সিলেট ০৪:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
News Title :
‎জুড়ীতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু ‎গোয়াইনঘাটে ৭১ বোতল বিদেশি মদসহ বাবা-ছেলে গ্রেফতার হবিগঞ্জে ভুল প্রশ্নে দাখিল পরীক্ষা, পরে ধরা পড়ল ১০০ খাতা জব্দ, দায়িত্ব হারালেন ৩ কর্মকর্তা ‎মাধবপুরে ডিবি পুলিশের অভিযানে ১২৯ কেজি গাঁজা উদ্ধার, নারী গ্রেপ্তার ‎শেরপুর সেতুতে ৩৬ ঘণ্টা যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, ভোগান্তির আশঙ্কা ‎বিয়ানীবাজার থেকে ৩ এসএসসি-দাখিল পরীক্ষার্থী ছাত্রী উধাও টাঙ্গাইলে র‍্যাবের অভিযানে ৯৬৫ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার এতিমখানার নামে চাঁদাবাজি: বানিয়াচংয়ে জনতার হাতে ধরা ‘টিকটকার’ ভণ্ড প্রতারক! বানিয়াচংয়ে ভাতিজার হাতে চাচা খুন: মামলায় স্বচ্ছতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন ‎সিলেটে চাকরির প্রলোভনে ভারতে পাচারের চেষ্টা: দালাল চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার

বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: ২৭ বছর তালাবদ্ধ ওটি, নষ্ট হচ্ছে সরকারি সম্পদ।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বানিয়াচং





‎বিশ্বের বৃহত্তম গ্রাম হিসেবে খ্যাত বানিয়াচং উপজেলার প্রায় ৪ লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কিন্তু দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে হাসপাতালটির অপারেশন থিয়েটার (OT) বন্ধ থাকায় আধুনিক চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকাবাসী। কাগজে-কলমে অপারেশন থিয়েটার সচল থাকলেও বাস্তবে সেখানে জমেছে ধুলোর আস্তর, আর অকেজো হয়ে যাচ্ছে কোটি টাকার সরকারি যন্ত্রপাতি।


‎অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৯৯ সালে বানিয়াচং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সর্বশেষ অপারেশন সম্পন্ন হয়েছিল। তৎকালীন জেনারেল সার্জন ডা. খায়রুল আলম বদলি হয়ে যাওয়ার পর থেকেই বন্ধ রয়েছে এই বিভাগটি। এরপর বিভিন্ন সময় কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো তৈরি করা হলেও সমন্বয়হীনতার অভাবে তা আলোর মুখ দেখেনি। কখনও সার্জন থাকলে অ্যানেস্থেশিয়া ডাক্তার থাকেন না, আবার অ্যানেস্থেশিয়া ডাক্তার থাকলেও পাওয়া যায় না অভিজ্ঞ নার্স বা সার্জন।


‎১৮ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে জেলা সদর হাসপাতালে যাওয়াই এখন বানিয়াচংবাসীর নিয়তি। সামান্য কাটা-ছেঁড়া বা জরুরি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হলেই রোগীদের হবিগঞ্জ সদর বা সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে দেয়া হয়। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন দরিদ্র ও মেহনতি মানুষ।

‎এক ভুক্তভোগী প্রবাসী জানান, জরুরি প্রয়োজনে স্ত্রীকে গাইনি ডাক্তার দেখাতে এসে তিনি কেবল উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসারের দেখা পেয়েছেন। সেখান থেকে তাকে সরাসরি হবিগঞ্জে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এমনকি হাসপাতালের পিয়ন দিয়ে সেলাই করানোর মতো অভিযোগও তুলেছেন ক্ষুব্ধ সেবাগ্রহীতারা।



‎জনবল সংকটের কথা স্বীকার করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শামীমা আক্তার বলেন, “প্রয়োজনীয় লোকবল না থাকার কারণে জরুরি কোনো অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে ছোটখাটো সমস্যাগুলো আমরা সমাধান করার চেষ্টা করি।” উল্লেখ্য, তিনি গত ৬-৭ বছর ধরে এই হাসপাতালেই কর্মরত আছেন।


‎বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন নির্বাচনের আগে হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। বানিয়াচংবাসীর জোরালো দাবি— একজন চিকিৎসক হিসেবে তিনি যেন অতি দ্রুত এই মৃতপ্রায় অপারেশন থিয়েটারটি সচল করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‎জুড়ীতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু

বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: ২৭ বছর তালাবদ্ধ ওটি, নষ্ট হচ্ছে সরকারি সম্পদ।

সময় ১২:২৭:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বানিয়াচং





‎বিশ্বের বৃহত্তম গ্রাম হিসেবে খ্যাত বানিয়াচং উপজেলার প্রায় ৪ লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কিন্তু দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে হাসপাতালটির অপারেশন থিয়েটার (OT) বন্ধ থাকায় আধুনিক চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকাবাসী। কাগজে-কলমে অপারেশন থিয়েটার সচল থাকলেও বাস্তবে সেখানে জমেছে ধুলোর আস্তর, আর অকেজো হয়ে যাচ্ছে কোটি টাকার সরকারি যন্ত্রপাতি।


‎অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৯৯ সালে বানিয়াচং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সর্বশেষ অপারেশন সম্পন্ন হয়েছিল। তৎকালীন জেনারেল সার্জন ডা. খায়রুল আলম বদলি হয়ে যাওয়ার পর থেকেই বন্ধ রয়েছে এই বিভাগটি। এরপর বিভিন্ন সময় কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো তৈরি করা হলেও সমন্বয়হীনতার অভাবে তা আলোর মুখ দেখেনি। কখনও সার্জন থাকলে অ্যানেস্থেশিয়া ডাক্তার থাকেন না, আবার অ্যানেস্থেশিয়া ডাক্তার থাকলেও পাওয়া যায় না অভিজ্ঞ নার্স বা সার্জন।


‎১৮ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে জেলা সদর হাসপাতালে যাওয়াই এখন বানিয়াচংবাসীর নিয়তি। সামান্য কাটা-ছেঁড়া বা জরুরি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হলেই রোগীদের হবিগঞ্জ সদর বা সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে দেয়া হয়। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন দরিদ্র ও মেহনতি মানুষ।

‎এক ভুক্তভোগী প্রবাসী জানান, জরুরি প্রয়োজনে স্ত্রীকে গাইনি ডাক্তার দেখাতে এসে তিনি কেবল উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসারের দেখা পেয়েছেন। সেখান থেকে তাকে সরাসরি হবিগঞ্জে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এমনকি হাসপাতালের পিয়ন দিয়ে সেলাই করানোর মতো অভিযোগও তুলেছেন ক্ষুব্ধ সেবাগ্রহীতারা।



‎জনবল সংকটের কথা স্বীকার করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শামীমা আক্তার বলেন, “প্রয়োজনীয় লোকবল না থাকার কারণে জরুরি কোনো অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে ছোটখাটো সমস্যাগুলো আমরা সমাধান করার চেষ্টা করি।” উল্লেখ্য, তিনি গত ৬-৭ বছর ধরে এই হাসপাতালেই কর্মরত আছেন।


‎বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন নির্বাচনের আগে হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। বানিয়াচংবাসীর জোরালো দাবি— একজন চিকিৎসক হিসেবে তিনি যেন অতি দ্রুত এই মৃতপ্রায় অপারেশন থিয়েটারটি সচল করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।