
মাধবপুর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়ন এর সাহাপুর গ্রামে পুরনো একটি সরকারি রাস্তা দখলকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে গ্রামবাসীসহ অন্তত ৪ জন আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি অটোরিকশা ওই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তার মাঝখানে দেওয়া একটি বেড়ার সঙ্গে লাকড়িবাহী গাড়ির অংশ লেগে যায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বেড়ার মালিক পক্ষ অটোরিকশা চালককে মারধর করে গুরুতর আহত করে বলে অভিযোগ ওঠে।
পরে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে গ্রামবাসীরা প্রতিবাদ জানাতে এগিয়ে আসেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়ে একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। আহতদের একজন জাকির হোসেন (টমটম চালক) বলেন, এটি জনগণের চলাচলের রাস্তা। নুরুল আমিন ও তার সহযোগীরা এখানে বেড়া দেওয়ায় চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। গাড়ির লাকড়ি বেড়ায় লাগার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তারা আমাকে বেধড়ক মারধর করে এবং মাথা ফাটিয়ে দেয়।
খবর পেয়ে তেলিয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ি এর ইনচার্জ জামাল মিয়ার নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।গ্রামবাসীরা জানান, এটি দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ চলাচলের রাস্তা। কিন্তু সম্প্রতি রাস্তার মাঝখানে বেড়া দেওয়ায় সাধারণ মানুষের যাতায়াতে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।
এছাড়া স্থানীয়রা জানান, বিষয়টি আগে থেকেই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে অবহিত করা হয়েছিল এবং একটি সালিশ বৈঠকের তারিখও নির্ধারণ করা হয়। তবে সেই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে রাস্তার ওপর বেড়া দিয়ে দখল অব্যাহত রাখায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
মাধবপুর উপজেলা তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আহত ব্যক্তির ভিডিও প্রকাশ করে লিখেন, প্রায় ১০০ বছরের পুরোনো একটি সরকারি রাস্তা অবৈধভাবে দখল করে রাতের আধারে স্থানীয় মানুষের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত ৪ জন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। ঘটনাটি শাহজাহানপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের শাহপুর গ্রামে ঘটেছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নুরুল আমিনের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে ওয়ার্ডের স্থানীয় মেম্বার ঘটনাটিকে ন্যক্কারজনক বলে উল্লেখ করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে বলা হয়, আমরা কোনো সংঘর্ষ চাই না। এটি একটি পুরনো সরকারি রাস্তা, যা সবার চলাচলের জন্য উন্মুক্ত থাকা উচিত। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি—দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা হোক এবং যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি 


















