
সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার দোয়া মাহফিলের দাওয়াত দিতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। এই ঘটনায় সাবেক বিএনপি সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল ও মেহেদী হাসান আলিমসহ ২১ জন নামীয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
১৩ নং ওয়ার্ড নির্বাচন পরিচালনা কমিটির ১ নং সহ-সভাপতি আবু নাসের আল আমিন পাপন বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক ১টার সময় টাঙ্গাইল পৌরসভার ১৩ নং ওয়ার্ডের শান্তিকুঞ্জ রোডস্থ সিএনজি শ্রমিক অফিসের সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। বাদী পাপন এবং তার সঙ্গী সাব্বির খান সাদী, বিপ্লব আরেফিন খান ও রেজভী আহম্মেদসহ অন্যান্যরা বেগম খালেদা জিয়ার দোয়া মাহফিলের দাওয়াত দিতে যাওয়ার সময় বিবাদীরা তাদের গতিরোধ করে।
অভিযোগ করা হয়েছে যে, ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে কাজ না করার জন্য চাপ সৃষ্টি করলে এবং তাতে প্রতিবাদ জানালে বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
মামলায় উল্লিখিত বিবরণ অনুযায়ী, সাব্বির খান সাদী ৩, ৮ ও ১৫ নং বিবাদী (লিও রাকিব হোসেন রানা, শিশির ও রোমান বেপারী) ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথায় কোপ দেয়। ৫ নং বিবাদী ইমনের দায়ের কোপে তার ডান হাতের তর্জনী আঙ্গুলের রগ কেটে যায়। ৪ নং বিবাদী আবিদ হাসান ইমন তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায়।
বিপ্লব আরেফিন খান, ৪ নং বিবাদী আবিদ হাসান ইমনের হকিস্টিকের আঘাতে তার ডান হাতের কনুইয়ের হাড় ভেঙে গুরুত্বর জখম হয় বলে জানান।
রেজভী আহম্মেদ কে ১২ নং বিবাদী হৃদয়ের হকিস্টিকের আঘাত এবং ১১ নং বিবাদী সাধুর লোহার রডের আঘাতে তিনি শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মকভাবে জখম হন বলে এজাহারে উল্লেখ করেন। আহতদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সাব্বির খান সাদী ও বিপ্লব আরেফিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
মামলায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে নাম রয়েছে, তারা হলেন, বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবাল ও মেহেদী হাসান আলীম
অন্যান্য অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন লিও রাকিব হোসেন রানা, আবিদ হাসান ইমন, ইমন-২, আনিস ওরফে টেরু আনিস, শুভ, শিশির, হোসেন, সোনা ওরফে সোনাই বেপারী, সাধু, হৃদয়, সালাম ওরফে গরু সালাম, আব্দুল্লাহ বেপারীসহ আরও ১৫/২০ জন অজ্ঞাত আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়।
বাদী এজাহারে উল্লেখ করেছেন, আহতদের চিকিৎসা কাজে ব্যস্ত থাকা এবং আসামিদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে আলোচনা করার কারণে মামলা দায়ের করতে বিলম্ব হয়েছে।
টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি 

















