
উপজেলার তেলিয়াপাড়া চা বাগানে ম্যানেজার বাহাউদ্দিন লিটনের অপসারণ দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে বাগান এলাকা। সোমবার সকাল থেকে শ্রমিকদের একটি পক্ষ বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও কর্মবিরতি পালন করেছে। অন্যদিকে, ম্যানেজারের ওপর হামলার প্রতিবাদে পাল্টা মিছিল করেছে অপর একটি পক্ষ। দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানে বাগান এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সোমবার সকাল ১০টা থেকে তেলিয়াপাড়া চা বাগানের প্রায় পাঁচ শতাধিক শ্রমিক কাজ বন্ধ রেখে (কর্মবিরতি) বাগানের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হন। পরে সেখান থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের অভিযোগ,ম্যানেজার বাহাউদ্দিন লিটন দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও বিভিন্ন অনিয়ম করে আসছেন। সম্প্রতি সার্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি সরজিত পাশিকে গালাগাল করার ঘটনায় শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও কর্মপরিবেশ উন্নয়নে প্রশাসনের কোনো কার্যকর ভূমিকা নেই বলে তারা দাবী করেন।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি খোকন তাঁতি, সেক্রেটারি লালন পাহান এবং পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি সরজিত পাশি। বক্তারা অবিলম্বে বিতর্কিত ম্যানেজারের অপসারণ দাবি করেন।
এদিকে, ম্যানেজারের পক্ষ নিয়ে বাগানের আরেকটি অংশ বিক্ষোভ মিছিল বের করে। তাদের দাবি, একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে ম্যানেজারের গাড়ি ভাঙচুর করেছে এবং তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে। তারা এই হামলার বিচার ও সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে ম্যানেজার বাহাউদ্দিন লিটন জানান, বাগানের নিয়মিত শ্রমিকরা স্বাভাবিকভাবে কাজ করছেন। যারা আন্দোলনে নেমেছেন এবং বিশৃঙ্খলা করছেন, তারা মূলত বহিরাগত। তবে আন্দোলনকারীরা এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে নিজেদের বাগানের নিবন্ধিত শ্রমিক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার শ্রমিক প্রতিনিধিদের সাথে ম্যানেজারের বৈঠক ফলপ্রসূ না হওয়ায় উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। বর্তমানে বাগান এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সাধারণ শ্রমিক ও এলাকাবাসী।
স্বপন রবি দাশ, হবিগঞ্জ। 

















