সিলেট ০৫:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
News Title :
‎শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে অভিভাবকদের সাথে মত বিনিময় সভার অনুষ্ঠিত ‎সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ৩ শ্রমিক দগ্ধ নবীগঞ্জে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বসার জায়গা নিশ্চিত করলেন পৌর প্রশাসক মো. রুহুল আমিন চুনারুঘাটে ১৫ কিলোমিটার ধাওয়া শেষে জনতার হাতে আটক ডাকাতি মামলার অভিযুক্ত, উদ্ধার প্রাইভেটকার মাদক দমনে পুলিশের বিশেষ উইং চান এমপি নাসের রহমান, তদবিরকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি ডিআইজি ‎কনজিউমার রাইটস-ভোক্তা অধিকার (সিআরবি) সিলেট বিভাগীয় কার্যনির্বাহী কমিটি অনুমোদন‎‎ হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হলেন অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হক সুবিপ্রবির উপ উপাচার্য পদে নিয়োগ পেলেন অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর সরকার ‎জামালপুরের নবাব রেস্টুরেন্টে মোবাইল কোর্টের অভিযান, ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ‎অপপ্রচার ঠেকাতে শান্তিগঞ্জে প্রশাসনের উদ্যোগ, তথ্য যাচাইয়ে জোর
প্রশাসনের ‘চাপে’ মানববন্ধন পণ্ড, প্রতিবাদ মিছিল!..

বানিয়াচংয়ে স্বর্ণ ব্যবসায়ী নিহতের ঘটনায় রহস্য ঘনীভূত:

স্বর্ণব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলীর নিথর দেহ



‎হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে স্বর্ণ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী (২৬) হত্যাকাণ্ডের পাঁচ দিন অতিবাহিত হলেও রহস্য উদ্ঘাটন না হওয়ায় জনমনে ক্ষোভ ঘনীভূত হচ্ছে। পুলিশি তদন্তে স্থবিরতার অভিযোগ তুলে এলাকাবাসী সোমবার (৩০ মার্চ) বিকেলে মানববন্ধনের আয়োজন করলেও প্রশাসনের ‘চাপে’ তা পণ্ড হয়ে যায়। তবে বাধা উপেক্ষা করেই প্রতিবাদ মিছিল করেছেন বিক্ষুব্ধ জনতা।


‎গত ২৪ মার্চ (সোমবার) রাতে উপজেলার ৫নং দৌলতপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের জনৈক মাদক ব্যবসায়ী লেবু মিয়ার বাড়ির পাশ থেকে মোহাম্মদ আলীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত মোহাম্মদ আলী ওই গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলামের ছেলে। পেশায় তিনি একজন স্বর্ণ ব্যবসায়ী ছিলেন। তার ঘরে স্ত্রী ও দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

‎পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন রাত ৮টার দিকে একটি ফোন পেয়ে কাউকে কিছু না জানিয়েই ঘর থেকে বের হন আলী। এর ঘণ্টাখানেক পর বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে রাস্তার পাশে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা।

‎মাদক ব্যবসায়ী পলাতক, সন্দেহের তির যেখানে

‎মরদেহটি চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী লেবু মিয়ার বাড়ির পাশ থেকে উদ্ধার হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ঘটনার পর থেকেই লেবু মিয়া এলাকা ছেড়ে পলাতক রয়েছেন, যা এই মৃত্যুকে ঘিরে সন্দেহের দানা আরও ঘনীভূত করেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। মোবাইলে ডেকে নিয়ে তাকে হত্যা করে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে রাস্তায় ফেলে রাখা হয়েছে।


‎হত্যাকাণ্ডের ৫ দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি রহস্য উদ্ঘাটনেও মেলেনি কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি। এর প্রতিবাদে সোমবার বিকাল ৩টায় ‘দৌলতপুর ইউনিয়নবাসী’র ব্যানারে এক মানববন্ধনের ডাক দেওয়া হয়।

‎আয়োজকদের অভিযোগ, পুলিশ বিষয়টি জানতে পেরে প্রশাসনিকভাবে চাপ প্রয়োগ করায় তারা নির্ধারিত মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করতে পারেননি। তবে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী পরবর্তীতে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করেন। তারা জানান, আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে এ ঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের করা হবে।


