
বাংলাদেশের মানচিত্র থেকে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যের শালবন। গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলার ভাওয়ালের গড় ও মধুপুরের গড় হিসেবে পরিচিত এই বিশাল বনভূমি আজ চরম অস্তিত্ব সংকটে। স্থানীয় প্রভাবশালী দখলবাজচক্র ও বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে নির্বিচারে গাছ কেটে উজাড় করা হচ্ছে এই বন। এই ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ করে শালবন রক্ষা ও পুনর্গঠনের দাবিতে আজ রবিবার (১৯ এপ্রিল) সকালে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার শোলাকুড়ীতে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার সকাল ১১টায় শোলাকুড়ী উচ্চ বিদ্যালয় গেটের সামনে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। সাংবাদিক হাসনাত জোবায়ের পরিবেশকর্মী রেজাউল করিম রাতুলের সমন্বয়ে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ।

মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এক সময় শোলাকুড়ী, পীরগাছা ও দোখলা অঞ্চলের শালবন ছিল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার। কিন্তু বর্তমানে বনের বুক চিরে চলছে অবৈধ দখলের মহোৎসব। সামাজিক বনায়নের আড়ালে কেটে ফেলা হচ্ছে আদি শালগাছ। এর ফলে কেবল বন উজাড় হচ্ছে না, বরং হুমকির মুখে পড়েছে বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য। স্থানীয়দের অভিযোগ, বনের গাছ কেটে জমি দখল করে গড়ে তোলা হচ্ছে বাণিজ্যিক স্থাপনা ও কৃষিজমি, যা বনটিকে বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে।
মানববন্ধন থেকে বন রক্ষায় সাতটি সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরা হয়: ১. বনের আদি শালগাছ কাটা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। ২. বনের জমি দখল ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে হবে। ৩. সামাজিক বনায়নের নামে প্রাকৃতিক শালগাছ কাটা বন্ধ করা। ৪. ক্ষতিগ্রস্ত শালবন পুনর্গঠনে বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করা। ৫. শালবন রক্ষায় বিশেষজ্ঞদের নিয়ে জাতীয় কমিটি গঠন করা। ৬. বন রক্ষায় স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা। ৭. শালবনে বিদেশি বা বাণিজ্যিক প্রজাতির গাছ রোপণ নিষিদ্ধ করা।

আয়োজক রেজাউল করিম রাতুল বলেন,শালবন আমাদের ফুসফুস। এই বন ধ্বংস হওয়ার অর্থ হলো আমাদের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলা। আমরা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাই যেন দ্রুত এই বনখেকোদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
আয়োজক সাংবাদিক হাসনাত জোবায়ের বলেন, বন কর্মকর্তাদের উদাসীনতা ও দুর্নীতির কারণে আজ শালবন ধ্বংসের মুখে। অবিলম্বে এই ৭ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
কর্মসূচিতে শোলাকুড়ী উচ্চ বিদ্যালয় ও শোলাকুড়ী ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ব্যানার-ফেস্টুন হাতে অংশ নেন। এছাড়া স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও এলাকার সচেতন নাগরিকরা উপস্থিত হয়ে সংহতি জানান। বক্তারা সরকারের উচ্চপর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কেবল গল্পের বইয়েই এই শালবনের অস্তিত্ব টিকে থাকবে।
হ্যাপি আক্তার, টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি। 


















