
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে মৌলভীবাজার জেলায় মোট ২২৩টি ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। এর মধ্যে ৮০টি কেন্দ্রকে অতিঝুঁকিপূর্ণ এবং ১৪৩টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করা হয়েছে। জেলার চারটি সংসদীয় আসনে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৫৫৪টি।
সম্ভাব্য সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এসব কেন্দ্রকে ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অতীত নির্বাচনের সহিংসতার ইতিহাস, রাজনৈতিক উত্তেজনা, প্রার্থীদের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা, প্রভাবশালী মহলের সক্রিয়তা এবং ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে কেন্দ্রগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, ভোটের দিন পুরো জেলায় ১ হাজার ৬৪১ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ১৫ জন আনসার সদস্যের পাশাপাশি ২ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবেন। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত দুজন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবেন।
কমলগঞ্জ উপজেলার সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে মৌলভীবাজার-৪ আসনের কমলগঞ্জ উপজেলার ৭৬টি ভোটকেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে কন্ট্রোল রুম থেকে কেন্দ্রের ভেতর ও বাইরের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে। কোনো অনিয়ম বা গোলযোগের চেষ্টা হলে ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কয়েক স্তরে দায়িত্ব পালন করবে।
প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ ও আনসার সদস্যদের স্থায়ী উপস্থিতির পাশাপাশি থাকবে পুলিশের মোবাইল টিমের নিয়মিত টহল। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকবে স্ট্রাইকিং ফোর্স। র্যাবের একাধিক টিম বিশেষ নজরদারি চালাবে এবং সীমান্ত এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে মোতায়েন রয়েছে বিজিবি। প্রতিটি ইউনিয়নে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য দায়িত্ব পালন করবেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো. আসাদুজ্জামান বলেন,
ভোটারদের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। সিসি ক্যামেরা স্থাপনের ফলে নজরদারি আরও কার্যকর হবে। কয়েক স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভোটারদের আস্থা ফিরবে বলে আমরা আশাবাদী।
মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার কার্যালয় সূত্রে জানাযায়, জেলার সাতটি উপজেলায় ৩৩১টি ভোটকেন্দ্র স্বাভাবিক হিসেবে বিবেচিত। ঝুঁকিপূর্ণ ও অতিঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বডি-ওর্ন ক্যামেরা, অতিরিক্ত পুলিশ, আনসার, বিজিবি ও র্যাব সদস্য মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি জোরদার করা হবে ভ্রাম্যমাণ টহল এবং প্রয়োজনে ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ও অতিঝুঁকিপূর্ণ ভোট কেন্দ্র গুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে। কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, নির্বাচনকালীন নিরাপত্তায় সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ও আনসারসহ প্রায় ১১ হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
মৌলভীবাজারের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি নজরদারি, নিরাপত্তা বেষ্টনী ও প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব প্রার্থী, রাজনৈতিক দল ও সাধারণ ভোটারদের আইন মেনে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আবদুস সামাদ আজাদ, মৌলভীবাজার থেকে 

















