
ভাটি বাংলার প্রাণপুরুষ, কিংবদন্তি বাউল সম্রাট এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত শাহ আবদুল করিমের ১১০তম জন্মবার্ষিকী আজ।
কালজয়ী এই মরমী সাধকের জন্মদিনে অনলাইন সিলেট নিউজ পোর্টালের পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
শাহ আবদুল করিম কেবল একজন শিল্পী ছিলেন না, তিনি ছিলেন মনে-প্রাণে এক অসাম্প্রদায়িক ও উদার সমাজব্যবস্থার স্বপ্নদ্রষ্টা। তার গানে বারবার উঠে এসেছে গ্রামবাংলার চিরায়ত সম্প্রীতির কথা। তিনি বিশ্বাস করতেন মানুষের ঐক্যে এবং গেয়েছেন সাম্যের গান।
তার সেই চিরচেনা সুর আজও আমাদের কাঁদায়,
”গ্রামের নওজোয়ান হিন্দু-মুসলমান,
মিলিয়া বাউলা গান আর ঘাটুগান গাইতাম,
আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম।”
শোষণহীন সমাজের আকুতি ছিল তার রচনার অন্যতম প্রধান দিক। তিনি যেমন স্রষ্টার কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন, তেমনি স্রষ্টার কাছেই মানুষের দুঃখ-দুর্দশার প্রতিকার চেয়ে সওয়াল করেছেন। দরিদ্র মানুষের হাহাকার তার গানে মূর্ত হয়ে উঠেছে পরম মমতায়,
”জিজ্ঞেস করি তোমার কাছে বল ওগো সাই
এ জীবনে যত দুঃখ কে দিয়েছে বল তাই,
একি তোমার বিবেচনা, কেউরে দিলায় মাখন ছানা
কারও মুখে অন্ন জোটেনা ভাঙা ঘরে ছানি নাই…”
শাহ আবদুল করিম,১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি, দিরাই, সুনামগঞ্জ ধলআশ্রম গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি মানবতাবাদ,অসাম্প্রদায়িকতা ও শ্রেণিহীন সমাজব্যবস্থা স্বপ্ন সব সময় দেখে আসছেন।
২০০১ সালে সংগীতে অবদানের জন্য পেয়েছেন রাষ্ট্রীয় ‘একুশে পদক’,
তার জনপ্রিয় সৃষ্টি: ‘বন্দে মায়া লাগাইছে’, ‘আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম’, ‘গাড়ি চলে না’, ‘বসন্ত বাতাসে’ ইত্যাদি কালজয়ী গানের রচয়িতা শাহ আবদুল করিম। এছাড়াও বহু গ্রন্থের রচয়িতা বাউল শাহ আবদুল করিম।
শাহ আবদুল করিম তার গানের মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকবেন অনন্তকাল। তার দেখানো অসাম্প্রদায়িক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের পথই হোক আজকের দিনে আমাদের অঙ্গীকার।
কালজয়ী এই মরমী কবির জন্মবার্ষিকীতে আমরা আবারও জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।
আবদুল হক মামুন। 



















