কেউ নির্ধারিত টাকার পুরোটা আবার কেউ আংশিক কাওছারের দেশে থাকা ভাই দেলোওয়ার হোসেনের কাছে তুলে দেন। যার পরিমাণ ১০ কোটি টাকার উপরে হবে বলে জানান ভুক্তভোগীরা। অপরদিকে প্রায় ৪-৫ বছর ধরে ইতালী যেতে না পারা লোকজন টাকার জন্য চাপ দেন দেলোওয়ার-কাওছারকে। উপায় না পেয়ে কাওছার ইতালী থেকে অন্যত্র গিয়ে আত্মগোপন করেন। আর দেলোওয়ার হয়ে যান লাপাত্তা।

‎তবে ভুক্তভোগীরা জড়ো হয়ে বিকেল থেকে ওই আদম ব্যবসায়ীদের বাড়ি ঘেরাও করে টাকার জন্য চাপ দেন। কিন্তু তারা কোন সদুত্তর না পেয়ে ক্রমেই ক্ষুব্দ হতে থাকেন। পরে পরিস্থিতির অবনতি হলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় মধ্যরাতে পুলিশ গিয়ে ভুক্তভোগীদের শান্ত করেন।
‎ঘটনাস্থলে উপস্থিত লাউতা ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন জানান, আগামী সোমবার দুপুরে ইউএনও কার্যালয়ে আদম ব্যবসায়ীদের পিতা এবং ভুক্তভোগীরা সমঝোতা বৈঠকে বসবেন। সেখান থেকে পাওনা টাকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে।

‎দেলোওয়ার-কাওছারের পিতা সফাত আলী জানান, ইতালী দূতাবাস বাংলাদেশীদের জন্য ভিসা প্রদান বন্ধ করে দেয়ায় আমার ছেলেরা বিপাকে পড়েছে। তারা ইতালীর নিয়োগ কর্তৃপক্ষকে মোটা অংকের টাকা অগ্রীম প্রদান করায় সমস্যা আরো প্রকট হয়েছে।

‎বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ওমর ফারুক বলেন, পাওনা টাকার জন্য ক্ষুব্দ লোকদের শান্ত করে সমঝোতা বৈঠকের জন্য রাজি করানো হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।