‎এ বিষয়ে বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শরীফ আহমেদ জানান, মরদেহ উদ্ধারের সময় পুলিশ একটি মোবাইল ফোন জব্দ করেছে। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি। তিনি বলেন,ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। অভিযোগ পেলে আমরা দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেব। মানববন্ধন পণ্ড করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।


‎এদিকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে জেলা গোয়েন্দা সংস্থা। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ও কললিস্ট যাচাইয়ের কাজ শুরু করেছেন।

‎সচেতন মহলের দাবি, দুই এতিম শিশু ও অসহায় পরিবারের ন্যায়বিচারের স্বার্থে প্রশাসন যেন দ্রুত প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে অভিভাবকদের সাথে মত বিনিময় সভার অনুষ্ঠিত

প্রশাসনের ‘চাপে’ মানববন্ধন পণ্ড, প্রতিবাদ মিছিল!..

বানিয়াচংয়ে স্বর্ণ ব্যবসায়ী নিহতের ঘটনায় রহস্য ঘনীভূত:

সময় ০৮:১০:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
স্বর্ণব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলীর নিথর দেহ



‎হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে স্বর্ণ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী (২৬) হত্যাকাণ্ডের পাঁচ দিন অতিবাহিত হলেও রহস্য উদ্ঘাটন না হওয়ায় জনমনে ক্ষোভ ঘনীভূত হচ্ছে। পুলিশি তদন্তে স্থবিরতার অভিযোগ তুলে এলাকাবাসী সোমবার (৩০ মার্চ) বিকেলে মানববন্ধনের আয়োজন করলেও প্রশাসনের ‘চাপে’ তা পণ্ড হয়ে যায়। তবে বাধা উপেক্ষা করেই প্রতিবাদ মিছিল করেছেন বিক্ষুব্ধ জনতা।


‎গত ২৪ মার্চ (সোমবার) রাতে উপজেলার ৫নং দৌলতপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের জনৈক মাদক ব্যবসায়ী লেবু মিয়ার বাড়ির পাশ থেকে মোহাম্মদ আলীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত মোহাম্মদ আলী ওই গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলামের ছেলে। পেশায় তিনি একজন স্বর্ণ ব্যবসায়ী ছিলেন। তার ঘরে স্ত্রী ও দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

‎পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন রাত ৮টার দিকে একটি ফোন পেয়ে কাউকে কিছু না জানিয়েই ঘর থেকে বের হন আলী। এর ঘণ্টাখানেক পর বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে রাস্তার পাশে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা।

‎মাদক ব্যবসায়ী পলাতক, সন্দেহের তির যেখানে

‎মরদেহটি চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী লেবু মিয়ার বাড়ির পাশ থেকে উদ্ধার হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ঘটনার পর থেকেই লেবু মিয়া এলাকা ছেড়ে পলাতক রয়েছেন, যা এই মৃত্যুকে ঘিরে সন্দেহের দানা আরও ঘনীভূত করেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। মোবাইলে ডেকে নিয়ে তাকে হত্যা করে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে রাস্তায় ফেলে রাখা হয়েছে।


‎হত্যাকাণ্ডের ৫ দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি রহস্য উদ্ঘাটনেও মেলেনি কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি। এর প্রতিবাদে সোমবার বিকাল ৩টায় ‘দৌলতপুর ইউনিয়নবাসী’র ব্যানারে এক মানববন্ধনের ডাক দেওয়া হয়।

‎আয়োজকদের অভিযোগ, পুলিশ বিষয়টি জানতে পেরে প্রশাসনিকভাবে চাপ প্রয়োগ করায় তারা নির্ধারিত মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করতে পারেননি। তবে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী পরবর্তীতে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করেন। তারা জানান, আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে এ ঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের করা হবে।


‎এ বিষয়ে বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শরীফ আহমেদ জানান, মরদেহ উদ্ধারের সময় পুলিশ একটি মোবাইল ফোন জব্দ করেছে। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি। তিনি বলেন,ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। অভিযোগ পেলে আমরা দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেব। মানববন্ধন পণ্ড করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।


‎এদিকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে জেলা গোয়েন্দা সংস্থা। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ও কললিস্ট যাচাইয়ের কাজ শুরু করেছেন।

‎সচেতন মহলের দাবি, দুই এতিম শিশু ও অসহায় পরিবারের ন্যায়বিচারের স্বার্থে প্রশাসন যেন দ্রুত প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসে।